ইরান যুদ্ধ, শুল্ক ও অভিবাসন নিয়ে বাড়বে নজরদারি

কংগ্রেসের দুই কক্ষ ডেমোক্র্যাটদের দখলে, চাপে ট্রাম্পের নীতি

আজাদ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১১
 ছবি:

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ক্ষমতার ভারসাম্য বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের দিকে চলে গেছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মাঝপথে এই ফলাফল তাঁর প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরু হলে ইরান যুদ্ধ, বাণিজ্য শুল্ক, অভিবাসন নীতি এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত ও জবাবদিহির চাপ বাড়বে।

মঙ্গলবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের পাশাপাশি সিনেটেও জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান-প্রভাবিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও দলটির প্রার্থীরা জয় পাওয়ায় নির্বাচনের ফলাফলকে মার্কিন গণমাধ্যম ‘নীল ঝড়’ বা ‘ব্লু সুনামি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম টানা দুই মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হাতবদল হলো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কানসাসে ১৯৩২ সালের পর প্রথমবারের মতো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডাম হ্যামিল্টন। রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে হারিয়ে তিনি এই জয় পান। টেক্সাসেও সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো জয়ী হয়েছেন। একই অঙ্গরাজ্যে তিন মেয়াদের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়ে গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন জিনা হিনোজোসা। সাউথ ক্যারোলাইনায় ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সিনেটে জয় পেয়েছেন। মেইনে দীর্ঘদিনের সিনেটর সুসান কলিন্সের পরাজয়ও নির্বাচনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ বড় ভূমিকা রেখেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলারে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত আমদানি শুল্ক, যার প্রভাব পড়েছে পণ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে।

নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প নিজেই রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, ব্যালটে তাঁকে বিবেচনায় রেখেই ভোট দিতে। নিজের পছন্দের প্রার্থীদের মনোনয়ন নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখেন তিনি। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল তাঁর সেই কৌশলের বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে। এক্সিট পোলের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় অর্ধেক ভোটার প্রেসিডেন্টকে প্রত্যাখ্যানের সুযোগ হিসেবে নির্বাচনকে দেখেছেন। দেশের পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোটার। তাঁদের বড় অংশ প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার পক্ষে মত দিয়েছেন।

তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেই ট্রাম্প প্রশাসনের সব নীতি বন্ধ হয়ে যাবে না। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা বহাল থাকবে। বিশেষ করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে তাঁর। ফলে ইরান যুদ্ধ বন্ধ করতে ডেমোক্র্যাটদের সামনে বড় বাধা থাকবে।

যুদ্ধের ব্যয় অনুমোদন আটকে দিয়ে বা সামরিক তহবিল নিয়ে শর্ত আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে কংগ্রেস। তবে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্ত সেনাদের অর্থায়ন বন্ধ করা রাজনৈতিকভাবে কঠিন। এতে সেনাসদস্যদের নিরাপত্তা ও যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন অনুযায়ী, কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা না করলে প্রেসিডেন্টকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ৬০ দিনের মধ্যে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হয়। তবে প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। সেই ভেটো বাতিল করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। ডেমোক্র্যাটদের সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় আইনটির মাধ্যমে ট্রাম্পকে সরাসরি বাধ্য করা কঠিন হবে। তবে যুদ্ধবিরোধী রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সমর্থন পেলে তারা চাপ বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে।

বাণিজ্যনীতিতেও ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়বে। বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর যুক্তিতে বিভিন্ন দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে ওই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ার পরও অন্য আইনের আওতায় নির্বাহী আদেশে নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হয়। ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা এই শুল্কের মেয়াদ ১৫০ দিন। এরপর তা বহাল রাখতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। ফলে শুল্কনীতি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের আপত্তি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

অভিবাসন নীতিও কংগ্রেসের তদন্তের মুখে পড়তে পারে। অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার এবং আটক অভিযান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই সমালোচনা রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা অভিবাসনবিষয়ক বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কার্যক্রম, আটক ও বহিষ্কারের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পারেন। পাশাপাশি ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক কার্যক্রম, এপস্টেইন-সংশ্লিষ্ট নথি এবং ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় প্রতিরক্ষা দপ্তরের ভূমিকা নিয়েও তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

নতুন কংগ্রেসে প্রতিনিধি পরিষদের বিভিন্ন কমিটির নেতৃত্ব ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তলব, নথিপত্র চাওয়া এবং তদন্ত পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। বাজেট ও নতুন আইন পাসের ক্ষেত্রেও রিপাবলিকানদের বিরোধীদের সহযোগিতা নিতে হবে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোয় কেন্দ্রীয় বিচারক ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগের অনুমোদন নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসন বাধার মুখে পড়তে পারে।

নির্বাচনের ফলাফল স্বীকার করলেও পরাজয়ের দায় নিতে চাননি ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ব্যালটে তিনি থাকলে রিপাবলিকানরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হতো। তবে ডেমোক্র্যাটদের অভিনন্দন জানিয়ে তাদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ‘অযৌক্তিক’ কোনো বিলে ভেটো দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হবে। ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা বহাল থাকলেও আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন, নিয়োগ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারিতে ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বাড়বে। ফলে দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরে বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ নীতি বাস্তবায়নে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারেন ট্রাম্প।

১

সংশোধন হচ্ছে এমপিও নীতিমালা, আসছে পাঁচ পরিবর্তন

২

হামের টিকা কেনায় বিলম্ব-ব্যর্থতা: অন্তর্বর্তী সরকারের দায় খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিশন

৩

অবশেষে ৭০০ পর্যটক নিয়ে সেন্ট মার্টিন যাচ্ছে জাহাজ

৪

কংগ্রেসের দুই কক্ষ ডেমোক্র্যাটদের দখলে, চাপে ট্রাম্পের নীতি

৫

মাইক্রোপ্লাস্টিক, ভারী ধাতু ও অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি; বাজারের অর্ধেক মাছের নমুনায় সালমোনেলা

৬

ইকবাল সোবহানকে গ্রেপ্তার দেখাল ডিবি, মুচলেকায় ছাড়া পাচ্ছেন রাজীব ঘোষ

৭

২৩ বছর পর শিরোপার স্বপ্ন, শুরুতেই ভুটান পরীক্ষা

৮

ভালো ফুটবল খেলাই ভারতের লক্ষ্য

৯

বিগব্যাশে মুস্তাফিজকে ঘিরে বিশেষ আয়োজন

১০

সিলেটে বাংলাদেশকে ধবলধোলাইয়ের স্বপ্ন স্যামির

১১

শ্রমিক আন্দোলনের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা: আ.লীগের ২১ নেতাকর্মীসহ দেড় হাজার আসামি

১২

সংবাদ প্রকাশের জেরে গ্রেফতারে আদালতের অনুমতি নিতে হবে, মন্ত্রিসভার কমিটিতে ঐকমত্য

১৩

পোশাককর্মী তৌফিকের মৃত্যুর দায় বিএনপি এড়াতে পারে না: বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী

১৪

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা চালালে ভারত ও পাকিস্তানের কী হবে?

১৫

হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন মঈন খান

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত