মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদ আপিলের অনুমতি পাবেন কি না, সে বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ৭ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সোমবার বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মো. হাবিবুল গনির সমন্বয়ে গঠিত আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ রয়েছে। তবে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার সময় আবুল কালাম আযাদ বিদেশে পলাতক থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি আপিল করতে পারেননি।
ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর পর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায় দেওয়া হয় আবুল কালাম আযাদের মামলায়। ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি দেওয়া ওই রায়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, আটক, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটসহ মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়ের পর আবুল কালাম আযাদ বিদেশে অবস্থান করায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি আপিল করার সুযোগও নেননি।
দেশে ফেরার পর দণ্ড স্থগিত
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে ফেরেন আবুল কালাম আযাদ। এরপর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত চেয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন তিনি। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর তার দণ্ডাদেশ স্থগিত করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। তবে একই সঙ্গে শর্ত দেওয়া হয়, তাকে আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিল করতে হবে। সরকারের ওই শর্ত অনুযায়ী চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন আবুল কালাম আযাদ। এরপর ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে **লিভ টু আপিল**, অর্থাৎ আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তিনি।
এখন আপিল বিভাগ ৭ সেপ্টেম্বর তার আবেদন নিয়ে আদেশ দেবেন। আদালত তাকে আপিলের অনুমতি দিলে দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ওই মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে। আর অনুমতি না মিললে ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল থাকার পথই কার্যত শক্তিশালী হবে।