- বিচারকের আদেশের পর সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউয়ের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পর আবারও হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউ। ফেডারেল বিচারক তিমোথি কেলি তিন সংবাদমাধ্যমের প্রেস পাস বাতিলের সিদ্ধান্তকে সম্ভাব্য অসাংবিধানিক হিসেবে বিবেচনা করে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা ১৪ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে আদালতের আদেশ কার্যকর হওয়ার পরও ওই তিন সংবাদমাধ্যমের কয়েকজন সাংবাদিককে প্রথমে হোয়াইট হাউসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউ জরুরি শুনানির আবেদন করে। তাদের আইনজীবীরা আদালতে অভিযোগ করেন, আদেশ পাওয়ার পরও প্রশাসন সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।
পরে হোয়াইট হাউসের অপারেশনস পরিচালক আদালতে জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের প্রেস পাস ও জব্দ করা ব্যাজ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর দুপুরের দিকে তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি পান। প্রবেশাধিকার ফিরে পাওয়ার পর জরুরি শুনানির আবেদন প্রত্যাহার করা হয়।
এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প ওই তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর সংবাদকে ‘ফিকশন’ ও ‘মিথ্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকেও সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বাতিলের কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ২১ সেপ্টেম্বর যৌথভাবে আদালতে মামলা করে সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউ। তাদের অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও মতামতের কারণে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেছে নিয়ে হোয়াইট হাউসের প্রবেশাধিকার বাতিল করা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে।
ওয়াশিংটনের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক তিমোথি কেলি বুধবার শুনানির পর বৃহস্পতিবার অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। তিনি বলেন, মামলাকারী তিন সংবাদমাধ্যম তাদের সাংবিধানিক দাবিতে সফল হওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রাথমিক ভিত্তি দেখাতে পেরেছে। একই সঙ্গে তিনি প্রেস পাস বাতিলের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন।
জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি নিয়েও বিচারক কেলি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর পর্যবেক্ষণে, নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় ট্রাম্পের প্রাথমিক বক্তব্যে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ ছিল না। আদালতের নথিতে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার সঙ্গে তিন সংবাদমাধ্যমের হার্ড প্রেস পাস বাতিলের সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মতো পর্যাপ্ত তথ্যও পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে আদালতের এই আদেশকে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বিচারকের দেওয়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ১৪ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। এ সময়ের মধ্যে মূল মামলায় সংবাদমাধ্যমের সাংবিধানিক অধিকার এবং প্রশাসনের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত আইনি প্রক্রিয়া চলবে।
নিষেধাজ্ঞার ফলে গত কয়েক দিনে হোয়াইট হাউসের সংবাদ কাভারেজেও প্রভাব পড়ে। সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউয়ের পাশাপাশি কয়েকটি বড় সংবাদমাধ্যমও প্রতিবাদ হিসেবে হোয়াইট হাউস টেলিভিশন পুলের কাভারেজ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল। ফলে প্রেসিডেন্টের নিয়মিত কার্যক্রম কাভার করার প্রচলিত ব্যবস্থায় অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়।
আদালতের আদেশের পর বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফর ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ কাভারেজের দিনেই ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা আবার প্রাঙ্গণে প্রবেশের সুযোগ পেলেন। কয়েক ঘণ্টার অচলাবস্থার পর আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আপাতত হোয়াইট হাউস ও সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে চলমান আইনি বিরোধ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।