১৫ হাজার টাকা নিয়ে উধাও দালাল, ঢামেকে আকস্মিক পরিদর্শনে ক্ষুব্ধ দুদক চেয়ারম্যান

আজাদ ডেস্ক:
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১১
 ছবি:

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে নানা অনিয়ম, হয়রানি ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যের শিকার হচ্ছেন রোগীরা। এক রোগীর স্বজনকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন এক দালাল।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালটি আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে রোগীদের এমন অভিযোগ শোনেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। এ সময় হাসপাতালের জরাজীর্ণ পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবার বেহাল দশা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বহির্বিভাগ ঘুরে দেখেন দুদকের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। এ সময় রোগীদের শয্যাপাশে গিয়ে চিকিৎসাসেবার সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সাধারণ রোগীদের বিভিন্ন অভিযোগ ও ভোগান্তির কথা শোনেন।


প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুদকের কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, কমিশনার ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া এবং সচিব মো. সাইদুর রহমান খানসহ সংস্থাটির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় রোগীরা দুদক কর্মকর্তাদের কাছে বিভিন্ন অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ তুলে ধরেন। বিশেষ করে হাসপাতাল চত্বরে সক্রিয় দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য এবং অসহায় রোগীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেন তারা।

চাঁদপুরের মতলবের নালুয়া আশ্রম থেকে আসা এক রোগীর স্বজন (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) কান্নায় ভেঙে পড়ে অভিযোগ করেন, ‘এখানে ভালো চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে এক দালাল আমার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু এখন তাকে খুঁজে পাচ্ছি না, তার কোনো খবরও জানি না। আমার স্বামী একজন সামান্য রিকশাচালক। আমাদের পক্ষে এত টাকা দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’


রোগীদের দুর্দশা ও অভিযোগগুলো অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শোনেন দুদক চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সেবার মান দ্রুত বাড়ানোর পাশাপাশি সব ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য অবিলম্বে বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন।

পরিদর্শন শেষে দুপুর ১টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। ঢামেক হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘হাসপাতালে কোনো রকম ব্যবস্থা নেই। রোগীরা অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এখানে এসে একেবারে জরাজীর্ণ পরিবেশ দেখলাম। সারাদেশের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা প্রায় একই রকম। তবে ঢাকায় যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে মফস্বল বা সারাদেশের অবস্থা আরও খারাপ।’

তিনি বলেন, ‘মেডিকেল থেকে কৌশলে রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে চিকিৎসকদের বড় একটি অংশ জড়িত কি না, সেটিও আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের মৌলিক অধিকার চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম ও সিন্ডিকেট রুখতে সবসময় তৎপর রয়েছে দুদক।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, আগে নিয়মিত ওষুধ পাওয়া না গেলেও বর্তমানে রোগীরা অর্ধেকের বেশি ওষুধ পাচ্ছেন। আগের তুলনায় চিকিৎসাসেবার মানও কিছুটা উন্নত হয়েছে। তবে পুরো ব্যবস্থাকে কাঙ্ক্ষিত মানে উন্নীত করতে কিছুটা সময় লাগবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, দুজন চেয়ারম্যান ও দুজন কমিশনারের উপস্থিতিতেই হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা এবং রোগীদের অভিযোগগুলো স্বচক্ষে দেখেছেন। এসব সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। আপনারা জানেন, এখানে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৬০০ শয্যায় এবং বহির্বিভাগে দূর-দূরান্ত থেকে প্রচুর রোগী আসেন। রোগীর প্রচণ্ড চাপের কারণে কেউ যাতে অব্যবস্থাপনার শিকার হয়ে ফিরে না যান, সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট আছি।’

হাসপাতাল পরিচালক বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। আমাদের চিকিৎসক, নার্স ও পুরো টিম একসঙ্গে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। আমরা আশা করি, অচিরেই পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।’

প্রেস ব্রিফিং শেষে দুপুর সোয়া ১টার দিকে দুদক চেয়ারম্যান ও তার সফরসঙ্গী কর্মকর্তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

১

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় গেলেন জামায়াতের ২ নেতা

২

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, ৮ শতাধিক পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনের পথে প্রথম জাহাজ

৩

১৫ হাজার টাকা নিয়ে উধাও দালাল, ঢামেকে আকস্মিক পরিদর্শনে ক্ষুব্ধ দুদক চেয়ারম্যান

৪

ট্রিলিয়ন অর্থনীতির দেশ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

৫

যুদ্ধবিরতির জন্য সৌদির কাছে সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা চেয়েছে হুথিরা

৬

সংশোধন হচ্ছে এমপিও নীতিমালা, আসছে পাঁচ পরিবর্তন

৭

হামের টিকা কেনায় বিলম্ব-ব্যর্থতা: অন্তর্বর্তী সরকারের দায় খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিশন

৮

অবশেষে ৭০০ পর্যটক নিয়ে সেন্ট মার্টিন যাচ্ছে জাহাজ

৯

কংগ্রেসের দুই কক্ষ ডেমোক্র্যাটদের দখলে, চাপে ট্রাম্পের নীতি

১০

মাইক্রোপ্লাস্টিক, ভারী ধাতু ও অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি; বাজারের অর্ধেক মাছের নমুনায় সালমোনেলা

১১

ইকবাল সোবহানকে গ্রেপ্তার দেখাল ডিবি, মুচলেকায় ছাড়া পাচ্ছেন রাজীব ঘোষ

১২

২৩ বছর পর শিরোপার স্বপ্ন, শুরুতেই ভুটান পরীক্ষা

১৩

ভালো ফুটবল খেলাই ভারতের লক্ষ্য

১৪

বিগব্যাশে মুস্তাফিজকে ঘিরে বিশেষ আয়োজন

১৫

সিলেটে বাংলাদেশকে ধবলধোলাইয়ের স্বপ্ন স্যামির

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত