রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষকসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। মামলার আসামি মাদক কারবারি শান্ত আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি এ জবানবন্দি দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মহানগর ডিবি পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, শান্তর জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের পেছনের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে।
জবানবন্দিতে শান্ত বলেন, হত্যাকাণ্ডের আগে আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ তার কাছে ইয়াবা কিনতে আসেন। তারা মোবাইল ফোন বন্ধক রেখে চারটি ইয়াবা কেনেন। পরে ওই ইয়াবা সেবনের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
এর আগে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধও আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তারা জানান, প্রথমে বন্ধু সীমান্তের বাড়িতে গিয়ে তিনটি ইয়াবা সেবন করেন। পরে আরও ইয়াবা কিনতে শান্তর বাসায় গিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধক রেখে চারটি ইয়াবা নেন। এরপর তারা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়ে ইয়াবা সেবন করছিলেন।
এ সময় স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী বাধা দিলে তাকে, তার স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রীয়মকে হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় তালাবদ্ধ একটি বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
মামলাটি বর্তমানে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তদন্ত করছে।