মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ইউসুফ; থানায় লিখিত অভিযোগ, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুলিশের
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত ও অশালীন প্রস্তাব দেওয়ার প্রতিবাদ করায় ইউসুফ আলী খান (৬০) নামের এক সাবেক সেনাসদস্যকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে সেলিম হোসেন ওরফে ‘দর্জি সেলিম’ (৫৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার বিকেলে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের রাজাপুর ক্যালিকো কটন মিলের সামনে ডা. ইয়াজ উদ্দিন খাঁ সুপার মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ইউসুফ আলী খান রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকায় একটি মুদিখানার দোকান চালান। ঘটনার পর তাঁকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সেলিম হোসেনের বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। পুলিশ বলছে, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউসুফ আলী খানের লিখিত অভিযোগের বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর দোকানের পেছনের একটি বসতবাড়িতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রী মেস হিসেবে থাকতেন। তাঁর পাশের দোকানে দর্জির কাজ করেন সেলিম হোসেন। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীদের যাতায়াতের সময় সেলিম বিভিন্ন ধরনের অশালীন কথা ও কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। এ কারণে মেসে থাকা কয়েকজন ছাত্রী অন্যত্র চলে গেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি জানতে পেরে ইউসুফ আলী খান সেলিমকে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকতে বলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর থেকেই সেলিম তাঁকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে দাবি করেছেন ইউসুফ।
মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে ইউসুফের দোকানের সামনে গিয়ে সেলিম গালিগালাজ শুরু করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে একপর্যায়ে সেলিম হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেন ইউসুফ। এতে তাঁর মাথার বাঁ পাশে ফেটে যায়। পরে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাঁকে রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউসুফের অভিযোগ, তাঁর মাথা, হাত, পিঠ, বুক ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে সেলিম তাঁকে আরও ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা ইউসুফকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ওই এলাকায় মেসে থাকা পাবিপ্রবির দুই ছাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সেলিমের উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে আসছেন। তাঁদের দাবি, মেস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার সময় সেলিম তাঁদের ডাক দিয়ে অশালীন ভাষায় কথা বলতেন এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি করতেন। এ কারণে তাঁরা আতঙ্ক ও অস্বস্তির মধ্যে চলাফেরা করতেন। তাঁদের কয়েকজন বান্ধবী এ কারণে মেস ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলেও তাঁরা দাবি করেন।
তবে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ এবং ইউসুফ আলী খানকে মারধরের অভিযোগ—দুটিরই চূড়ান্ত সত্যতা এখনো তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়নি। অভিযুক্ত সেলিম হোসেনের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনা জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখনো অভিযুক্ত সেলিম হোসেনের গ্রেপ্তার বা তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ডের তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের তদন্তে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ, মারধরের ঘটনা এবং এর পেছনের কারণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই হওয়ার কথা রয়েছে।