নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়লে ৫ হাজার টাকা পুরস্কার
বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনের আয়োজনে কাল থেকে শুরু হচ্ছে ম্যাক্স গ্রুপ ৩৫তম জাতীয় সাঁতার, ডাইভিং ও ওয়াটার পোলো প্রতিযোগিতা। চার দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতা মিরপুরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
এবারের প্রতিযোগিতায় সাঁতার, ডাইভিং ও ওয়াটার পোলো মিলিয়ে মোট ৪৯টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। এতে ৪৭০ জন পুরুষ ও ১০২ জন নারী সাঁতারুসহ মিট অফিসিয়াল মিলিয়ে প্রায় ৮০০ জন অংশ নেবেন।
প্রতিযোগিতা উপলক্ষে মঙ্গলবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ও টুর্নামেন্ট কমিটির আহ্বায়ক সেলিম মিয়া, কোষাধ্যক্ষ রেজাউল হোসেন বাদশা এবং পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স গ্রুপের প্রতিনিধি ইব্রাহিম খলিল পলাশ।
ওয়ার্ল্ড অ্যাকোয়াটিকসের নির্দেশনা অনুযায়ী, গত বছর থেকে জাতীয় সাঁতারে নতুন কয়েকটি ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুরুষদের ৮০০ মিটার ফ্রি স্টাইল, নারীদের ১ হাজার ৫০০ মিটার ফ্রি স্টাইল, ৪x১০০ মিটার মিক্সড ফ্রি স্টাইল রিলে এবং ৪x১০০ মিটার মিক্সড মিডলে রিলে। দুটি রিলে ইভেন্টেই নারী ও পুরুষ সাঁতারুরা অংশ নেবেন। এসব সংযোজনের ফলে সাঁতারে মোট ইভেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২টি।
এ ছাড়া নারীদের তিনটি ডাইভিং ইভেন্টসহ ডাইভিংয়ে মোট ছয়টি ইভেন্ট এবং ওয়াটার পোলো যুক্ত হয়ে এবারের প্রতিযোগিতায় সব মিলিয়ে ৪৯টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের আসরে নতুন সংযোজন হিসেবে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী সাঁতারুদের জন্য একটি প্রদর্শনী সাঁতার ইভেন্ট রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়া সাঁতারুদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফেডারেশন।
সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় প্রতিযোগিতার খেলা শুরু হবে। তবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে বিকেল ৩টায়। উদ্বোধন করবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাঁতার ফেডারেশনের সভাপতি ও নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। এ ছাড়া উপস্থিত থাকবেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা এবং পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাঁতার ফেডারেশনের সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর।
সংবাদ সম্মেলনে সুইমিং কমপ্লেক্সের ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ডের অকার্যকারিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। তিনি জানান, কয়েক বছর আগে স্কোরবোর্ডটি স্থাপন করা হলেও বর্তমানে এটি অকার্যকর। বিষয়টি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
সজল বলেন, ‘মিরপুর সুইমিং কমপ্লেক্স একটি আন্তর্জাতিক ভেন্যু। এই ভেন্যুতে স্কোরবোর্ড ছাড়া আন্তর্জাতিক সাঁতার প্রতিযোগিতা আয়োজন করা সম্ভব নয়। আশা করি, ক্রীড়া প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’
আন্তর্জাতিক মানের এই সুইমিং কমপ্লেক্সে ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ড সচল করা গেলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের পথও সুগম হবে বলে মনে করছে সাঁতার ফেডারেশন।