দেশের পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়ন, ডিজিটাল উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা তৈরি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’ পেয়েছেন ১৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পর্যটন পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতারের সভাপতিত্বে ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামানসহ পর্যটন খাতের বিভিন্ন অংশীজন বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে দেওয়া ভিডিও বার্তায় ইউএন ট্যুরিজমের মহাসচিব শাইখা আল নুওইস বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বিকাশে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দেশের পর্যটনের প্রসারে সরকার সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে উন্মুক্তভাবে সহযোগিতা করতে চায়। টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতাপূর্ণ পর্যটন খাত গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
চলতি বছরের মধ্যেই দেশের পর্যটন মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, পর্যটনকে আরও এগিয়ে নিতে সমন্বিত পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্টদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, আগামী নভেম্বরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে এ পুরস্কারের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরে সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের সমন্বয়ে গঠিত জুরি বোর্ড মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করে ১৬টি ক্যাটাগরিতে বিজয়ী নির্বাচন করে।
পুরস্কার পাওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বর্ষসেরা টেকসই পর্যটন উদ্যোগে শাখাওয়াত’স সিক্স কন্ট্রোল পয়েন্টস ফর ফুড কস্ট অপ্টিমাইজেশন, বর্ষসেরা পাঁচ তারকা হোটেলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা, বর্ষসেরা চার তারকা হোটেলে হোটেল আগ্রাবাদ এবং বর্ষসেরা তিন তারকা হোটেলে হানসা-এ প্রিমিয়াম রেসিডেন্স বাই ইউএইচটিপিএলসি।
বর্ষসেরা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটর নির্বাচিত হয়েছে দ্য বেঙ্গল ট্যুরস লিমিটেড এবং বর্ষসেরা ডোমেস্টিক ট্যুর অপারেটর হয়েছে শেয়ারট্রিপ লিমিটেড। বর্ষসেরা বিনোদন পার্কের পুরস্কার পেয়েছে ফ্যান্টাসি কিংডম কমপ্লেক্স।
বর্ষসেরা তরুণ পর্যটন উদ্যোক্তা হিসেবে বাংলাদেশ ইকো অ্যাডভেঞ্চার, বর্ষসেরা হোমস্টে হিসেবে চারুবালা হোমস্টে অ্যান্ড ট্যুরস এবং বর্ষসেরা ট্যুরিজম কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে আবু মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন (সুমন) পুরস্কার পেয়েছেন।
বর্ষসেরা পর্যটন প্রযুক্তিবিষয়ক উদ্যোগের পুরস্কার পেয়েছে বিডি টিকিটস। বর্ষসেরা পর্যটন নারী উদ্যোক্তা হয়েছেন নুরানী শারমিন আফরোজ। বর্ষসেরা ট্যুরিস্ট ভেসেল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে এম ভি মালঙ্গি এবং বর্ষসেরা ট্যুর গাইড হয়েছেন মো. সারোয়ার জাহান (মিঠু)।
এ ছাড়া বর্ষসেরা মাইস (MICE) উদ্যোগ হিসেবে সেভেন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং বর্ষসেরা পর্যটন সাংবাদিকতা বিভাগে নাঈম আবির পুরস্কার পেয়েছেন।
পুরস্কার প্রদান শেষে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।