ছয় দিনের সময়সীমা দিয়ে নোটিশ, বন্ধ বিদ্যুৎ-পানি; সরকারি জমির দাবি বনাম ঐতিহ্য ও ওয়াক্ফ স্বীকৃতি নিয়ে বিরোধ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদ খালি করার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর (এলঅ্যান্ডডি,)। মসজিদটিকে অনুমোদনহীন স্থাপনা উল্লেখ করে ছয় দিনের সময়সীমা দিয়ে গত ১৯ অক্টোবর নোটিশ জারি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর এই নোটিশকে কেন্দ্র করে মসজিদটির জমির মালিকানা, ওয়াক্ফ সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়গুলো সামনে এসেছে। মসজিদটি রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউনের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নয়াদিল্লির ৭, লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের কাছেই রেসকোর্স মসজিদটির অবস্থান। এলঅ্যান্ডডিওর বক্তব্য, মসজিদটি সরকারি জমিতে নির্মিত। অন্যদিকে, মসজিদটির প্রতিনিধিরা ও মুসলিম সংগঠনগুলো এর ওয়াক্ফ সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃতি এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরছে। ফলে বিরোধটি শুধু স্থাপনা খালি করার নোটিশে সীমাবদ্ধ নেই; জমির আইনগত অবস্থান ও কর্তৃপক্ষের উচ্ছেদ-প্রক্রিয়ার বৈধতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঐতিহ্য তালিকায় মসজিদ, তবু উচ্ছেদের নোটিশ
রেসকোর্স মসজিদটির পক্ষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুক্তিগুলোর একটি হলো, স্থাপনাটি নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের (এনডিএমসি) ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় রয়েছে। এনডিএমসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় ‘Mosque and Campus, Race Course’ নামে একটি স্থাপনার উল্লেখ পাওয়া যায়। মসজিদটির ঐতিহ্যগত স্বীকৃতি নিয়ে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দও একই যুক্তি তুলে ধরেছে। সংগঠনটির দাবি, ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেট এবং সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকাতেও মসজিদটির উল্লেখ রয়েছে।
তবে কোনো স্থাপনা ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকলেই জমির মালিকানা বা দখলের বৈধতা নিয়ে সব বিরোধের নিষ্পত্তি হয়ে যায় না। ঐতিহ্য তালিকাভুক্তির উদ্দেশ্য, জমির স্বত্ব, স্থাপনার ব্যবস্থাপনার অধিকার এবং উচ্ছেদের আইনি ভিত্তি—এসব আলাদা প্রশ্ন। এ ক্ষেত্রে মসজিদটির ঐতিহ্যগত স্বীকৃতি এবং সরকারি জমি হিসেবে এলঅ্যান্ডডিওর দাবির মধ্যে আইনগত সম্পর্ক কী, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও আদালতের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এলঅ্যান্ডডিওর দাবি, মসজিদটি সরকারি জমিতে অবস্থিত। বিপরীতে, মসজিদটির পক্ষ থেকে একে ওয়াক্ফ সম্পত্তি হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। এ দাবির পক্ষে ১৯৭৭ সালের গেজেটের উল্লেখ করা হলেও জমির মালিকানা, ওয়াক্ফ হিসেবে নিবন্ধন এবং জমি ব্যবহারের অধিকার-সংক্রান্ত মূল নথি প্রকাশ্যে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে এখনই কোনো পক্ষের দাবিকে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়া সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বিদ্যুৎ-পানি বিচ্ছিন্ন, ব্যাহত নামাজ
মসজিদটির ইমাম মোহাম্মদ হারুনের অভিযোগ, গত ৭ অক্টোবর থেকে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। মসজিদে প্রবেশের পথ বন্ধ থাকায় মুসল্লিদের যাতায়াত ও নামাজ আদায়ে সমস্যা হচ্ছে। এমনকি খাবার পানিও সেখানে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
