গ্যাসক্ষেত্রের সম্ভাবনা এখনো নিশ্চিত নয়

ইনানীতে গ্যাসের সঙ্গে তেলের ইঙ্গিত, মজুত জানতে ১৫ দিনের পর্যবেক্ষণ

এম জসিম উদ্দিন, কক্সবাজার
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১১
 ছবি:

নলকূপ খননে অনিয়ন্ত্রিত গ্যাস নির্গমন, চার দিন ধরে জ্বলছে আগুন; প্রয়োজনে রিলিফ কূপ, ২০০ মিটারে নিষেধাজ্ঞা

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খনন করতে গিয়ে ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে আগুন লাগার ঘটনায় নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে বড় ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গ্যাসের সঙ্গে তেল বা উচ্চ হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতির ইঙ্গিত পেয়েছেন পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা। সেখানে গ্যাসক্ষেত্র থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিকেরা। তবে গ্যাসের প্রকৃতি, উৎস, প্রবাহের মাত্রা ও সম্ভাব্য মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত হতে এখনো নমুনা বিশ্লেষণ ও ভূতাত্ত্বিক অনুসন্ধান প্রয়োজন।

এদিকে ২৭ অক্টোবর থেকে জ্বলতে থাকা আগুন জোর করে নেভানোর চেষ্টা না করে আপাতত ১৫ দিন পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গ্যাসের স্বাভাবিক প্রবাহ কমে না এলে পরবর্তী সময়ে রিলিফ কূপ খনন অথবা উপযুক্ত কারিগরি পদ্ধতিতে গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা রয়েছে। পেট্রোবাংলার সতর্কতা, গ্যাস বের হওয়ার পথ বন্ধ করলে ভূগর্ভে চাপ তৈরি হয়ে বিস্ফোরণ কিংবা অন্য স্থান দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে নতুন অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ করেছে উখিয়া উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু কৌতূহলী মানুষের ভিড়, স্থানীয় সড়কে চলাচলে বিঘ্ন এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর রাখা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে ইনানীর ঘটনাটি এখন শুধু আগুন নেভানোর বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে জননিরাপত্তা, সম্ভাব্য জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধান এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রস্তুতির প্রশ্ন।

গ্যাসের সঙ্গে তেল, কী বলছে পেট্রোবাংলা

শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নির্গত গ্যাসকে থার্মোজেনিক বলে মনে হচ্ছে। অগ্নিশিখার কালচে ভাব দেখে সেখানে তেলের উপস্থিতি থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া ফল নয়।

থার্মোজেনিক গ্যাস সাধারণত ভূগর্ভের গভীরে দীর্ঘ সময় ধরে তাপ ও চাপের প্রভাবে জৈব পদার্থের রূপান্তর থেকে সৃষ্টি হয়। তবে শুধু গ্যাসের শিখার রং কিংবা গ্যাস বের হওয়ার ঘটনা দেখে তার সুনির্দিষ্ট উৎস, রাসায়নিক গঠন বা বাণিজ্যিক মজুত নির্ধারণ করা যায় না। এ জন্য গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, ভূতাত্ত্বিক স্তর সম্পর্কে তথ্য এবং প্রয়োজনে আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ দিন আগুনের শিখার উচ্চতা, গ্যাস নির্গমনের ধরন এবং প্রবাহের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রবাহ কমতে শুরু করলে পরিস্থিতি অনুযায়ী অপেক্ষা করা হতে পারে। আর গ্যাস নির্গমন অব্যাহত থাকলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্যাসের সঙ্গে তেলের উপস্থিতির ইঙ্গিতকে নিশ্চিত তেলক্ষেত্র আবিষ্কার হিসেবে বিবেচনা না করা। তেলের সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য আলাদা নমুনা পরীক্ষা ও ভূতাত্ত্বিক প্রমাণ প্রয়োজন। একইভাবে গ্যাস বের হচ্ছে মানেই সেখানে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তেও এখনই পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

