যুদ্ধের পর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দেড় গুণ বেড়েছে, দাবি আইআরজিসির

‘ফাদার অব অল বোমস’ উন্মোচনের ঘোষণা ইরানের

আজাদ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১০
 ছবি:

‘ফাদার অব অল বোমস’ নামে নতুন একটি অস্ত্র উন্মোচনের প্রস্তুতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দেড় গুণ বেড়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের এই সামরিক বাহিনী।

বুধবার ইরানের সংবাদ সংস্থা ইয়াং জার্নালিস্টস ক্লাব আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বির বক্তব্য উদ্ধৃত করে এ খবর প্রকাশ করে। তবে প্রস্তাবিত অস্ত্রটির প্রকৃতি, ধ্বংসক্ষমতা কিংবা সম্ভাব্য ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি।

মোহেব্বি বলেন, ‘আমরা “ফাদার অব অল বোমস” উন্মোচনের প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছি। এটি শত্রুর জন্য নতুন কিছু।’

ইরানের এই ঘোষণার আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রসঙ্গে ‘ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট’ (এমওএবি) বোমা ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। অস্ত্রটি ‘মাদার অব অল বোমস’ নামেও পরিচিত। তবে ইরানের ঘোষিত ‘ফাদার অব অল বোমস’ একই ধরনের অস্ত্র কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এমওএবি যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত অস্ত্রভান্ডারের অন্যতম বৃহৎ অ-পারমাণবিক বোমা। এর ওজন প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি। ২০১৭ সালের এপ্রিলে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একটি সুড়ঙ্গব্যবস্থায় হামলায় প্রথমবারের মতো বোমাটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের নতুন অস্ত্রের ঘোষণা তাই সামরিক সক্ষমতা নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ বেড়েছে দেড় গুণ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়েও বক্তব্য দিয়েছেন মোহেব্বি। তাঁর দাবি, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দেড় গুণ বেড়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি। মোহেব্বির ভাষ্য, ক্ষেপণাস্ত্রের গুণগত মানেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এগুলোর পাল্লা, ধ্বংসক্ষমতা এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার নির্ভুলতা বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আইআরজিসির মুখপাত্র আরও বলেন, ইরান তার প্রতিরক্ষা নীতিতে পরিবর্তন আনছে। আগে দেশটির নীতি ছিল মূলত আত্মরক্ষামূলক—অন্য কোনো দেশ আক্রমণ করলে পাল্টা জবাব দেওয়া। এখন তেহরান আরও বিস্তৃত প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলার দিকে এগোচ্ছে। মোহেব্বি বলেন, ‘আগে ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি ছিল পুরোপুরি আত্মরক্ষামূলক। আমরা বলতাম, কোনো দেশ আমাদের আক্রমণ করলে আমরা জবাব দেব। আর এখন আমরা বলছি, কোনো দেশ আমাদের আক্রমণ করলে শুধু জবাবই দেব না, পাল্টা আক্রমণও চালাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শত্রুকে এমনভাবে আক্রমণ করব, যাতে তারা আমাদের জবাবের তীব্রতা অনুভব করতে পারে।’

তেহরানের এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত মোকাবিলায় শুধু আক্রমণ প্রতিহত করা নয়, প্রতিপক্ষের ওপর পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে ইরান। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ বৃদ্ধি কিংবা নতুন অস্ত্রের কার্যকারিতা সম্পর্কে আইআরজিসির দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপট

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং আরব দেশগুলোতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

এর আগে ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধ হয়েছিল। সেই সংঘাতের পর ইরান ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে আইআরজিসির বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে সেই আলোচনা পরে ভেস্তে যায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় তার প্রভাব পড়তে পারে। ফলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন অস্ত্র উন্মোচনের ঘোষণা শুধু তেহরান-ওয়াশিংটন সম্পর্কের বিষয় নয়; এর সঙ্গে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার প্রশ্নও জড়িত।

তবে ‘ফাদার অব অল বোমস’ নামে ঘোষিত অস্ত্রটির সক্ষমতা, প্রকৃতি ও সম্ভাব্য মোতায়েন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় এর প্রকৃত সামরিক তাৎপর্য এখনই নির্ধারণ করা কঠিন। একইভাবে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দেড় গুণ বৃদ্ধির দাবিও স্বাধীন যাচাই ছাড়া নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

১

ঢাকার কাছেই গ্যাসের সন্ধান, মানিকগঞ্জে কূপ খননের পরিকল্পনা

২

জামায়াত ছাড়ার শর্তে নারাজ তিন দল, ভেস্তে যাচ্ছে হেফাজতের জোট

৩

স্পেনে কর্মসংস্থানের ফাঁদ, লিবিয়ায় জিম্মি যুবক

৪

মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়র নির্বাচনের পথ সুগম হলো ইশরাকের

৫

‘ফাদার অব অল বোমস’ উন্মোচনের ঘোষণা ইরানের

৬

পূজার দিনে ব্যস্ততা বাড়ে কলকাতার যে মুসলিমদের

৭

‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’: ফ্রান্সের বিক্ষোভে কেন এই স্লোগান

৮

ইউরোপের বিক্ষোভ অভিবাসীদের যে বার্তা দিচ্ছে

৯

ব্যাটিং ব্যর্থতায় আরেকটি পরাজয়ে বিব্রতকর বিদায় বাংলাদেশের

১০

বিষাদের সুরে বিদায় দেবী দুর্গার, উৎসবে মাতল দেশ

১১

আত্মপ্রত্যয়ী জাতি গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম: প্রধানমন্ত্রী

১২

রাজনৈতিক সহিংসতায় বিপর্যস্ত পরিবার, ঝরে পড়ে সন্তানের পড়াশোনা

১৩

সমাজের নিকৃষ্ট লোকেরা এমপি-মন্ত্রী হন: স্পিকার

১৪

ইশরাক ‘পোষ্য কোটায়’ রাজনীতিতে এসেছেন: নিলোফার চৌধুরী

১৫

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: গ্রেপ্তার পৃথক অভিযোগে, মিশনের চিঠিতে আরও যা আছে

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত