বয়স জালিয়াতির অভিযোগে ভারতের ক্রিকেটে বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের লেগ স্পিনার রোহিত যাদবকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি একই অভিযোগে সাবেক অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী পেসার রবি কুমারসহ মোট ৬৫ ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সংস্থাটি।
প্রাক্-মৌসুমে খেলোয়াড়দের নথিপত্র যাচাইয়ের সময় বয়সসংক্রান্ত তথ্যে অসংগতি ধরা পড়ার পর এ ব্যবস্থা নেয় সিএবি। এরই মধ্যে রোহিত যাদবকে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে ভারতের পাঁচটি ওয়ানডে ও দুটি দীর্ঘ সংস্করণের ম্যাচ খেলার কথা ছিল তাঁর।
সিএবি সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বাংলার বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলা রোহিতের প্রকৃত বয়স ও সরকারি নথিতে উল্লেখ করা বয়সের মধ্যে প্রায় ২৭ মাসের ব্যবধান পাওয়া গেছে। তাঁর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিসিসিআইয়ের অধিভুক্ত সব রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাকেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে।
তবে তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম রবি কুমার। বাঁহাতি এই পেসার ২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতকে চ্যাম্পিয়ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে দুর্দান্ত বোলিং করে ৯ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ইংল্যান্ডের প্রথম চার ব্যাটারের তিনজনকে আউট করে শুরুতেই প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ে চাপ তৈরি করেছিলেন রবি। সেই বিশ্বকাপের পর একই বছর বাংলার সিনিয়র দলে অভিষেক হয় তাঁর। তবে ২০২৩ সালের পর আর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে দেখা যায়নি এই পেসারকে।
সিএবির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে রবির অভিষেক থেকে ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত তাঁর সব রেকর্ড ও পরিসংখ্যান বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। অনুসন্ধানে তাঁর নথিভুক্ত বয়স ও প্রকৃত বয়সের মধ্যে ৪০ মাসের বেশি ব্যবধান পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
বয়স জালিয়াতির বিরুদ্ধে ভারতীয় ক্রিকেটে এটি নতুন কোনো পদক্ষেপ নয়। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে প্রকৃত বয়স গোপন করে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে ২০২০ সালে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই) অ্যামনেস্টি স্কিম চালু করেছিল। এতে নিবন্ধিত কোনো ক্রিকেটার স্বেচ্ছায় বয়সসংক্রান্ত সঠিক তথ্য জানালে নির্দিষ্ট শর্তে শাস্তি থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে জালিয়াতি ধরা পড়লে কঠোর শাস্তির বিধানও ছিল। অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে বয়স যাচাই আরও কঠোর করতে জন্মসনদের পাশাপাশি স্কুল ও কলেজের শিক্ষাগত নথিও যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের বয়সসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ে এখন একাধিক নথি বিবেচনা করা হয়।
সিএবির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন রবি কুমার। কারণ, বয়সসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে শুধু নিষেধাজ্ঞাই নয়, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে তাঁর আগের রেকর্ডও বাতিল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের এই সদস্যের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।