যুক্তরাজ্যের একটি বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রের সঙ্গে যৌনসম্পর্কের অভিযোগের বিচার চলার মধ্যেই আরেক ছাত্রের সঙ্গে যৌনসম্পর্কে জড়িয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার তথ্য আদালতে উঠে এসেছে। দ্বিতীয় ছাত্রের সঙ্গে ওই শিক্ষিকার সম্পর্ক শুরু হয়েছিল ছাত্রটির বয়স ১৬ বছর হওয়ার পর। এ সময় প্রথম ছাত্রের সঙ্গে যৌনসম্পর্কের মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন বলে আদালতকে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ মে) যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ক্রাউন কোর্টে মামলাটির শুনানিতে এসব তথ্য উঠে আসে। ৩০ বছর বয়সী ওই শিক্ষিকা রেবেকার বিরুদ্ধে শিশুর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছয়টি অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, কোনো ধরনের যৌনসম্পর্কের ঘটনা ঘটেনি।
আদালতে সরকারি কৌঁসুলি জো অলম্যান জানান, রেবেকার বিরুদ্ধে প্রথম ছাত্রের সঙ্গে যৌনসম্পর্কের অভিযোগের তদন্ত শুরু হলে তাকে বিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত করা হয়। পরে মামলাটি আদালতে গড়ায় এবং তিনি জামিনে মুক্ত ছিলেন।
শুনানিতে প্রথম ছাত্রকে আদালতে হাজির করা হয়। রেবেকার আইনজীবী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় দ্বিতীয় এক ছাত্রের সঙ্গে শিক্ষিকার সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে। আদালতকে জানানো হয়, দ্বিতীয় ছাত্রের সঙ্গে রেবেকার দীর্ঘদিনের যৌন সম্পর্ক ছিল এবং সেই সম্পর্কের ফলে তিনি গর্ভবতী হয়েছেন।
সরকারি কৌঁসুলি বলেন, দ্বিতীয় ছাত্রও আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছে। ওই ছাত্র জানায়, রেবেকা তার শিক্ষিকা ছিলেন। শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত হওয়ার পরও সে নিয়মিত রেবেকার বাসায় যেত।
ওই ছাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বয়স ১৬ বছর হওয়ার পর রেবেকার সঙ্গে তার যৌনসম্পর্ক শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে রেবেকা গর্ভবতী হন। আদালতে বলা হয়, এই সম্পর্কের সময় রেবেকা প্রথম ছাত্রের সঙ্গে যৌনসম্পর্কের অভিযোগে বিচারাধীন ছিলেন এবং জামিনে ছিলেন।
মামলার শুনানিতে বিষয়টি সামনে আসার পর আদালতে রেবেকার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের পাশাপাশি তার পরবর্তী কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা হয়। তবে দ্বিতীয় ছাত্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন কোন নির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে বা গর্ভধারণের সময়কাল কী ছিল, সে বিষয়ে আদালতের বিস্তারিত তথ্য শুনানিতে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
প্রথম ছাত্রের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগও রেবেকা অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, তার বিরুদ্ধে যে ধরনের যৌনসম্পর্কের অভিযোগ আনা হয়েছে, বাস্তবে তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
মামলাটির তদন্তের সময় রেবেকাকে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তার বিরুদ্ধে শিশুর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছয়টি অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগের বিচার ম্যানচেস্টার ক্রাউন কোর্টে চলছে।
ব্রিটিশ আইনে শিক্ষকের মতো দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর যৌনসম্পর্কের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের মামলায় আদালত অভিযুক্তের সঙ্গে শিক্ষার্থীর বয়স, তাদের সম্পর্কের ধরন, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।
তবে আদালতে অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া মানেই অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী—এমন নয়। রেবেকা এখনো অভিযোগ অস্বীকার করছেন এবং মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।