বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতে আটকের পর পুলিশে সোপর্দ, টেলিগ্রাম যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার দাবি পুলিশের
লালমনিরহাটে আওয়ামী লীগপন্থীদের সঙ্গে গোপন বৈঠক ও অনলাইনে যোগাযোগের মাধ্যমে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে মো. মজিবর রহমান টুলু (৪৮) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশ তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যম পরীক্ষা করে নাশকতার পরিকল্পনা-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে লালমনিরহাট শহরের চাঁদনী বাজার এলাকায় নিজের দোকান থেকে টুলুকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। টুলু পৌরসভার নামাটারী এলাকার মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, টুলু দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগপন্থীদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখছিলেন। অনলাইন মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামেও আওয়ামী লীগপন্থীদের একটি গ্রুপের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ করছিলেন। পাশাপাশি গোপন বৈঠকের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল—এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে আটক করা হয় বলে দাবি তাঁদের।
পুলিশের ভাষ্য, টুলুকে থানায় নেওয়ার পর তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও অনলাইন যোগাযোগের তথ্য যাচাই করা হয়। সেখানে টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগাযোগ এবং নাশকতার পরিকল্পনা-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। তবে এসব তথ্যের বিস্তারিত বা কথিত নাশকতার পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট ধরন তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনার তথ্য পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মজিবর রহমান টুলুকে আটক করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে।
তবে টুলুর বিরুদ্ধে কী ধারায় মামলা হয়েছে, সে বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে কয়েকটি প্রতিবেদনে শুধু ‘প্রচলিত আইনে’ মামলা করার কথা বলা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাতে একজন রাজনৈতিক নেতাকে আটকের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে আটকের পর তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা পুলিশের মাধ্যমে হচ্ছে। ফলে বিএনপি নেতাকর্মীদের করা অভিযোগ এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য—দুটিকেই পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় এখন পুলিশের তদন্তে টেলিগ্রাম গ্রুপের কথিত যোগাযোগের প্রকৃতি, সেখানে কী ধরনের বার্তা বা তথ্য আদান-প্রদান হয়েছে, কোনো বাস্তব নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত কি না—এসব বিষয় যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।