গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে শিয়ালের কামড়ে আহত নয়জনের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহতদের হাতে এ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান, বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রকৌশলী নাসির উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টরা।
আর্থিক সহায়তা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের তালুক বেলকা গ্রামের মো. জমশের আলীর স্ত্রী মোছা. নিলি বেগম (৪০), মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. সাদেক হোসেন (৭০), মো. আব্দুল হান্নান মিয়ার স্ত্রী মোছা. আফরুজা বেগম (৩৭), মো. শফিউল ইসলামের ছেলে মো. শাওন মিয়া (৬), জিগাবাড়ী গ্রামের মো. মুকুল মিয়ার স্ত্রী মোছা. রাবেয়া বেগম (৩৮), তাঁর ছেলে মো. রাকিবুল হাসান (১৩), মো. ইয়াকুব আলীর ছেলে মো. এনামুল হক (২৬), মো. আব্দুল আহাদ আলীর মেয়ে মোছা. আয়শা আক্তার (৩) এবং মো. আব্দুর রহিমের ছেলে মো. হাসান মিয়া (৭)।
তাদের মধ্যে নিলি বেগমকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং বাকি আটজনকে প্রত্যেককে ৪ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেলে বেলকা ইউনিয়নের জিগাবাড়ী ও তালুক বেলকা গ্রামে লোকালয়ে একটি শিয়াল ঢুকে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শিয়ালটি পথচারী ও বাড়ির আশপাশে থাকা মানুষের ওপর একের পর এক হামলা চালায়। এতে শিশু, নারী ও পুরুষসহ নয়জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা শিয়ালটিকে ধরে মেরে ফেলেন।
শিয়ালের কামড়ে আহতদের সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি ভ্যাকসিনও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর শুধু চিকিৎসা দিয়েই থেমে থাকেনি স্বাস্থ্য বিভাগ। আহতদের শারীরিক অবস্থা দেখতে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল আহতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে। এ সময় চিকিৎসকরা আহতদের শারীরিক অবস্থা, ক্ষতস্থানের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভ্যাকসিন গ্রহণের বিষয়ে খোঁজ নেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শও দেন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান বলেন, শিয়ালের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে আসা সবাইকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি টিম আহতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’