শেষ ম্যাচটাও হলো জয় দিয়ে। শক্তিশালী মালয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-২০ নারী জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে পঞ্চম স্থান নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। চীনের হুলুনবুয়ির সিটিতে লড়াকু পারফরম্যান্সে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে লাল-সবুজের মেয়েরা। তাতে বিশ্বকাপে খেলার দরজা উন্মুক্ত হয়েছে।
এশিয়া কাপ থেকে চারটি দল অনুর্ধ্ব ২০ নারী বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। যদি ভারত স্বাগতিক হয় তাহলে পঞ্চম হয়েও বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে পারে– এমন আশাই করছেন কোচ জাহিদ হোসেন রাজু, ‘এশিয়ান হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তা ও অন্য দলের অনেকেই বলছে আমাদের বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা রয়েছে পঞ্চম হলে। কিছু দিনের মধ্যে আমরা বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারব।’
রাজুর কোচিংয়ে বাংলাদেশ নারী দল প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে খেলবে। দেশের নারী হকি নিয়ে কাজ করেন বিকেএসপি হকির এই প্রধান কোচ। জুনিয়র দলের এমন সাফল্যে তার প্রতিক্রিয়া, ‘আমরা চ্যালেঞ্জার গ্রুপে সব ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি এলিট গ্রুপের জাপানের সঙ্গে। মেয়েরা আরও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারলে জাপানের সঙ্গে ভালো ফলাফল করতে পারত। গতকাল তাদের কাছে হারের পর আজ মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেছে।’
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলেছে বাংলাদেশ। তবে দুই দলের জমাট রক্ষণে প্রথমার্ধে গোল আসেনি। তৃতীয় কোয়ার্টারে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক শারিকা সাফা রিমণ। শেষ কোয়ার্টারে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কনা। এরপর মালয়েশিয়া একটি গোল শোধ করলেও জয় হাতছাড়া করেনি বাংলাদেশ।
গ্রুপ পর্বেও দুর্দান্ত ছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। চায়নিজ তাইপেকে ৭-০, পাকিস্তানকে ৫-১, কাজাখস্তানকে ৪-০ এবং হংকংকে ৬-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপে দাপট দেখিয়েছিল তারা। ম্যাচ সেরা হয়েছেন অধিনায়ক সারিকা রিমন।
২০২৩ সালের আসরে নবম হয়েছিল বাংলাদেশ। এবার পঞ্চম হয়ে আসর শেষ করে আগের সাফল্য ছাড়িয়ে গেল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। জয় দিয়ে শেষ করা এই টুর্নামেন্ট তাই বাংলাদেশের জুনিয়র নারী হকির জন্য হয়ে থাকল স্মরণীয় এক অধ্যায়।