গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে চার মিনিটের ব্যবধানে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় করা মামলায় আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সুলতান আহম্মেদ (৬৫) এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ নেতা মো. লিটন মন্ডল (৩৯)। সুলতান আহম্মেদ মৃত আনসার আলীর ছেলে। লিটন মন্ডল মো. আব্দুল কুদ্দুস মন্ডলের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালচরণ এলাকায় চার মিনিটের মধ্যে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রথম বিস্ফোরণ হয় ভোর ৪টা ২৬ মিনিটে। এরপর ৪টা ২৮ মিনিটে এবং ৪টা ৩০ মিনিটে আরও দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে ককটেলের আলামত উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় সুলতান আহম্মেদ ও লিটন মন্ডলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
২০ সেপ্টেম্বরের বিস্ফোরণের পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, বিস্ফোরণগুলো গোপালচরণ এলাকার কাছাকাছি পৃথক স্থানে ঘটে। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল থেকে ককটেলের খোসা বা আলামত সংগ্রহ করা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর থেকে কারা এসব বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, তা তদন্ত করছে পুলিশ। স্থানীয় কয়েকজন বিস্ফোরণের সময় রাজনৈতিক স্লোগান শোনার দাবি করলেও এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনকে দায়ী করার তথ্য জানানো হয়নি।
সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, মামলায় আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, একই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। তাঁদের পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।