ক্যাম্প ডেভিডের সফর সংক্ষিপ্ত করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট; রিয়াদে হুথি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে নির্ধারিত সময়ের আগেই ক্যাম্প ডেভিডের ছুটি সংক্ষিপ্ত করে হোয়াইট হাউসে ফিরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কেন তিনি সফর সংক্ষিপ্ত করলেন, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ জানায়নি।
ট্রাম্পের আকস্মিক এই প্রত্যাবর্তনের সময়েই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা চালানো হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রটি বাধা দেয়। একই সময়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আগুন ও কালো ধোঁয়া দেখা যায়। হুথিরা পরে রিয়াদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার দাবি করে।
এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। মার্কিন দূতাবাস ও মিশনগুলোও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যকার সংঘাত দ্রুত আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং এতে ভ্রমণ ও চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় ট্রাম্পের ক্যাম্প ডেভিড থেকে দ্রুত ওয়াশিংটনে ফেরাকে ঘিরে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর দপ্তর সফর সংক্ষিপ্ত করার কারণ প্রকাশ না করায় এটিকে সরাসরি কোনো সামরিক সিদ্ধান্ত বা সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত করার মতো আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো নেই।
তবে কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিদের সঙ্গে সংঘাতের বিস্তার এবং সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। কিছু প্রতিবেদনে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
এরই মধ্যে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরুর জন্য নিজেদের শর্ত জানিয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে তেহরানের শর্ত পাঠানো হয়েছে এবং তারা ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় আছে।
রেজাইয়ের দেওয়া তিনটি প্রধান শর্ত হলো—সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ও সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। একই সঙ্গে তিনি জানান, আলোচনায় ফেরার জন্য ইরান মোট সাতটি শর্ত জানিয়েছে।
ইরানের এই অবস্থানের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও পড়ছে।
অন্যদিকে সৌদি আরব ও হুথিদের সংঘাতও নতুন মাত্রা পেয়েছে। হুথিরা রিয়াদে হামলার পাশাপাশি ইয়ানবু ও অন্যান্য এলাকায় হামলার দাবি করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ কিছু হামলা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে; হুথিদের অন্য দাবিগুলোর সবকটির স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
ফলে ট্রাম্পের হঠাৎ ওয়াশিংটনে ফেরার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো অজানা থাকলেও তাঁর ফেরার সময়টি মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে মিলে গেছে। সামনে যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয় কি না, ইরানের দেওয়া শর্ত নিয়ে আলোচনা এগোয় কি না এবং সৌদি-হুথি সংঘাত আরও বিস্তৃত হয় কি না—এসব বিষয়ই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজরে রয়েছে।