ইউরোপের রাজপথে বাড়ছে অসন্তোষ। আবাসনসংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, শিক্ষা খাতে সংকোচন এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এক দেশ থেকে অন্য দেশে। চলতি অক্টোবর মাসে ফ্রান্স, ইতালি, পর্তুগাল, স্পেন, গ্রিস, বেলজিয়াম ও আলবেনিয়ায় বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। দেশভেদে আন্দোলনের কারণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও একটি বিষয়ে মিল স্পষ্ট—অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ মানুষকে রাজপথে নামাচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইউরোপের কট্টর ডানপন্থি ও অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোও নিজেদের অবস্থান জোরালো করার সুযোগ খুঁজছে।
ফলে ইউরোপের সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে: মানুষের ক্ষোভের কেন্দ্রে কি অভিবাসন, নাকি ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও রাষ্ট্রীয় সেবার দুর্বলতা? আর এই অস্থিরতা ইউরোপে বসবাসরত অভিবাসীদের, বিশেষ করে বাংলাদেশিদের, জন্য কী বার্তা দিচ্ছে?
বিক্ষোভের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে অভিবাসনবিরোধিতা মুখ্য নয়। বরং শিক্ষা, আবাসন, মজুরি, কর্মসংস্থান ও জনসেবার প্রশ্নই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে সহিংসতার ঘটনা সামনে আসার পর রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে অভিবাসন। এতে একদিকে মানুষের প্রকৃত অসন্তোষ আড়ালে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে অভিবাসীদের নিয়ে জনমত আরও কঠোর হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
ফ্রান্সে গত ১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া বিক্ষোভের প্রাথমিক কারণ ছিল বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট, শ্রেণিকক্ষের সীমাবদ্ধতা ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয় জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম, মজুরি, পেনশন ও সরকারি সেবা নিয়ে ক্ষোভ। আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনও সমর্থন দেয়। অধিকাংশ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হলেও গত শনিবার কয়েকটি শহরে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সহিংসতার এসব দৃশ্য আন্দোলনের মূল দাবির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা ও অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ককে সামনে নিয়ে আসে।
বেলজিয়ামে শিক্ষা খাতে ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি বৃদ্ধির আশঙ্কা শিক্ষার্থীদের ক্ষুব্ধ করেছে। তাদের উদ্বেগ, উচ্চশিক্ষার ব্যয় বাড়লে নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারের সন্তানদের জন্য শিক্ষার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়তে পারে। ইতালিতে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য এবং সরকারি নীতি নিয়ে অসন্তোষ বিক্ষোভের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষের পাশাপাশি শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়েও প্রতিবাদ হয়েছে।
পর্তুগাল ও স্পেনে পরিস্থিতির কেন্দ্রে রয়েছে আবাসনসংকট। পর্তুগালে ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আবাসনের ব্যয় ১২৪ শতাংশ বেড়েছে বলে সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভাড়া ও বাড়ির দাম বৃদ্ধির কারণে বিশেষ করে তরুণদের জন্য স্বাধীনভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ছে। স্পেনেও বাড়িভাড়া, উচ্ছেদ এবং আবাসনকে বিনিয়োগের পণ্য হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরালো হয়েছে। গ্রিসে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ও আবাসনে সরকারি সহায়তা বাড়ানোর দাবি তুলেছেন। আর আলবেনিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ, কর্মসংস্থানের ঘাটতি ও সরকারের প্রতি অনাস্থা বিক্ষোভকে উসকে দিয়েছে।
অর্থাৎ, সাত দেশের বিক্ষোভকে একক কোনো কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। কোথাও শিক্ষাব্যবস্থা, কোথাও আবাসন, কোথাও জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয়, আবার কোথাও দুর্নীতি ও রাজনৈতিক জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এসেছে। এসব সমস্যার মধ্যে অভিন্ন উপাদান হলো—মানুষের প্রত্যাশা ও রাষ্ট্রের সেবা দেওয়ার সক্ষমতার মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ মনে করছে, শিক্ষা শেষ করেও স্থায়ী কর্মসংস্থান, সাশ্রয়ী বাসস্থান ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই হতাশা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা রাজনৈতিক অস্থিরতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
এই বাস্তবতার মধ্যেই অভিবাসনবিরোধী রাজনীতি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফ্রান্সের সাম্প্রতিক সহিংসতাকে অভিবাসন ও বহুসাংস্কৃতিক নীতির ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। ভ্যান্সের বক্তব্যের মূল সুর হলো, বৈচিত্র্য ও সহানুভূতির নীতি গ্রহণের সময় সামাজিক সংহতি ও সাংস্কৃতিক সামঞ্জস্যের প্রশ্ন যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। ট্রাম্পও অভিবাসীদের দায়ী করে ইউরোপের অস্থিরতাকে রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ করেছেন। তবে বিক্ষোভের মূল দাবিগুলো বিবেচনায় নিলে এসব বক্তব্যের সঙ্গে আন্দোলনের প্রকৃত কারণের সরাসরি যোগসূত্র প্রতিষ্ঠা করা কঠিন।
এখানেই রাজনৈতিক বয়ান ও বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো দেশে অভিবাসন নিয়ে বিতর্ক থাকা আর নির্দিষ্ট বিক্ষোভের মূল কারণ অভিবাসন হওয়া এক বিষয় নয়। জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষার সুযোগ কিংবা আবাসনের সংকট নিয়ে ক্ষুব্ধ মানুষকে শুধু অভিবাসনবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করলে তাদের দাবির প্রকৃতি ভুলভাবে উপস্থাপিত হতে পারে। একই সঙ্গে সহিংসতার বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে একটি পুরো অভিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করলে সামাজিক বিভাজন বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে ইউরোপে অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ একেবারে নতুন নয়। শরণার্থী ও অভিবাসীদের আশ্রয়, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সেবার ওপর চাপ নিয়ে বহু বছর ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশে অভিবাসননীতি কঠোর করার চাপ বেড়েছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে এই বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে। কারণ, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার দ্রুত সমাধান দিতে না পারলে রাজনৈতিক দলগুলো সহজ ব্যাখ্যা ও দৃশ্যমান দায়ী খুঁজতে পারে। অভিবাসীদের সমস্যার কারণ হিসেবে তুলে ধরা সেই রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হয়ে উঠতে পারে।
আসন্ন নির্বাচনগুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে অভিবাসনবিরোধী দলগুলোর অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে। ফ্রান্সে কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল র্যালি অভিবাসননীতি কঠোর করা ও অনিয়মিত অভিবাসীদের বহিষ্কারের পক্ষে। স্পেনে ভক্স দল আবাসন ও সামাজিক অস্থিরতার বিতর্ককে অভিবাসনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার ইতোমধ্যে নিরাপত্তা ও অভিবাসন প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এসব প্রবণতা থেকে বোঝা যায়, ইউরোপের নির্বাচনী রাজনীতিতে অভিবাসন আগামী দিনেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে থাকবে।