কেন আগুন নেভানো যাচ্ছে না

বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম বলেন, ভূগর্ভে চাপ ও তাপের মধ্যে থাকা গ্যাস বের হওয়ার পথ পেলে মাটির দুর্বল স্তর বা ফাটল দিয়ে ভূপৃষ্ঠে উঠে আসতে পারে। সাধারণত তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের সময় কূপ খননে বিশেষ ব্যবস্থা রেখে গ্যাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু ইনানীর ঘটনায় নির্গমন অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হচ্ছে। 

বাপেক্সের এই কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, গ্যাস নির্গমনের মুখ বালু বা অন্য উপায়ে জোর করে বন্ধ করার চেষ্টা করলে নতুন নতুন জায়গা দিয়ে গ্যাস বের হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। ভূগর্ভে গ্যাস জমে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটার ঝুঁকিও রয়েছে। এ কারণে আপাতত গ্যাসের স্বাভাবিক প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞেরা।

এখানে আগুন জ্বলতে থাকা আর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এক বিষয় নয়। গ্যাসের প্রবাহ অব্যাহত থাকলে শিখা নেভানো হলেও গ্যাস বের হওয়া বন্ধ নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নির্গত গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে গিয়ে অন্য কোনো আগুনের উৎসের সংস্পর্শে এলে নতুন অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। তাই আগুনের শিখা নিভিয়ে দেওয়ার চেয়ে গ্যাসের প্রবাহ নিরাপদে নিয়ন্ত্রণ করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বিচ্ছিন্ন রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বাপেক্সের কর্মকর্তারা সিলেটের হরিপুর, মাগুরছড়া ও টেংরাটিলার মতো অতীতের গ্যাস-সংক্রান্ত দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেছেন। এসব ঘটনার শিক্ষা হলো, ভূগর্ভস্থ গ্যাসের অনিয়ন্ত্রিত নির্গমন মোকাবিলায় তাড়াহুড়া করে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে চাপ, প্রবাহ ও ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নিতে হয়।

প্রয়োজনে রিলিফ কূপ, তার আগে পর্যবেক্ষণ

গ্যাসের প্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বন্ধ করার জন্য রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পদ্ধতিতে মূল কূপ বা নির্গমনস্থলের পাশে বিকল্প কূপ খনন করে ভূগর্ভস্থ গ্যাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। তবে এ ধরনের কাজের জন্য সুনির্দিষ্ট ভূতাত্ত্বিক তথ্য, উপযুক্ত প্রযুক্তি, নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও বিশেষজ্ঞ দলের প্রস্তুতি প্রয়োজন।

পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. শোয়েবের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৫ দিনের পর্যবেক্ষণে আগুনের শিখার উচ্চতা ও গ্যাস নির্গমনের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হবে। শিখা অপরিবর্তিত থাকলে বা বাড়তে থাকলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। গ্যাসের প্রবাহ কমে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে।

তবে ১৫ দিনের পর্যবেক্ষণকে আগুন নিভে যাওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি পরিস্থিতির পরিবর্তন বোঝার জন্য নির্ধারিত একটি পর্যবেক্ষণকাল। গ্যাসের প্রবাহের প্রকৃতি, ভূগর্ভের চাপ এবং সম্ভাব্য মজুত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপের ধরন স্পষ্ট হবে।

বাপেক্সের অনুসন্ধান, গ্যাসক্ষেত্রের সম্ভাবনা কতটা

বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুকতাদির জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলে গ্যাসক্ষেত্র থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পর্যবেক্ষণ ও কারিগরি মূল্যায়ন প্রয়োজন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাপেক্সের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে ওই এলাকায় ত্রিমাত্রিক বা থ্রিডি ভূকম্পন জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ধরনের জরিপে ভূগর্ভের বিভিন্ন স্তরের গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোথায় গ্যাস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সম্ভাব্য স্তর কতটা বিস্তৃত এবং আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন কি না, তা নির্ধারণে সহায়তা মিলতে পারে।

