দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করে ক্যারিবীয়দের আগাম বড়দিনের উপহার দিতে চান ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি। ঢাকায় প্রথম টেস্টে ৮ উইকেটের জয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা সফরকারীদের লক্ষ্য এবার সিলেটেও জয় তুলে নিয়ে সিরিজ শেষ করা।
আগামীকাল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। দীর্ঘ সফর শেষে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা স্যামির কাছে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় হবে বড়দিনের আগাম উপহার। বিশেষ করে পরিবারের সঙ্গে উৎসব উদ্যাপনের আগে এমন সাফল্যকে বাড়তি প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন তিনি।
সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয়ের প্রসঙ্গ টেনে স্যামি বলেন, ‘অধিনায়ক ছেলেদের বলেছে, এটি আমাদের জন্য দারুণ একটি বড়দিনের উপহার হবে।’
বাংলাদেশের মাটিতে সিরিজ জয়কে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন ক্যারিবীয় কোচ। কারণ, নিজেদের মাঠে বাংলাদেশ বেশ শক্তিশালী দল।
স্যামি বলেন, ‘এখানে এসে এমন কিছু করতে পারলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আমাদের জন্য এটি হবে অসাধারণ সমাপ্তি, দারুণ এক অর্জন।’
কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ এবং ভারত ও নিউজিল্যান্ড সফরসহ বেশ কয়েকটি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার কথা স্মরণ করেন স্যামি। তবে সময়ের সঙ্গে খেলোয়াড় নির্বাচন ও প্রত্যেকের ভূমিকা নির্ধারণে দল সঠিক ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা খুঁজে পেয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশের বিপক্ষে স্পিন সামলাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উন্নতির পেছনে ব্যাটিং কোচ ফ্লয়েড রেইফারের অধীনে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতিকে কৃতিত্ব দিয়েছেন স্যামি। অতীতে স্পিনের বিপক্ষে ভুগলেও প্রথম টেস্টে ক্যারিবীয় ব্যাটাররা ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দিয়েছেন। বিশেষ করে চতুর্থ ইনিংসে ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৮ উইকেটের জয় তুলে নেওয়ার পথে তাদের ব্যাটিং ছিল প্রশংসনীয়।
স্যামি বলেন, ‘বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে কঠিন লক্ষ্য তাড়া করার সময় ছেলেরা যেভাবে খেলেছে, তা ছিল দারুণ। আমরা চাই, তারা এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখুক। যেকোনো ফরম্যাটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই সাফল্য এনে দেয়।’
সিলেট টেস্টে পেস ও স্পিনের সমন্বয় নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্যামি জানান, ভিন্ন ধরনের উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠন করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উইকেট পেসারদের সহায়ক হলে অভিজ্ঞ ফাস্ট বোলার কেমার রোচকে খেলানোর সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, স্পিন সহায়ক উইকেট হলে তাদের হাতে যোগ্য বিকল্পও আছে।
একাদশ চূড়ান্ত করার আগে সংবাদ সম্মেলনের পর এবং ম্যাচের দিন সকালে উইকেট পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানিয়েছেন স্যামি।
তিনি বলেন, ‘আমি যদি বাংলাদেশের জায়গায় থাকতাম, বিশেষ করে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে চার নম্বরে থাকা একটি দল হিসেবে এবং প্রতিপক্ষ স্পিন কীভাবে সামলেছে, তা দেখার পর সম্ভবত আমিও একই কাজ করতাম। অর্থাৎ স্পিন দিয়ে প্রতিপক্ষকে হারানোর চেষ্টা করতাম।’
নিজেদের খেলার উন্নতিতে কঠোর পরিশ্রম অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন ক্যারিবীয় কোচ। তাঁর ভাষায়, প্রতিপক্ষ কী কৌশল নেবে, সেটি তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই। বরং নিজেদের আরও ভালো ও ধারাবাহিক দল হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের অধীনে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মরিয়া থাকবে বলেও মনে করেন স্যামি। অভিজ্ঞ এই কোচের অধীনে স্বাগতিকদের কাছ থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জের প্রত্যাশা করছেন তিনি।
স্যামি বলেন, ‘বাংলাদেশকে এবং ফিলকে আমি চিনি। তিনি যেভাবে কাজ করেন, তাতে প্রতিপক্ষকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি জয়ের জন্য মরিয়া হয়েই মাঠে নামবেন। তাই আমরা সহজ কিছু আশা করছি না।’
তবে স্বাগতিকদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাসের ওপরই আস্থা রাখছেন স্যামি। তাঁর লক্ষ্য একটাই—সিলেটে আরেকটি জয় তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করা এবং ক্যারিবীয়দের জন্য আগাম বড়দিনের উপহার নিশ্চিত করা।