বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ-জাপান অংশীদারত্বে নতুন অধ্যায়, ৫ বছরে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা

বিশেষ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১০
 ছবি:

দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা; ‘বিগ-বি’ উদ্যোগে শিল্প, জ্বালানি, বন্দর ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে যৌথ অঙ্গীকার; টেক পার্ক ও উচ্চগতির রেল যোগাযোগে জাপানের সহায়তা চাইলেন তারেক রহমান

বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে সর্বোচ্চ এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে অভিন্ন সমৃদ্ধির কৌশলগত কাঠামোয় উন্নীত করার সিদ্ধান্তও হয়েছে।

মঙ্গলবার টোকিওতে দুই প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এসব বিষয় উঠে আসে। তারেক রহমানের ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর সরকারি জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি, যোগাযোগ অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশ সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টিতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।

তবে এক ট্রিলিয়ন ইয়েনের অঙ্কটি সম্ভাব্য বেসরকারি বিনিয়োগের প্রক্ষেপণ; পুরো অর্থের বিনিয়োগ ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে, এমন নয়। এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের পাশাপাশি নীতিগত সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থায়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টেও বলেছেন, দুই দেশের অংশীদারত্বের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের জনগণের জন্য বাস্তব ও দৃশ্যমান সুযোগ তৈরি করা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শীর্ষ বৈঠকে বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, উন্নত প্রযুক্তি, পরিবহন অবকাঠামো এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব এবং ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরের মধ্যে উচ্চগতির রেল যোগাযোগ গড়ে তুলতে জাপানের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার বিষয়ও তিনি তুলে ধরেছেন।

‘বিগ-বি’তে নতুন কৌশলগত লক্ষ্য

বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো ‘বিগ-বি’কে ‘বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ বা অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য বিগ-বি নামে এগিয়ে নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে শিল্প, জ্বালানি, যোগাযোগ ও বাণিজ্যের সমন্বিত বলয় গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দুই দেশ। নতুন উদ্যোগের আওতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির অবকাঠামো উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করা হবে। পাশাপাশি উৎপাদন ও শিল্পের মূল্য সংযোজন, সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এ উদ্যোগের চারটি অগ্রাধিকার হলো যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন; প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো; অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও নীতিমালা প্রণয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার; এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা সম্প্রসারণ।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী এলাকাকে বৃহৎ লজিস্টিকস, জ্বালানি ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়েও দুই নেতা একমত হয়েছেন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে পণ্য পরিবহন, শিল্প স্থাপন, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও বাজারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের সহযোগিতার মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে অভিন্ন সমৃদ্ধির অঞ্চলে পরিণত করার লক্ষ্যও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে সংস্কারের তাগিদ

জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাস্তবায়নে ব্যবসা পরিচালনার প্রতিবন্ধকতা কমানোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে টোকিও। করব্যবস্থা, শুল্ক ছাড়করণ, অর্থ স্থানান্তর ও লাইসেন্স প্রদানসহ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা এবং নীতিমালায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ সরকার। এ লক্ষ্যে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নবিষয়ক সহযোগিতা স্মারক সই হয়েছে। কৃষি, বন ও মৎস্য খাতেও দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে পৃথক সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

জাপানি ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণে শিগগিরই বাংলাদেশে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তাকাইচি। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সংলাপ আয়োজন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের প্ল্যাটফর্ম ও বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও মতৈক্য হয়েছে।

তারেক রহমান জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, জাপানের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ফেসবুক পোস্টে আরও জানান, দুই দেশের অভিন্ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার করতে মন্ত্রী পর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ কমিশন গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট নয়।

টেক পার্ক, উচ্চগতির রেল ও উন্নত প্রযুক্তি

শিল্পায়নের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। তারেক রহমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস, ইলেকট্রনিকস উৎপাদন এবং অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে তাঁর ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মহাকাশবিজ্ঞান ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলে সহযোগিতা এবং দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরের মধ্যে উচ্চগতির রেল যোগাযোগ স্থাপনে জাপানের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এসব উদ্যোগ এখনো প্রস্তাব ও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে; এগুলোর প্রকল্প ব্যয়, রুট, অর্থায়ন বা বাস্তবায়ন সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত ঘোষণা আসেনি।

যৌথ বিবৃতিতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া, ঢাকার এমআরটি লাইনগুলোর নির্মাণকাজ দ্রুত করা এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়টি উঠে এসেছে। এসব অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্পর্ক রয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় কমানো এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারে প্রবেশ সহজ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ইপিএ কার্যকর ও রপ্তানি বহুমুখীকরণ

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএ দ্রুত কার্যকর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি সই হওয়া চুক্তিটির লক্ষ্য দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং শিল্পের বহুমুখীকরণে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা।

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর রপ্তানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখা এবং নতুন বাজারে প্রবেশের সক্ষমতা বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে জাপানের বাজারে প্রবেশাধিকার এবং দুই দেশের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার সংযোগ বাড়াতে ইপিএ ভূমিকা রাখতে পারে। জাপান আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বা আরসিইপি চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের অনুরোধ নিয়ে আরও আলোচনার আগ্রহও প্রকাশ করেছে।

