গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আগামীর সময়-এর উপজেলা প্রতিনিধি শেখ মামুনুর রশিদকে মারধর এবং তাঁর কাছে থাকা টাকা ও স্বর্ণের আংটি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দিয়েছেন তিনি। সুন্দরগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমথ শিববাড়ী শহীদ মিনারসংলগ্ন চন্দনের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে মামুনুর রশিদ উল্লেখ করেন, ধান ব্যবসার সূত্রে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমথ এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে রাকিব মিয়ার (৩০) সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি রাকিবের ভাই তুহিন মিয়ার স্ত্রী মোছা. নাইমা জান্নাত নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে দোষারোপ ও অপপ্রচার চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন মামুনুর রশিদ। পরে ওই নারী রংপুরে তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাওয়া যান।
মামুনুর রশিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। পরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সম্মানহানির মামলা করার কথা জানিয়ে তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। এ নিয়ে অভিযুক্তরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, শনিবার মাগরিবের নামাজের পর মামুনুর রশিদ চন্দনের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় রাকিব মিয়া, সরফরাজ মিয়া (৩৮), মনির মিয়া (৩০) ও তুহিন মিয়া (৩৮)সহ আরও দুই থেকে তিনজন সেখানে যান। মামুনুর রশিদের অভিযোগ, তাঁরা তাঁকে দোকান থেকে বাইরে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, এতে তাঁর মাথা, ঘাড়, গলা, বুক ও মেরুদণ্ডসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। তাঁর দাবি, এ সময় রাকিব তাঁর পকেট থেকে ধান ব্যবসার ৪০ হাজার টাকা নিয়ে নেন। সরফরাজ তাঁর ডান হাতের আঙুলে থাকা প্রায় ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের আংটি খুলে নেন।
মামুনুর রশিদের অভিযোগ, পরে সরফরাজ তাঁকে শহীদ মিনারের পাকা দেয়ালে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং রাকিব তাঁর গলা চেপে ধরেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে সরিয়ে নেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে আবারও মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সবুজ মিয়া বলেন, তিনি পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে রাকিব, সরফরাজ, মনির, তুহিনসহ কয়েকজনকে মামুনুর রশিদকে মারধর করতে দেখেন। তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকেও ধাক্কা দেওয়া হয় বলে দাবি করেন।
চায়ের দোকানের মালিক চন্দন বলেন, মামুন তাঁর দোকানে বসেছিলেন। পরে কয়েকজন তাঁকে দোকানের বাইরে নিয়ে যান। তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকেও হুমকি দেওয়া হয়। এরপর বাইরে মামুনকে মারধর করা হয় বলে জানান তিনি।
পরে স্থানীয় লোকজন মামুনুর রশিদকে উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় মামুনুর রশিদ চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় এজাহার দেন। আসামিরা হলেন রাকিব মিয়া, সরফরাজ মিয়া, মনির মিয়া ও তুহিন মিয়া। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের কথা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে রাকিব মিয়া, সরফরাজ মিয়া, মনির মিয়া ও তুহিন মিয়ার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে তাঁদের ব্যবহৃত নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর প্রতিবাদ এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলার পর তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন। এ সময় তাঁর টাকা ও স্বর্ণের আংটি নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, সাংবাদিক মামুনুর রশিদের দেওয়া এজাহারে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মারধর, টাকা ও স্বর্ণের আংটি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।