ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ব্যাপক হারে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা। তাদের আশঙ্কা, বর্তমান হারে অভিযান অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে চীন বা উত্তর কোরিয়ার মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সংঘাতে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা চাপের মুখে পড়তে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দূরপাল্লার নির্ভুল হামলা এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে হাজার হাজার অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এর ফলে দেশটির কৌশলগত অস্ত্রের মজুত দ্রুত হ্রাস পেয়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরের অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মার্ক ক্যানসিয়ান বলেন, বর্তমান মাত্রায় যুদ্ধ চলতে থাকলে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে। তার মতে, এতে বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নতুন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন-এর বৈদেশিক নীতি গবেষণা বিভাগের প্রধান মাইকেল ও'হানলন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত প্রত্যাশার তুলনায় অনেক নিচে নেমে গেছে। এ বিষয়ে তার কোনো সন্দেহ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সিএসআইএসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত এপ্রিলে ইরানের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার সংঘাতের প্রথম ধাপ শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের থাড (THAAD) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্তত অর্ধেক ইন্টারসেপ্টর, প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় অর্ধেক এবং টমাহক ল্যান্ড-অ্যাটাক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। প্রতিরক্ষা দপ্তরের অস্ত্র মজুত সংক্রান্ত তথ্য সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
যদিও গত কয়েক মাসে সংঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমে আসায় অস্ত্র ব্যবহারের হারও কমেছে, তবুও নতুন অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহের গতি নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। মার্ক ক্যানসিয়ানের ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পুনরায় মজুতের গতি অত্যন্ত ধীর।
চলতি অর্থবছরের সরবরাহ পরিকল্পনা অনুযায়ী, পেন্টাগন প্রতি মাসে গড়ে মাত্র ১৫টি নতুন টমাহক এবং প্রায় ২০টি নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে। এছাড়া ২০২৬ সালের আগে নতুন কোনো থাড ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের সম্ভাবনাও নেই।
সিএসআইএসের হিসাব অনুযায়ী, ইরান সংঘাত শুরুর আগের অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার ফিরিয়ে আনতে অন্তত তিন বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ভবিষ্যৎ সামরিক কৌশল, অস্ত্র উৎপাদন এবং প্রতিরক্ষা বাজেট পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।
এদিকে গত শুক্রবার (১০ জুলাই) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির অধ্যায় এখন অতীত। তার এই মন্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা এবং মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর চাপ বৃদ্ধির শঙ্কা নতুন করে সামনে এসেছে।