উৎপাদন, খাদ্য ও কৃষি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং ওষুধশিল্পে পরিপূরক ও টেকসই সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও দুই নেতা একমত হয়েছেন। তবে বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাব্য সুফল কাজে লাগাতে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের মান, সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা ও ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি প্রয়োজন হবে।

জ্বালানি নিরাপত্তায় ৫০ বিলিয়ন ইয়েন সহায়তা

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে জাপানের ‘পার্টনারশিপ অন ওয়াইড এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস রেজিলিয়েন্স এশিয়া’ বা ‘পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় ৫০ বিলিয়ন ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ফেসবুক পোস্টে এ সহায়তার কথা উল্লেখ করেছেন। এর পরিমাণ প্রায় ৩২ কোটি মার্কিন ডলার।

জ্বালানি সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান কমাতে অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তাকাইচি। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তেলের মজুত বাড়ানো, উৎপাদনকারী ও ভোক্তা দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছেন দুই নেতা।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বল্প-কার্বন উন্নয়ন কৌশল তৈরিতে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি অবকাঠামোতে বিনিয়োগের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য সরবরাহ, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

দক্ষ জনশক্তি ও স্থানীয় উন্নয়ন

ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষ তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী তৈরি এবং নিরাপদ ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, টেকসই নগর উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকারের প্রশাসনিক ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে ‘উপজেলা গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ফেজ-২)’-এ অর্থায়নের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। উন্নয়ন প্রকল্পে মানসম্মত অবকাঠামো, স্বচ্ছ অর্থায়ন, ঋণের স্থায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তাঁরা উল্লেখ করেছেন। জাপানের কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা

অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর ও কার্যকর হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই নেতা। বাংলাদেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে জাপানের সরকারি উন্নয়ন সহায়তার আওতায় একটি টহল জাহাজ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। উপকূলীয় টহল, সামুদ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও বন্দর নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের স্বীকৃতিও দিয়েছেন তাকাইচি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি

মিয়ানমারের অবনতিশীল পরিস্থিতি, বাস্তুচ্যুতি এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। তাঁরা সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য জাপানের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে ও টেকসই উপায়ে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে জাপানের সক্রিয় ভূমিকা চেয়েছেন তিনি। দুই নেতা মনে করেন, সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিস্থিতি তৈরি করা জরুরি।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন তাঁরা। গাজা পুনর্গঠন এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানসহ ফিলিস্তিন সমস্যার ন্যায়সংগত ও স্থায়ী সমাধানের প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আলোচনায় এসেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তাকাইচি। বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের নীতির প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা।
জনগণের জন্য দৃশ্যমান সুযোগ তৈরি করতে চাই
শীর্ষ বৈঠকের পর ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তারেক রহমান বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়কার দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের আলোচনার মূল লক্ষ্য অংশীদারত্বকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য বাস্তব সুযোগে রূপান্তর করা। বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থবহ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তোলার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

অন্যদিকে, এক্সে দেওয়া পোস্টে তাকাইচি বলেছেন, কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার ও অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে জাপান বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মূল্যবোধে বিশ্বাসী বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন প্রচেষ্টায় জাপানের সমর্থন অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি। 

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বৈঠককে ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও উন্নয়নের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর লক্ষ্যে তারেক রহমান জাপানের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন।

দুই দেশের ঘোষণায় বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও কৌশলগত সহযোগিতার বিস্তৃত ক্ষেত্র উঠে এসেছে। তবে ঘোষিত পরিকল্পনাগুলোর বাস্তব সুফল নির্ভর করবে বিনিয়োগের অর্থ কীভাবে ও কোন খাতে আসবে, প্রকল্পগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানে বাংলাদেশের তরুণেরা কতটা যুক্ত হতে পারবেন, তার ওপর। এক ট্রিলিয়ন ইয়েনের সম্ভাবনাকে টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে রূপ দিতে এখন প্রয়োজন ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবায়নের কার্যকর সংযোগ।

১

এবার ক্ষমা চাইলেন মাসুদের শ্যালিকা, কান ধরে তওবা শ্বশুরের

২

শেষ মুহূর্তের গোলে হার এড়াল মেসির মায়ামি

৩

নওগাঁয় ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১

৪

জামালপুরে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

৫

দুই দিনেও নেভেনি ইনানীর গ্যাসের আগুন, আরও সাত দিন জ্বলতে পারে

৬

আগের দুই মৌসুমের লোকসান পুষিয়ে নিতে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত কৃষক

৭

রামুর বাঁকখালী নদীতে সম্প্রীতির কল্পজাহাজ ভাসা উৎসব

৮

অস্বাভাবিক জাহাজভাড়ায় চাপে পর্যটক, ভাড়া নির্ধারণ ও টিকিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

৯

জাতীয় সাঁতারের প্রথম দিনে ছয় রেকর্ড, শীর্ষে নৌবাহিনী

১০

বিশ্বকাপে এক দিনে দুই জয়, কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ

১১

আলো-আধারের লুকোচুরিতে সেঞ্চুরির অপেক্ষায় সাদমান

১২

সপ্তম দিনেও সাজেকে অবরোধ, খাদ্য ও ওষুধের সংকটে বাসিন্দারা

১৩

স্পেনে দুই উচ্চগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত অন্তত ৬৪

১৪

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার ‘কোনো বিকল্প নেই’: সালাহউদ্দিন

১৫

জাপানের ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি, সই ৬ সহযোগিতা দলিল

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত