‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী জামানায় জামায়াত কখনো সংসদ ভবনের আশপাশে গেছে?’—এমন প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খান। সংসদ অধিবেশন চলাকালে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রা ও অবস্থান কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, সংসদ অধিবেশন চলার সময় ‘মব সৃষ্টির উদ্দেশে’ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সংসদ ভবন ঘেরাও করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সংসদ ভবনের ভেতরে ঢুকে ২০২৪ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরির হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
রাশেদ খান লেখেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী জামানায় জামায়াত কখনো সংসদ ভবনের আশপাশে গেছে?’ তিনি আরও প্রশ্ন করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় জামায়াতের কোনো নেতা সংসদ ভবনের ভেতরে ঢুকেছিলেন কি না এবং গত ১৬ বছরে সংসদ ভবনের আশপাশে দলটির কেউ গিয়েছিলেন কি না।
তাঁর দাবি, বর্তমানে পুলিশি পাহারায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে সরকার পতনের ‘দিবাস্বপ্ন’ দেখছে জামায়াত। তবে পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে লংমার্চ কিংবা সচিবালয় ও জাতীয় সংসদ ঘেরাও করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খান বলেন, যারা বিরোধী দলই পরিচালনা করতে পারে না, তারা হয়তো রাষ্ট্রে অশান্তি সৃষ্টি করতে পারবে, কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে দেশ পরিচালনা করতে পারবে না।
জ্বালানি সংকটের মধ্যেও জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত লংমার্চের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তাঁর দাবি, কর্মসূচি পালনে প্রায় এক লাখ লিটার জ্বালানি খরচ হতে পারে। ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান লেখেন, ‘জ্বালানি সংকটের মধ্যে প্রায় ১ লাখ লিটার তেল খরচ করে লংমার্চ করবে জামায়াত!’ তিনি বলেন, সরকারের বয়স ছয় মাস পেরিয়ে সাত মাসে পড়ার আগেই জামায়াত ‘ক্ষমতার জন্য মরিয়া’ হয়ে উঠেছে।
রাশেদ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াত ক্ষমতায় যেতে না পারলেও রাষ্ট্রে অস্থিরতা ও অশান্তি সৃষ্টি করার সক্ষমতা রাখে। একই সঙ্গে জামায়াতের কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ ঢুকে পড়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
জামায়াতের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খান দাবি করেন, ভবিষ্যতে আলোচনার ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত একসঙ্গে মাঠে নামতে পারে। তাঁর মতে, জামায়াতের লংমার্চের ঘোষণার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের মাঠে নামার পথ তৈরি করা হচ্ছে। তিনি লেখেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, জামায়াতের লং মার্চে আওয়ামীলীগ ঢুকলে তাদের কোনো আপত্তি নাই।’ এরপর তিনি আওয়ামী লীগ ও জামায়াতকে নিয়ে রাজনৈতিকভাবে তীব্র সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন এবং দাবি করেন, দুটি দল ক্ষমতার স্বার্থে একতাবদ্ধ হয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রাশেদ খান বলেন, জাতীয় সংকটকে গুরুত্ব না দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে। জ্বালানি সংকটের মধ্যে লংমার্চ আয়োজনের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন রাখেন—‘ক্ষমতা না জনতা?’
রাশেদ খানের এসব বক্তব্যের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।