নরসিংদীর মনোহরদীতে এক বৃদ্ধ দম্পতির বয়স্ক ভাতার টাকা তাঁদের মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে না গিয়ে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের স্ত্রী ও ছেলের ব্যবহৃত নম্বরে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সম্প্রতি যাচাই-বাছাইয়ের সময় ধরা পড়েছে। অভিযুক্ত মো. হাবিবুর রহমান চন্দনবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি। ভুক্তভোগী বৃদ্ধ দম্পতি মো. আজিজুল হক তালুকদার ও তাঁর স্ত্রী হোসনে আরা বেগম একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার বাড়ির বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান ওই দম্পতির জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য নেন। পরে মো. আজিজুল হক তালুকদার বয়স্ক ভাতার বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁদের নামে ভাতা হয়নি বলে জানান ওই ইউপি সদস্য।
সম্প্রতি স্থানীয় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ফেরদৌসী বেগম ওই দম্পতির জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য নিয়ে যাচাই-বাছাই করলে বিষয়টি সামনে আসে। পরে বয়স্ক ভাতাভোগীদের তালিকা যাচাই করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত আজিজুল হক তালুকদার ও তাঁর স্ত্রী হোসনে আরার নামে বরাদ্দ করা ভাতার টাকা নিয়মিত উত্তোলন করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আজিজুল হক তালুকদারের মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরের জায়গায় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. অমিত হাসান অমির ব্যবহৃত নম্বর এবং হোসনে আরার নম্বরের জায়গায় হাবিবুর রহমানের স্ত্রী মনোয়ারা মায়ার ব্যবহৃত নম্বর দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি তিন মাস পরপর প্রত্যেক ভাতাভোগীর নামে ১ হাজার ৯৬১ টাকা করে ওই দুই মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে পাঠানো হয়েছে। এভাবে এক বছরে দুই ভাতাভোগীর নামে মোট ১৫ হাজার ৬৮৮ টাকা পাঠানো হয়।
বয়স্ক ভাতার তালিকায় আজিজুল হক তালুকদারের নামের পাশে থাকা মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে যোগাযোগ করা হলে এক ব্যক্তি নিজেকে ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমানের ছেলে বলে পরিচয় দেন। বয়স্ক ভাতার টাকা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু জানি না। এ বিষয়ে বাবার সঙ্গে কথা বলেন।’
আজিজুল হক তালুকদার বলেন, ‘সরল বিশ্বাসে মেম্বারের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়েছিলাম। তিনি আমার ও স্ত্রীর মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরের জায়গায় তাঁর ছেলে ও স্ত্রীর নম্বর দিয়েছেন। আগে তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেও তিনি তা স্বীকার করেননি। পরে নারী মেম্বারের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। একজন জনপ্রতিনিধির কাছে এমনটা প্রত্যাশা করি না। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমি এলাকার অনেককেই বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিয়েছি। এর মধ্যে দুটি কার্ডে ভুল করে আমার ছেলে ও স্ত্রীর ব্যবহৃত নম্বর চলে গেছে। কীভাবে এমন হয়েছে, তা আমি বুঝতে পারছি না। এজন্য তাঁদের কাছে আমি ক্ষমা চেয়েছি।’
মনোহরদী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বলেন, ভাতাভোগীদের প্রতিটি মোবাইল নম্বর যাচাই-বাছাই করা হয়। তবে কিছু নম্বর বন্ধ থাকায় সেগুলো যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ইউপি সদস্যের মাধ্যমে বৃদ্ধ দম্পতির ভাতার টাকা তুলে নেওয়ার বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ওই টাকা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বয়স্ক ভাতার টাকা প্রকৃত ভাতাভোগীদের কাছে না গিয়ে অন্য ব্যক্তিদের নম্বরে কীভাবে গেল এবং এ ক্ষেত্রে কারও অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়।