অভিবাসীদের জন্য এর সম্ভাব্য তাৎপর্য কয়েকটি। প্রথমত, বৈধভাবে বসবাস ও কাজের অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠোর হতে পারে। দ্বিতীয়ত, আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়তে পারে। তৃতীয়ত, অভিবাসীদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক আরও বেশি রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠতে পারে। তবে এসব পরিবর্তন সব দেশে একইভাবে ঘটবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিন্ন নীতির পাশাপাশি প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইন, শ্রমবাজার ও রাজনৈতিক বাস্তবতাও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশিদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশে প্রায় ৪ লাখ ২ হাজার বাংলাদেশির বৈধ বসবাসের অনুমতি ছিল। তাঁদের মধ্যে দুই লাখের বেশি ইতালিতে বসবাস করেন। ফ্রান্স, পর্তুগাল, স্পেন ও গ্রিসেও বাংলাদেশি অভিবাসীদের বসবাস রয়েছে। একই সময়ে সমুদ্র ও স্থলপথে অনিয়মিতভাবে ইউরোপে পৌঁছানো বাংলাদেশিদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য ছিল। ফলে ইউরোপের অভিবাসননীতি ও রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তন বাংলাদেশি কর্মী, শিক্ষার্থী, পরিবার এবং নতুন করে ইউরোপে যাওয়ার প্রত্যাশীদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বৈধ অভিবাসনের পথ অনুসরণ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণ এবং গন্তব্য দেশের আইন ও শর্ত সম্পর্কে আগেভাগে পরিষ্কার ধারণা নেওয়া। চাকরির প্রতিশ্রুতি, ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তা দিয়ে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকিও বিবেচনায় রাখতে হবে। বিশেষ করে দালালের মাধ্যমে অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা জীবন ও অর্থ—দুই দিক থেকেই বিপজ্জনক। রাজনৈতিক পরিবেশ কঠোর হলে অনিয়মিত অবস্থানে থাকা মানুষের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।
তবে অভিবাসনবিরোধী রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। বিদেশি কর্মীরা স্থানীয়দের চাকরি কেড়ে নেন বা মজুরি কমিয়ে দেন—এমন অভিযোগ রাজনৈতিক বিতর্কে প্রায়ই ওঠে। কিন্তু ইউরোপীয় শ্রমবাজার নিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের গবেষণায় দেখা গেছে, অভিবাসীরা কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছেন এবং বিভিন্ন খাতে শ্রমিকের ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রেখেছেন। ২০১৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মক্ষম জনসংখ্যার মধ্যে অন্য দেশে জন্ম নেওয়া মানুষের অনুপাত ছিল প্রায় ৮ শতাংশ; ২০২৪ সালে তা বেড়ে ১২ শতাংশে দাঁড়ায়। এ তথ্য থেকে স্পষ্ট, অভিবাসীরা ইউরোপের শ্রমবাজারের বাস্তবতার অংশ। তাই অভিবাসন নিয়ে নীতি নির্ধারণে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি শ্রমবাজারের চাহিদা ও অর্থনৈতিক তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
ইউরোপের বর্তমান অস্থিরতা তাই অভিবাসীদের জন্য শুধু সতর্কবার্তা নয়, নীতিনির্ধারকদের জন্যও একটি পরীক্ষা। মানুষের আবাসন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান না হলে রাজনৈতিক ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে। আর সেই ক্ষোভকে অভিবাসনবিরোধী বক্তব্যের দিকে পরিচালিত করা হলে অভিবাসীরা রাজনৈতিক বিতর্কের সহজ লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারেন। একই সঙ্গে অভিবাসনকে সব সমস্যার কারণ হিসেবে দেখালে ইউরোপের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে তাঁদের বাস্তব অবদানও আড়ালে পড়ে যাবে।
সুতরাং ইউরোপের বিক্ষোভ থেকে সবচেয়ে বড় বার্তা হলো—অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে পাশ কাটিয়ে কেবল কঠোর আইন বা অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য দিয়ে অস্থিরতা দূর করা সম্ভব নয়। ইউরোপীয় সরকারগুলোকে যেমন মানুষের দৈনন্দিন সংকটের কার্যকর সমাধান দিতে হবে, তেমনি অভিবাসীদেরও আইনসম্মত অবস্থান, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সংহতির প্রশ্নে আরও সতর্ক থাকতে হবে। আগামী দিনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো নির্ধারণ করবে, ইউরোপের এই অস্থিরতা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধানের পথ তৈরি করবে, নাকি অভিবাসীদের জন্য আরও কঠিন পরিবেশ সৃষ্টি করবে।