হায়দরাবাদে অমিত শাহ, কলকাতায় নীতিন নবীন-শুভেন্দুর পদযাত্রা
দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার প্রতিবাদ সমাবেশের পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ স্লোগানে দেশটির বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ ও পদযাত্রা করেছে দলটি। হায়দরাবাদে সমাবেশে অংশ নেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কলকাতায় পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
সোমবার হায়দরাবাদে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রোড শো শেষে সমাবেশে বক্তব্য দেন অমিত শাহ। এ সময় তিনি অনুপ্রবেশ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিরোধী নেতাদের সমালোচনা করেন।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করে শাহ বলেন, রাহুল কখনোই প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। তাঁর অভিযোগ, বছরের বড় একটি সময় দেশের বাইরে থাকলে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আশা করা যায় না। রাহুলের আরও বেশি সময় ভারতে থাকা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং তাঁদের সমস্যা সমাধানে কাজ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করায় কংগ্রেসকে লক্ষ্য করে শাহ অভিযোগ করেন, অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাংক রক্ষার উদ্দেশ্যেই দলটি এসআইআরের বিরোধিতা করছে। তবে এগুলো বিজেপি নেতার রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ।
একই দিনে কলকাতায় কলেজ স্ট্রিট থেকে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগানে পদযাত্রা শুরু করে বিজেপি। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে নেতারা প্রায় চার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ধর্মতলায় পৌঁছান।
রাহুলকে বাংলাদেশে পাঠানোর হুমকি হিমন্তের
রাহুল গান্ধীকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কংগ্রেস ও রাহুলকে আক্রমণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, রাহুল আসামে এলে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
রোববার হিমাচল প্রদেশের শিমলায় বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, নৈরাজ্য দূর করো’ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন হিমন্ত। দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের সমাবেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে রাহুলের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি পাল্টা আক্রমণ করেন।
কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কটাক্ষ করেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কংগ্রেস আর কখনো ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। ভারতের সরকার জনগণের ভোটে পরিবর্তিত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক ভোটযন্ত্রের পাশাপাশি ব্যালট পেপারেও পরাজিত হচ্ছে কংগ্রেস।
বিজেপির এসব কর্মসূচি ও বক্তব্যে বিরোধী জোটের সমাবেশের পাল্টা রাজনৈতিক প্রচার, অনুপ্রবেশ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী পক্ষের সংঘাতই সামনে এসেছে।