তবে ভূকম্পন জরিপে গ্যাসের সম্ভাবনা দেখা গেলেও সেটি বাণিজ্যিক গ্যাসক্ষেত্রের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। গ্যাসের মজুতের পরিমাণ, চাপ, গুণগত মান, উত্তোলনের সম্ভাবনা এবং অর্থনৈতিক লাভজনকতা যাচাই করতে পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধানমূলক কূপ খননসহ আরও পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।

এ কারণে ইনানীকে এখনই দেশের নতুন গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করার সুযোগ নেই। অনুসন্ধানে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে এলাকাটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জ্বালানি সম্পদের সম্ভাব্য নতুন উৎস হতে পারে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে হলে একাধিক ধাপের বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি যাচাই সম্পন্ন করতে হবে।

২০০ মিটারে নিষেধাজ্ঞা, তিন স্তরের নিরাপত্তাবলয়

গ্যাসের আগুনের ঝুঁকি বিবেচনায় উখিয়া উপজেলা প্রশাসন ২৯ অক্টোবর রাতে ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পান্না আক্তারের স্বাক্ষরিত আদেশে আগুন জ্বালানো, ধূমপান, দিয়াশলাই বা লাইটার ব্যবহারসহ স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। 

পেট্রোবাংলার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সুপারিশে ঘটনাস্থলের চারপাশে একাধিক নিরাপত্তাবলয় তৈরির কথা বলা হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে কেন্দ্র থেকে ৫০ মিটার পর্যন্ত এলাকাকে রেড জোন, ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকাকে নো-ফায়ার জোন এবং ২০০ মিটার পর্যন্ত এলাকাকে পর্যবেক্ষণ জোন হিসেবে চিহ্নিত করার সুপারিশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ধরনের নিরাপত্তাবলয়ের উদ্দেশ্য হলো ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা, আগুনের উৎসের কাছাকাছি অননুমোদিত কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখা এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। তবে শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না; নিয়মিত নজরদারি, স্পষ্ট সীমানা, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করাও জরুরি।

উখিয়ার ইউএনও পান্না আক্তার জানিয়েছেন, জননিরাপত্তার স্বার্থে ২০০ মিটারের মধ্যে প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্দেশনায় এলাকাটিকে নিরাপদ রাখার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কথা বলা হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও সড়ক যোগাযোগেও প্রভাব

আগুনের শিখা বৈদ্যুতিক লাইনে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ঘটনার পর মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে প্রায় নয় হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

নিরাপত্তার কারণে মেরিন ড্রাইভ থেকে ইনানী ও কোটবাজারে যাতায়াতের দুটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখার কথাও জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ফলে ঘটনাটি শুধু একটি বাড়ির আঙিনায় সীমাবদ্ধ নেই; আশপাশের যোগাযোগ ও জনজীবনেও এর প্রভাব পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আগুন দেখতে প্রতিদিন উৎসুক মানুষের ভিড় হচ্ছে। কেউ কেউ নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করে কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে প্রশাসনের নির্দেশনা কার্যকর করা এবং মানুষের স্বাভাবিক চলাচল যতটা সম্ভব নিরাপদ রাখা জরুরি।

গ্যাসের আগুন দীর্ঘস্থায়ী হলে বিদ্যুৎ, সড়ক যোগাযোগ, আশপাশের বাড়িঘর এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়মিত মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষকে কোথায় সরিয়ে নেওয়া হবে, কোন সড়ক খোলা থাকবে এবং কোন সংস্থা কী দায়িত্ব পালন করবে—এসব বিষয়ও স্পষ্ট থাকা দরকার।

বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন: আগে নিরাপত্তা, পরে সম্পদের হিসাব

