আবারও সেমিফাইনালে হারের হতাশায় ভুগতে হলো বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকে। এশিয়া কাপের পর এশিয়ান গেমসেও ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভারতের বিপক্ষে কুলিয়ে উঠতে পারল না টাইগ্রেসরা, ১১৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরে সোনা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেল। ভারতের দেয়া ১৯৬ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৮১ রানে অলআউট হয়ে গেছে লাল-সবুজের মেয়েরা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাপানের আইচি প্রিফেকচারাল কোরোগি স্পোর্টস পার্কে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতের কাছে অসহায় আত্মসমর্পনের পর বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের ঘটনাকে স্বাভাবিক বলছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। এই উইকেটকিপার ব্যাটারের দাবি, এত বড় রান তাড়া করার সময় এমন ব্যাটিং বিপর্যয় হওয়াটা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে জ্যোতি দলের ব্যাটিং ব্যর্থতা স্বীকার করে বলেন, ‘এত রানের যখন একটা তাড়া থাকে, তখন এসে এরকম ব্যাটিং বিপর্যয় হয়, এটা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, আরেকটু ভালো বোলিং করলে হয়তোবা আরও কিছু কম রান হতো। ভারতের সঙ্গে আমাদের শক্তির পার্থক্য অনেক বেশি, তারপরও আমাদের আরও ভালো খেলা উচিত ছিল।’
এই উইকেটেই প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তানের দেওয়া বড় রান তাড়া করে জিতেছে শ্রীলঙ্কা। সেই উইকেটে বাংলাদেশের এমন ব্যাটিং অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ। অধিনায়ক বড় রান তাড়ায় বিপর্যয় স্বাভাবিক বললেও এই ব্যাটিং গ্রহণযোগ্য নয় তার কাছেও। জ্যোতি বলেন, ‘একদমই না। দেখেন, যেখানে এত অল্প রানে একটা টিম কলাপস করে, সেখানে আসলে আমরা ব্যাটাররা কোনো দায়িত্বই নিতে পারিনি।’
এদিকে এই ম্যাচের পর নিজের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেন জ্যোতি। মূলত অধিনায়কত্বের বাড়তি চাপ সরিয়ে নিজের ব্যাটিং ও উইকেটকিপিংয়ে পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি। জ্যোতি বলেন, ‘একজন ব্যাটার এবং ক্রিকেটার হিসেবে দল ও দেশকে আমার আরও অনেক কিছু দেওয়ার আছে। তাই নিজের খেলাতে মনোযোগ বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
অন্যদিকে প্রতিপক্ষকে নিয়ে বেশি না ভেবে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার দিকেই নজর ছিল বলে জানান ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর। জয় শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের কাছ থেকে যেমন পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করেছিলাম, ঠিক সেটাই পেয়েছি। সামনে প্রতিপক্ষ কে, তা আমাদের কাছে বড় বিষয় নয়; আমরা সবসময় নিজেদের সেরা ক্রিকেটটাই খেলতে চাই।’
এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটে ফাইনালে স্বর্ণের লড়াই থেকে ছিটকে গেলেও বাংলাদেশের সামনে এখনো রয়েছে পদক জয়ের সুযোগ। ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করার ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে স্বর্ণের লড়াইয়ে নামবে শ্রীলঙ্কা। আর একই দিনে ব্রোঞ্জপদক অর্জনের চূড়ান্ত ম্যাচে পাকিস্তানের মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ।