লাঞ্চের আগেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে প্রবল বিপর্যয়ে পড়েছিল খুলনা বিভাগ। খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুলেছেন মোহাম্মদ মিঠুন ও নুরুল হাসান সোহান। এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ভর করে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) পঞ্চম রাউন্ডের প্রথম দিন শেষে স্বস্তিদায়ক অবস্থানে পৌঁছেছে খুলনা।
দিনের অন্য ম্যাচে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ক্যারিয়ারে অভিষেক সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েছেন এসএম মেহেরব হাসান। ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়া রাজশাহী বিভাগকে একাই টেনে তুলছেন এই তরুণ স্পিনিং অলরাউন্ডার। এদিকে বল হাতে ৪টি করে উইকেট পেয়েছেন চট্টগ্রামের হাসান মুরাদ ও ময়মনসিংহের ইয়াসিন আরাফাত।
মিঠুন-সোহানের জোড়া সেঞ্চুরিতে ঘুরে দাঁড়াল খুলনা
খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ময়মনসিংহের আমন্ত্রণে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৭৩ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসেছিল খুলনা। সেই বিপর্যয় থেকে দলকে উদ্ধার করতে ঢাল হয়ে দাঁড়ান মোহাম্মদ মিঠুন ও নুরুল হাসান সোহান। পঞ্চম উইকেটে তারা গড়েন ১৬৭ রানের অনবদ্য জুটি। চার নম্বরে নেমে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন মিঠুন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৭তম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে তিনি ১২ চার ও ৫ ছক্কায় ১৬৯ বলে করেন ১১৯ রান। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করলেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। সবশেষ ২০২৪ সালের নভেম্বরে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
মিঠুন ফেরার পরও রানের গতি সচল রাখেন সোহান। দিনের শেষভাগে প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের ত্রয়োদশ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। দিন শেষে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ১০৪ রানে অপরাজিত আছেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। এই দুই সেঞ্চুরিয়ানের দৃঢ়তায় প্রথম দিন শেষে খুলনার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ২৮০ রান। ময়মনসিংহের পক্ষে ইয়াসিন আরাফাত ৪০ রান খরচ করে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট শিকার করেন।
মেহেরবের ব্যাটে লড়াই চালাচ্ছে রাজশাহী
গুড়ার মাঠে ভেজা আউটফিল্ডের কারণে দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল রাজশাহী। মাত্র ৪২ রান তুলতেই টপ অর্ডারের ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল দল। তবে সেখান থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তরুণ অলরাউন্ডার এস এম মেহেরব হাসান। সানজামুল ইসলাম ও নিহাদ উজ জামানকে সঙ্গে নিয়ে দলকে বিপদ থেকে মুক্ত করেন মেহেরব। প্রথম সেঞ্চুরির সুবাস ছড়ানো এই তরুণ ১৩টি চারের সাহায্যে ১৩২ বলে ৮২ রান করে অপরাজিত রয়েছেন। দিন শেষে রাজশাহীর সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৬ উইকেটে ১৫৫ রান। রংপুরের পক্ষে মেহেদি ৩টি উইকেট শিকার করেছেন।
মাইলফলকের ম্যাচ রাঙালেন মুরাদ
প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে পঞ্চাশতম ম্যাচ খেলতে নেমে শুরুটা দারুণ করলেন হাসান মুরাদ। সিলেটের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নিলেন চট্টগ্রামের বাঁহাতি স্পিনার। তার সঙ্গে অফ স্পিনার আশরাফুল হাসান ৩ উইকেট নিলে ২১৮ রানে গুটিয়ে যায় সিলেট। জবাবে চট্টগ্রাম দিন শেষে ১ উইকেটে ৬৪ রান সংগ্রহ করেছে। আগের রাউন্ডে বড় ইনিংস খেলা জাকির হাসান ও অমিত হাসান হতাশ করেন এবার। মুবিন আহমেদ দিশান ভালো শুরু করেও ফিরে যান অল্পে। ছয় নম্বরে নেমে কিছুক্ষণ দলকে এগিয়ে নেন আশরাফুল হাসান। আগের চার রাউন্ডে দুটি সেঞ্চুরি করা তরুণ ব্যাটসম্যান এবার খেলেন ৫১ রানের ইনিংস। শেষ দিকে পাল্টা আক্রমণ করেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও ইকবাল হোসেন। দশম উইকেটে মাত্র ২৩ বলে ৪১ রান যোগ করেন দুজন। খালেদ ২৪ বলে ২৮ ও ইকবাল ৮ বলে ১৩ রান করে দলকে দুইশ পার করান।
দিনের শেষ ঘণ্টায় ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো শুরু করেন মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদিকুর রহমান। কিন্তু শেষ ওভারে অনিয়মিত স্পিনার আসাদুল্লাহ আল গালিবের বলে আউট হয়ে যান ২৮ রান করা সাদিকুর। ৩৫ রানে অপরাজিত জয়।
ভেজা আউটফিল্ডে মাঠেই গড়ায়নি ঢাকা-বরিশাল ম্যাচ
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ভেজা আউটফিল্ডের কারণে প্রথম দিন টস করা সম্ভব হয়নি।