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক কর্মকর্তা এস এম নাফিফুন আরহাম এবং ভূতত্ত্ব বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুকতাদিরের বক্তব্যে দুটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে—অনিয়ন্ত্রিত গ্যাস নির্গমন নিরাপদে মোকাবিলা করা এবং ভূগর্ভে গ্যাসের সম্ভাব্য উৎস যাচাই করা। তবে ইনানীর ঘটনা নিয়ে কোনো স্বাধীন জ্বালানি বিশেষজ্ঞের সরাসরি বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য আলাদাভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তাই কোনো বিশ্লেষকের নামে অযাচাইকৃত মন্তব্য উদ্ধৃত করা হয়নি।

কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাটির মূল্যায়নে কয়েকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, গ্যাস কোন ভূতাত্ত্বিক স্তর থেকে বের হচ্ছে এবং সেটি একক কোনো গ্যাসধারক স্তরের সঙ্গে যুক্ত, নাকি একাধিক ফাটল দিয়ে ওপরের দিকে উঠে আসছে? দ্বিতীয়ত, গ্যাসের প্রবাহ কতটা স্থিতিশীল এবং তা কমছে, বাড়ছে, নাকি অপরিবর্তিত রয়েছে? তৃতীয়ত, নির্গত গ্যাসের রাসায়নিক গঠন ও সম্ভাব্য মজুত কী? এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার কিংবা উত্তোলনের সম্ভাব্যতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিরূপণও জরুরি। ২০০ মিটারের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে কতটা কার্যকর, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সম্ভাব্য আগুনের উৎস কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জরুরি সহায়তা কীভাবে দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে প্রশাসনের নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন।

সম্ভাবনা আছে, নিশ্চিত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা

ইনানীর ঘটনাটি বাংলাদেশের জ্বালানি অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সম্ভাবনার নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ভূগর্ভ থেকে গ্যাস বের হওয়া এবং তার সঙ্গে তেলের উপস্থিতির প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া অবশ্যই অনুসন্ধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একটি অনিয়ন্ত্রিত গ্যাস নির্গমনকে সরাসরি বাণিজ্যিক গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

আগামী ১৫ দিনের পর্যবেক্ষণে গ্যাসের প্রবাহ ও আগুনের আচরণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। এরপর প্রয়োজনীয় ভূতাত্ত্বিক জরিপ, নমুনা বিশ্লেষণ এবং কারিগরি মূল্যায়নের মাধ্যমে সম্ভাব্য মজুতের বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব হলো জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা এবং অনুসন্ধানের ফল সম্পর্কে স্বচ্ছভাবে তথ্য জানানো। ইনানীতে সত্যিই উত্তোলনযোগ্য গ্যাস বা তেলের মজুত রয়েছে কি না, তার উত্তর নির্ভর করবে পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলের ওপর।

১

লালমনিরহাটে কিশোর গোল্ডকাপে চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা ক্রীড়া চক্র

২

কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আহমদ গিয়াস আর নেই

৩

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে নামছেন কক্সবাজারের হাজারো জেলে

৪

কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে কত পয়েন্ট লাগবে, দেখে নিন

৫

আতঙ্কে রাতে আত্মীয়দের বাড়ি থাকেন মানিক পশারীর মেয়ে-বোন

৬

ডিএমপির নিউজ পোর্টালে রাজনৈতিক বার্তা, হ্যাকের শঙ্কা

৭

বাড়িতে মাদক-ডিজে পার্টি, অতিরিক্ত ডিআইজি জহির সাময়িক বরখাস্ত

৮

শ্রীলঙ্কার রানপাহাড় টপকে ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

৯

দ্বিতীয় টেস্টের দল ঘোষণা বাংলাদেশের, কনকাশনে বাদ মুমিনুল

১০

বঙ্গোপসাগরে ফের ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, যেসব এলাকায় আঘাত হানতে পারে

১১

বিশ্বকাপ ফাইনালের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়ে মুখ খুললেন মার্তিনেজ

১২

মিঠুন-সোহানের সেঞ্চুরিতে খুলনার রক্ষা, রাজশাহীকে টানছেন মেহরব

১৩

পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ দক্ষিণ আফ্রিকার

১৪

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে কি যুক্ত হচ্ছে ইরান?

১৫

কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টা, উত্তেজনা

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত