প্রথম টেস্টে হারের পর সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় দেখিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই প্রত্যাবর্তন শেষ হলো অস্ট্রেলিয়াকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ জয়ের মধ্য দিয়ে। কেপটাউনে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে ১০০ রানে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ১৭৬ রানের জয় তুলে নিয়েছে প্রোটিয়ারা। সাইমন হারমারের ঘূর্ণিতে দিশেহারা অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয়েছে মাত্র ১১১ রানে। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জেতার পাশাপাশি প্রায় ১১ বছর পর টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানেও ফিরেছে টেম্বা বাভুমার দল।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ২৮৮ রান, আর দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ছিল ১০ উইকেট। সমীকরণটা কঠিন হলেও অসম্ভব ছিল না। কিন্তু দিনের শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান কাগিসো রাবাদা ও সাইমন হারমার। বিশেষ করে হারমারের ঘূর্ণিতে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় সফরকারীরা।
ইনিংসের প্রথম ওভারেই জোড়া আঘাত হানেন রাবাদা। ম্যাট রেনশকে গোল্ডেন ডাকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর একই ওভারে মারনাস লাবুশেনকেও সাজঘরের পথ দেখান তিনি। এরপর ক্যামেরন গ্রিন ও ট্রাভিস হেড কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে তাদের জুটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ২৬ বলে ১৪ রান করে ফেরেন হেড। আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি করা জশ ইংলিসও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যর্থ। ১৭ বলে মাত্র ৪ রান করে আউট হন তিনি।
এরপর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং বিপর্যয় আরও বাড়িয়ে দেন হারমার। একই ওভারে অ্যালেক্স ক্যারি ও কুপার কনোলিকে ফিরিয়ে দেন এই স্পিনার। ক্যারি করেন ২ রান, কনোলি কোনো রানই করতে পারেননি। মাত্র ৪২ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে তখন বড় পরাজয়ের শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া।
সেখান থেকে গ্রিনকে সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করেন মিচেল স্টার্ক। তবে রান তোলার বদলে উইকেটে টিকে থাকতেই বেশি মনোযোগী ছিলেন তিনি। ২৫ বল খেলে কোনো রান না করেই বিদায় নেন স্টার্ক। অন্য প্রান্তে লড়াই চালিয়ে যাওয়া গ্রিনও শেষ পর্যন্ত হার মানেন হারমারের কাছে। ১১০ বলে ২৭ রান করে ফেরেন এই ব্যাটার।
এরপর দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ৯০ বল খেললেও তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১১ রান। কামিন্সের বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়ার শেষ আশাটুকুও যেন নিভে যায়। নাথান লায়ন এক প্রান্তে লড়াই চালিয়ে গেলেও অন্য প্রান্তে সঙ্গ পাননি। জশ হ্যাজলউড ৪ বল খেলে বিদায় নিলে হারমারের ষষ্ঠ শিকারে পরিণত হন তিনি। তাতেই শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।
শেষ পর্যন্ত ১১১ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ৫৭ বলে ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন লায়ন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে মাত্র ১৬ রান খরচায় ৬ উইকেট নেন হারমার। রাবাদার ঝুলিতে জমা পড়ে ৩৯ রানে ৩ উইকেট। এই ম্যাচেই টেস্ট ক্যারিয়ারে ৩৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন রাবাদা।
প্রথম টেস্টে হারের পর এমন দাপুটে প্রত্যাবর্তনে সিরিজের ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানেও ফিরেছে প্রোটিয়ারা। প্রায় ১১ বছর পর আবারও সাদা পোশাকের ক্রিকেটে এক নম্বর দল দক্ষিণ আফ্রিকা।