ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে দুই দলের ম্যাচ চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে। এর আগে সকালেও ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ায় শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খেলায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এক গোলে এগিয়ে ছিল। খেলার শেষ মুহূর্তে বল থ্রো-ইন হলে বল আনতে যান হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মশিউর। এ সময় বল দেওয়া নিয়ে দর্শকসারিতে থাকা ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ লাঠিসোঁটা ও চেয়ার নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের হুমায়ুন কবির এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মশিউর, আলিফ খান, আলিফ রাহাত ও তোফাজ্জলসহ অন্তত সাতজন আহত হন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে নেওয়া হয়। পরে আলিফ খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, খেলার শেষ মুহূর্তে বল থ্রো-ইন হওয়ায় মশিউর বল আনতে যান। এ সময় ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা সময়ক্ষেপণের জন্য বলটি দূরে ফেলে দেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তারা মশিউরকে মারধর করেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
অন্যদিকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, থ্রো-ইনের পর বলটি দিতে গেলে সামনে থাকা একজনের পায়ে লেগে সেটি কিছুটা দূরে চলে যায়। এ সময় মশিউর ইচ্ছাকৃতভাবে বল দূরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ তুলে কথা কাটাকাটি করেন। পরে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা করেন।
আহত ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বল নিয়ে কথাকাটাকাটি হওয়ার পর একজন আমাকে পেছন থেকে ধরে ফেলে দেন। এরপর অন্যরা আমাকে এলোপাতাড়ি পা দিয়ে মাথা ও মুখে লাথি মারতে থাকেন। এতে আমার মুখ ও দাঁত ফেটে গেছে।’
ইবি মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. বদিউজ্জামান বলেন, ‘আহত অবস্থায় কয়েকজন শিক্ষার্থী মেডিকেলে আসে। তিনজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে। বাকি দুজনের মধ্যে একজনের মাথায় আঘাত পেয়েছে এবং আরেকজনের ঠোঁট কেটে যাওয়া ও দাঁতে আঘাত পাওয়ায় সেলাই দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে ফুটবল টুর্নামেন্ট কেন্দ্র করে সংগঠিত দফায় দফায় সংঘর্ষের পর বিকেলে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রীড়া আয়োজক উপ-কমিটি।
এদিকে ফুটবল টুর্নামেন্ট কেন্দ্র করে সংগঠিত দফায় দফায় সংঘর্ষের পর বিকেলে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রীড়া আয়োজক উপ-কমিটি।
এ বিষয়ে উপ-কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. সরফরাজ নেওয়াজ বলেন, ‘ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটেছে। এরই প্রেক্ষিতে প্রশাসনের সাথে কথা বলে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফুটবল টুর্নামেন্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রত্যেক বিভাগীয় সভাপতিদের মৌখিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘আহতদের মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। দুই বিভাগের সঙ্গে আমরা বসে বিষয়টি সমাধান করেছি। তবে খেলাটি স্থগিত রয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত রেফারি তার নিয়ম অনুযায়ী নেবেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’