দ্য হিন্দুস্তান গেজেটের বরাতে দ্য ওয়্যার জানিয়েছে, ইমাম হারুনের অভিযোগ, গত ছয় মাস ধরে দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ডের কাছে সহায়তা চেয়েও তিনি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ পাননি। তাঁর ভাষ্য, বোর্ড কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে এনডিএমসিকে চিঠি দেওয়া ছাড়া আর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। তিনি আদালতে যাওয়ার জন্য বোর্ডকে অনুরোধ করেছিলেন। নিজে মামলা করার অনুমতি চাইলেও তা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। ইমাম আরও দাবি করেছেন, ২০২১ সালে পরিচালিত একটি সরকারি জরিপে মসজিদটিকে অনুমোদনহীন স্থাপনা বা জবরদখল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে ওই জরিপের মূল প্রতিবেদন এবং ওয়াক্ফ বোর্ডের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য।
জমিয়তের স্মারকলিপি, উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা
মসজিদ ও পাশের কবরস্থান রক্ষায় কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর হস্তক্ষেপ চেয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসমির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়। সেখানে মসজিদটির ঐতিহাসিক স্বীকৃতির বিষয়টি তুলে ধরে আইনি বিরোধ নিষ্পত্তির আগে কোনো ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। মসজিদে বিদ্যুৎ-পানি পুনঃসংযোগ, মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতিবেদন সংগ্রহের দাবিও জানানো হয়েছে।
দ্য ট্রিবিউনের ২১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ নোটিশের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, আগের একটি আইনি উদ্যোগ যথাযথ আবেদনকারী না হওয়ার যুক্তিতে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। এবার মসজিদ কমিটির পক্ষে নতুন করে আবেদন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন আবেদনটি আদালতে দাখিল হয়েছে কি না, তা ওই প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তিনি ওয়াক্ফ বোর্ডের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কাশ্মীরের ধর্মীয় নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুকও মসজিদটির বিরুদ্ধে উচ্ছেদ নোটিশের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এসব প্রতিক্রিয়ায় মসজিদটির ওয়াক্ফ পরিচয় ও ঐতিহ্যগত স্বীকৃতি রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
ভারতের আইনে উচ্ছেদ কীভাবে হয়
সরকারি জমি থেকে অননুমোদিত দখলদার উচ্ছেদের ক্ষেত্রে ভারতে ‘পাবলিক প্রিমাইসেস (ইভিকশন অব আনঅথরাইজড অকুপ্যান্টস) অ্যাক্ট, ১৯৭১’ প্রযোজ্য হতে পারে। তবে রেসকোর্স মসজিদের ক্ষেত্রে জারি করা নোটিশের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাওয়া না যাওয়ায় ঠিক কোন ধারায় এবং কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
আইনটির ৪ ধারায় সরকারি স্থাপনা থেকে উচ্ছেদের আগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার বিধান রয়েছে। নোটিশে প্রস্তাবিত উচ্ছেদের কারণ উল্লেখ করতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জবাব দেওয়ার সুযোগ দিতে হয়। আইনের সাধারণ বিধান অনুযায়ী, নোটিশে জবাব দেওয়ার তারিখ ইস্যুর সাত দিনের বেশি পরে রাখা যাবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন এবং ব্যক্তিগত শুনানির সুযোগও চাইতে পারেন।
এরপর ৫ ধারায় বলা হয়েছে, কারণ দর্শানোর জবাব, উপস্থাপিত প্রমাণ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শুনানি বিবেচনা করে এস্টেট অফিসার যদি মনে করেন যে সরকারি স্থাপনাটি অননুমোদিত দখলে রয়েছে, তাহলে কারণ লিপিবদ্ধ করে উচ্ছেদের আদেশ দিতে পারেন। আইন অনুযায়ী, চূড়ান্ত আদেশে স্থাপনা খালি করার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। আদেশ অমান্য করা হলে আইননির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কর্তৃপক্ষ দখল বুঝে নিতে পারে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে: কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং চূড়ান্ত উচ্ছেদ আদেশ এক বিষয় নয়। রেসকোর্স মসজিদের ক্ষেত্রে ছয় দিনের মধ্যে খালি করার যে নির্দেশের কথা সংবাদমাধ্যমে এসেছে, সেটি নোটিশের ঠিক কোন আইনি পর্যায়ের অংশ, তা মূল নথি ছাড়া নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। নোটিশটি যদি ৪ ধারার কারণ দর্শানোর নোটিশ হয়ে থাকে, তাহলে তার জবাব, শুনানি এবং পরবর্তী আদেশের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হবে। আর যদি এর আগে চূড়ান্ত উচ্ছেদ আদেশ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই আদেশের কপি, তারিখ ও আপিলের অবস্থা যাচাই করতে হবে।
