- সমঝোতা না হলে ইরানকে ধ্বংসের হুমকি; কিউবার ‘পতন হবে’ বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
- সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বিরোধ, ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু করল হোয়াইট হাউস
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানকে সম্পূর্ণ অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কিউবার বর্তমান শাসনব্যবস্থারও পতন হবে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তাঁর এ বক্তব্যের সময় কিউবার প্রতিনিধি দল অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে দেওয়া প্রায় ৪০ মিনিটের ভাষণে ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তাঁর সামনে এখন দুটি পথ—ইরানের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি করা, যাতে দেশটি পুনর্গঠনের সুযোগ পায়, অথবা ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করা। তিনি ইরানকে এমন অবস্থায় ঠেলে দেওয়ার কথাও বলেন, যেখান থেকে দেশটির আর ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না।
তবে একই বক্তব্যে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনার কথাও বলেন। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে। চুক্তি না করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে—এমন মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতারা যে বিষয়টি বুঝতে পারছেন না তা হলো, তিনি নিজে ওই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, দেশটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ, পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসা এবং সন্ত্রাসে সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত এ চাপ অব্যাহত রাখা উচিত। ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কিউবার ‘পতন হবে’
ভাষণে কিউবার পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, কিউবা একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র এবং দেশটি বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি চাপের মধ্যে রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, কিউবার কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থার পতন ঘটবে এবং দেশটিতে স্বাধীনতা আসবে। তাঁর এ বক্তব্যের সময় কিউবার প্রতিনিধি দল অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষণে ইরান ও কিউবার পাশাপাশি ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেন, গাজা, ন্যাটো, গ্রিনল্যান্ড এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও বক্তব্য উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় তাঁর প্রশাসনের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বিরোধ, ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রশাসন ও দেশটির কয়েকটি বড় সংবাদমাধ্যমের বিরোধের মধ্যেই হোয়াইট হাউস চালু করেছে ২৪ ঘণ্টার অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’। হোয়াইট হাউসের ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এটি চালু করা হয়। প্ল্যাটফর্মটিতে ট্রাম্পের বিভিন্ন ভাষণ, জনসম্মুখে দেওয়া বক্তব্য, প্রশাসনের ঘোষণা এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। উদ্বোধনী সম্প্রচারে ট্রাম্পের আগের বিভিন্ন বক্তব্যের পাশাপাশি ২০২৫ সালে তাঁর শপথ নেওয়ার দৃশ্যও দেখানো হয়। ‘ট্রাম্প টিভি’ চালুর সময় হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, ঘোষণা ও কর্মকাণ্ড এক জায়গা থেকে ২৪ ঘণ্টা দেখার সুযোগ দিতে এই স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে।
এর আগে প্রেসিডেন্টের প্রশাসন সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউয়ের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়। ওই তিন সংবাদমাধ্যম পরে ফেডারেল আদালতে মামলা করে। তাদের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের কারণে হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার সীমিত করা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে থাকা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ট্রাম্প অবশ্য নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, যেসব সংবাদমাধ্যম তাঁর প্রশাসন সম্পর্কে ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশ করে, তাদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সংবাদমাধ্যমকে সংবাদ প্রকাশের অধিকার দিলেও নির্দিষ্ট কোনো সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসের প্রাঙ্গণ, ব্রিফিং কক্ষ বা প্রেসিডেন্টের সংবাদমাধ্যম পুলে প্রবেশের নিশ্চয়তা দেয় না।
তবে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে করা মামলায় সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকো বলেছে, কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বা সম্পাদকীয় অবস্থানের কারণে সরকার তাদের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বাতিল করতে পারে না। মামলাটি এখন আদালতে বিচারাধীন।
এই বিরোধের প্রভাব পড়েছে হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন পুলেও। প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ধারণ করে অংশগ্রহণকারী টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে ভিডিও সরবরাহের প্রচলিত ব্যবস্থায় সিএনএনের অংশগ্রহণ বন্ধ হওয়ার পর অন্য কয়েকটি বড় নেটওয়ার্কও যৌথভাবে টেলিভিশন পুল কভারেজ স্থগিত করে। ফলে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ভিডিও সরবরাহে হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে রয়েছেন ট্রাম্প। অধিবেশনের মূল পর্বে ভাষণের পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।