চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম ও আশপাশের অঞ্চল থেকে প্রতিবছর দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে যাওয়া রোগীদের জন্য আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে ‘মেডিকেল ভ্যালু ট্রাভেল সামিট ২০২৬’। আগামী ১৪ নভেম্বর নগরের দ্য পেনিনসুলা হোটেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল ট্রাভেল ফোরামের উদ্যোগে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকদের দাবি, এ সম্মেলনের মাধ্যমে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা খাতের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের হাসপাতাল, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসা পর্যটনের সম্ভাবনাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনার সুযোগ তৈরি হবে। রোগীদের বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রাপ্তি, হাসপাতাল ও চিকিৎসক সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের পথ সহজ করাও সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
রোববার (৪ অক্টোবর) নগরের জিইসি মোড়ের দ্য প্যাভিলিয়ন রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সামিটের কর্মপরিকল্পনা ও আয়োজনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন চট্টগ্রাম মেডিকেল ট্রাভেল ফোরামের নেতারা। এতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল আলিম রাজু, সহসভাপতি নুরুল আনোয়ার জীবন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সহসভাপতি দাউদ আরমান এবং সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মানিক।
আয়োজকেরা জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে যান। বিশেষ করে জটিল ও বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে অনেক রোগী বিদেশমুখী হন। এ ক্ষেত্রে রোগী ও স্বজনদের বিদেশি হাসপাতাল নির্বাচন, চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ, চিকিৎসা পদ্ধতি, সম্ভাব্য সুযোগ-সুবিধা এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের সেবার ধরন সম্পর্কে সরাসরি তথ্য পাওয়ার সুযোগ সীমিত থাকে। সম্মেলনের মাধ্যমে এ ব্যবধান কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল ট্রাভেল ফোরামের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল আলিম রাজু বলেন, সামিটে চীন, মালয়েশিয়া, ভারত ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন হাসপাতালের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। রোগীরা এসব প্রতিনিধির সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন। এতে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে রোগী ও স্বজনদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে।
সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের হাসপাতালের প্রতিনিধি ছাড়াও স্বাস্থ্যসেবা খাতের উদ্যোক্তা, চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। আয়োজকেরা জানান, শুধু রোগী ও হাসপাতালের মধ্যে যোগাযোগ নয়, স্বাস্থ্যসেবা খাতের পেশাজীবীদের মধ্যেও জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করাই সামিটের অন্যতম লক্ষ্য।
এ জন্য সম্মেলনে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বৈঠক এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্যসেবা খাতের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ অধিবেশনও থাকবে। এসব আলোচনায় স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
চিকিৎসা পর্যটনকে শুধু বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন না আয়োজকেরা। তাদের মতে, এর সঙ্গে হাসপাতাল, চিকিৎসক, রোগীসেবা, যোগাযোগ, আবাসন এবং অন্যান্য সহায়ক সেবার সমন্বিত বিকাশের বিষয়ও জড়িত। ফলে এ খাতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ানো গেলে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের একটি কার্যকর ক্ষেত্র তৈরি হবে। এতে স্থানীয় চিকিৎসকদের সঙ্গে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ বাড়তে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের হাসপাতালের চিকিৎসা পদ্ধতি, বিশেষায়িত সেবা এবং রোগী ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায়ে জানার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে চিকিৎসা পর্যটনের বিকাশে শুধু বিদেশি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। রোগীদের তথ্যের স্বচ্ছতা, চিকিৎসা ব্যয়ের স্পষ্ট ধারণা, হাসপাতাল ও চিকিৎসকের গ্রহণযোগ্যতা, চিকিৎসার মান এবং রোগীর অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী রোগীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রান্তি কমানো সম্ভব হতে পারে।
আয়োজকেরা বলছেন, সামিটের মাধ্যমে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা খাতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে রোগীদের তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করাও এর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।
চট্টগ্রামে চিকিৎসা পর্যটন নিয়ে এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজনকে তাই শুধু একটি সম্মেলন হিসেবে দেখছেন না আয়োজকেরা। তাদের লক্ষ্য, রোগী, চিকিৎসক, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। ১৪ নভেম্বরের সামিট সেই উদ্যোগের প্রাথমিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।