সমুদ্রসৈকতের সংবেদনশীল বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করে সড়ক নির্মাণের অভিযোগে চলমান নির্মাণকাজ অবিলম্বে স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। সংগঠনটি এ প্রকল্পের পরিবেশগত, জলবায়ুগত, দুর্যোগ ঝুঁকি ও পরিকল্পনাগত প্রভাব স্বাধীন এবং সমন্বিতভাবে পুনর্মূল্যায়নের জোর দাবি জানিয়েছে।
রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিআইপি এ উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশ করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কক্সবাজার পৌরসভা বাস্তবায়িত নগর উন্নয়ন ও নগর শাসন প্রকল্পের আওতায় জাইকার অর্থায়নে সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হোটেল সায়মন পর্যন্ত এক উপকূলীয় সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের জন্য সৈকতের প্রাকৃতিক বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে।
বিআইপি উল্লেখ করে, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি, প্রাকৃতিক বালুর স্তর ও উপকূলীয় উদ্ভিদ শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, বরং এগুলো ঢেউ, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও উপকূলীয় ক্ষয়ের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক প্রাচীর হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে তা সামুদ্রিক ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। বালিয়াড়ি ভরাট বা সমতল করে অবকাঠামো গড়ে তুললে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতির পাশাপাশি কক্সবাজারের উপকূলীয় সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
প্রকল্পটির পরিকল্পনাগত যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংগঠনটি জানায়, ভাঙনকবলিত এলাকা রক্ষা ও পর্যটক সুবিধার কথা বলে নেওয়া কোনো প্রকল্পে যদি উপকূলের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তার প্রাসঙ্গিকতা থাকে না। বিকল্প স্থানে সড়ক নির্মাণের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন বালিয়াড়ি অঞ্চলকে বেছে নেওয়া হলো এবং যথাযথ বিকল্প নকশা মূল্যায়ন করা হয়েছিল কিনা তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিবেদনে পরিবেশগত আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখার তাগিদ দিয়ে বলা হয়, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে কি না, তাও অস্পষ্ট।
এ অবস্থায় বিআইপি অবিলম্বে নির্মাণকাজ স্থগিত করে পরিবেশগত অনুমোদনের বিষয়গুলো পর্যালোচনা, বালিয়াড়ি অক্ষুণ্ন রেখে বিকল্প স্থান ও নকশা বিবেচনা এবং অংশীজনদের সাথে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। পুনর্মূল্যায়নে প্রকল্পটি ক্ষতিকর প্রমাণিত হলে তা চূড়ান্তভাবে বাতিল করে পরিবেশবান্ধব টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণের জোর দাবি জানায় সংস্থাটি।
শু/আজা