গাইবান্ধার সদরে আল ইমরান মাদরাসার শিক্ষার্থী সাইমুন ইসলাম সাইমকে (১১) অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির মামলায় সজল ও সুলাইমান নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দুপুরে সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়া চর হতে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আসামি সজল (২৬) সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে এবং সুলাইমান (২৩) একই এলাকার সাইদুল ইসলামের ছেলে।
অপরদিকে, অপহরণ হওয়া শিশু সাইমুন ইসলাম সাইম সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার বড়পাঙাসী ইউনিয়নের আগগয়হাটা গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে এবং সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের ফলিয়া এলাকার আল ইমরান মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শিশু সাইম মাদরাসা থেকে বাইরে বের হলে আসামি সোলাইমান তাকে পুলবন্দি বাজারে কৌশলে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব থেকে প্রস্তুতি নেওয়া সজল ও রবিউলসহ সাইমকে চেতনানাশক খাইয়ে অটোতে করে লক্ষীপুর ইউনিয়ের ধোপাডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলামের অজ্ঞাতনামা এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে আসামি সজল ও রবিউলসহ অজ্ঞাত ৫ থেকে ৭ জন মিলে শিশু সাইমকে অমানসিক নির্যাতন করে।
একই সাথে সাইমের মা সুমি বেগম ও তার শাশুড়ি আছমা বেগমের কাছে মোবাইলে একাধিকবার ফোন করে সাইমকে অপহরণের করা হয়েছে বলে জানায় এবং ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অন্যথায় শিশু সাইমকে মেরে ফেলা হবে জানিয়ে হুমকি দেয় আসামিরা।
এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনাটি সাইমের মা তাৎক্ষণিক মাদরাসার পরিচালক শাহ জালাল হোসেন রোস্তমকে জানালে তিনি সহ অন্যান্যের সহায়তায় ধোপাডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলামের ভাড়া বাসার একটি অন্ধকার রুম থেকে অপহরণ করা সাইমকে হাত-পা বাঁধা ও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে অসুস্থ অবস্থায় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরবর্তীতে ১৬ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় অপহৃত শিশু সাইমুন ইসলাম সাইমের মা সুমি বেগম বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জনের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সদরের কামারজানি কুন্দেরপাড়ার চর এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা আসামি সজল ও সুলাইমানকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এসআই পিযুস চন্দ্র সরকার।
অপহরণ হওয়া সাইমের মা সুমি বেগম মোবাইল ফোনে ঢাকা পোস্টকে জানান, সুমি বেগমের ভাই আপনের শ্বশুরবাড়ি গাইবান্ধার ফলিয়াতে। ফলিয়ার আল ইমরান মাদরাসায় তার ভাইয়ের ছেলে নূর মোহাম্মদ পড়েন। সেকারণে সাইমকেও ৩ বছর আগে তারা এই মাদরাসায় ভর্তি করে দেন।
তিনি বলেন, আসামিরা পরিচিত। তারা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ছেলেকে অপহরণ করে নির্যাতন করেছে এবং আমাদের থেকে টাকা দাবি করেছে। নাহলে ছেলেকে হত্যার হুমকিও দিয়েছিল ওরা। আমি সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা ঢাকা পোস্টকে বলেন, শিশু অপহরণ করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিরা পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় সাইমকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। পরে আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।