দুর্দান্ত লড়াই করেও শ্রীলঙ্কার কাছে শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। দুবাইয়ে নারী এশিয়া কাপের ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে ১১৫ রানের লক্ষ্য দিয়েও জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। এই জয়ে টানা তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের সামনে এখন সেমিফাইনালে ওঠার সমীকরণ পরিষ্কার। দুই ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশকে শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারাতে হবে। তিন ম্যাচে শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট ৬। আরব আমিরাতও বাংলাদেশের মতো ২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
দুবাইয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি জমে ওঠে। ১১৫ রানের লক্ষ্য খুব বড় ছিল না। শুরুতে শ্রীলঙ্কা সহজেই জয়ের পথে এগোচ্ছিল। কিন্তু মাঝের ওভারে বাংলাদেশের বোলাররা একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের চিত্র বদলে দেন। ৮২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কা যখন চাপে, তখন বাংলাদেশের সামনে জয়ের সম্ভাবনাই বেশি মনে হচ্ছিল।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। হার্শিতা সামারাবিক্রমার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ১৯.২ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা।
জয়ের জন্য শেষ দিকে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ঠান্ডা মাথার ব্যাটিং। সেই কাজটিই করেছেন হার্শিতা। চাপের মধ্যে দারুণ ধৈর্য ধরে ৩৭ বলে ৪৮ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর সঙ্গে শেষ দিকে নীলাক্ষিকা সিলভা ১৮ রান এবং কৌশিনি নুথিয়াঙ্গানা অপরাজিত ১১ রান করেন।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন মারুফা আক্তার। ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার রান তাড়ায় বড় ধাক্কা দেন তিনি। সুলতানা খাতুন ও রিতু মনি নেন একটি করে উইকেট।
শ্রীলঙ্কার ইনিংসের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়নি। লক্ষ্য ছোট হওয়ায় দ্রুত রান তুলতে শুরু করে লঙ্কান ওপেনাররা। তবে মারুফার আক্রমণে বাংলাদেশের বোলাররা দ্রুত ম্যাচে ফিরে আসেন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে চাপে ফেলে দেন তাঁরা।
একপর্যায়ে ৮২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে শ্রীলঙ্কা। তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে চলে এসেছে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু হার্শিতা একপ্রান্ত আগলে রাখেন। পরে নীলাক্ষিকা ও নুথিয়াঙ্গানাকে সঙ্গে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বড় শট খেলার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ। ওপেনার দিলারা আক্তার ২৬ বলে ২৬ রান করে দলকে ধীরগতির শুরু থেকে কিছুটা বের করে আনেন। জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ১০ বলে ১৪ রান করে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন।
তবে এরপর বাংলাদেশের ইনিংসের গতি কমে যায়। একপ্রান্তে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন সোবহানা মোস্তারি। ৪১ বলে ৩৪ রান করেন তিনি। কিন্তু ইনিংসের দ্বিতীয়ার্ধে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি বাংলাদেশ।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান করে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন চামুদি প্রাবোদা। ২১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। সুগান্দিকা কুমারি ২২ রানে নেন ২ উইকেট।
১১৫ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশের বোলাররা কঠিন করে তুললেও ব্যাটাররা শেষ পর্যন্ত সেই সংগ্রহকে যথেষ্ট বড় করতে পারেননি। ফলে জয় থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে গিয়েও ম্যাচটি হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের।
শ্রীলঙ্কার এই জয়ে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষস্থানও নিশ্চিত হয়েছে। তিন ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৬। বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পয়েন্ট ২ করে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আরব আমিরাতকে হারাতে পারলেই বাংলাদেশের সেমিফাইনালে ওঠার পথ পরিষ্কার হবে।