আইনের ৯ ধারায় এস্টেট অফিসারের নির্দিষ্ট উচ্ছেদ আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান রয়েছে। সাধারণভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলা বিচারক অথবা আইন অনুযায়ী মনোনীত বিচারিক কর্মকর্তার কাছে আপিল করা যায়। তবে আপিল করার সুযোগ থাকলেই উচ্ছেদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হয়—এমন নয়; স্থগিতাদেশের জন্য আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পৃথক আদেশ প্রয়োজন হতে পারে। মসজিদটির ক্ষেত্রে কোন প্রতিকার চাওয়া হবে এবং কোন আদালত বা কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার প্রযোজ্য হবে, তা নোটিশ ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে আইনজীবীদের নির্ধারণ করতে হবে।
ওয়াক্ফ স্বীকৃতি ও জমির মালিকানা—দুটি আলাদা প্রশ্ন
মসজিদটির পক্ষে ওয়াক্ফ সম্পত্তির স্বীকৃতি এবং ঐতিহ্য তালিকাভুক্তির বিষয়টি সামনে আনা হলেও এসব নথির আইনি প্রভাব আলাদাভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ওয়াক্ফ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি থাকলে সংশ্লিষ্ট গেজেট, নিবন্ধন, জমির রেকর্ড, ব্যবস্থাপনার নথি এবং সম্পত্তির সীমানা যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ভিত্তি ও তার আওতায় প্রযোজ্য সংরক্ষণবিধিও দেখতে হবে।
এই নথিগুলোতে মসজিদটির অবস্থান, জমির পরিমাণ, সীমানা এবং আইনি পরিচয় একইভাবে উল্লেখ আছে কি না, তা বিরোধ নিষ্পত্তিতে ভূমিকা রাখতে পারে। ২০২১ সালের জরিপ নিয়ে ইমামের বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য জরিপের মূল প্রতিবেদনও প্রয়োজন। শুধু কোনো পক্ষের বক্তব্য বা তালিকায় নাম থাকার ভিত্তিতে সরকারি জমির মালিকানা কিংবা দখলের বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
বৃহত্তর উচ্ছেদ কার্যক্রমের সঙ্গেও যোগসূত্র
রেসকোর্স মসজিদ নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি একই এলাকার বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন নিয়েও কার্যক্রম চলছে। দ্য ট্রিবিউনের ২১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশনার পর ওই এলাকার প্রায় ৭০০ পরিবারকে সরিয়ে সাভদা ঘেভরা পুনর্বাসন এলাকায় নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। এলাকাটি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনসংলগ্ন রেসকোর্স রোড এলাকায় চলমান উচ্ছেদ কার্যক্রমের অংশ। পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে শিক্ষা, পরিবহণ ও পয়োনিষ্কাশনের সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বস্তিবাসীদের উচ্ছেদসংক্রান্ত আদালতের নির্দেশ এবং মসজিদ খালি করার নোটিশকে একই আইনি আদেশ হিসেবে দেখা যাবে না। দুই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জমির পরিচয়, পক্ষগুলোর অধিকার এবং আইনি প্রক্রিয়া আলাদা হতে পারে। মসজিদটির বিষয়ে আদালতের কোনো স্থগিতাদেশ বা চূড়ান্ত রায় হয়েছে কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে রেসকোর্স মসজিদ নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি নির্ভর করছে সরকারি জমির রেকর্ড, ওয়াক্ফ-সংক্রান্ত নথি, ঐতিহ্য তালিকাভুক্তির আইনি ভিত্তি এবং উচ্ছেদ নোটিশের যথার্থতার ওপর। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ঘোষিত আইনি পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে আদালতে এসব নথি ও যুক্তি যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে আদালতের কোনো নির্দেশ বা কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মসজিদটি উচ্ছেদ করা হবে, নাকি আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় নেবে—তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।