ছবি হাতে মায়েদের আকুতি—‘সন্তানকে খুঁজে দিন’

শিশু নিখোঁজের পর জিডি নিতেই গড়িমসি, উদ্ধারে তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন

আজাদ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৯
 ছবি:

মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য মায়ের চোখের আড়ালে গিয়েছিল চার বছরের সাইবা। রাজধানীর বনানী সৈনিক ক্লাবের সামনের ফুটওভার ব্রিজের কাছে জুতা কিনছিলেন মা বিথী আক্তার। মেয়েকে পাশে দাঁড় করিয়ে রেখে দোকানে মনোযোগ দিয়েছিলেন তিনি। ফিরে এসে দেখেন, সাইবা নেই। সন্তানকে খুঁজতে প্রথমেই থানায় ছুটে যান বিথী। তাঁর অভিযোগ, নিখোঁজের দিন বনানী থানায় গেলেও পুলিশ তাঁর অভিযোগ নেয়নি। তাঁকে নিজেদের মতো করে আগে খুঁজতে বলা হয়। পরদিনও তাঁকে থানা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কয়েক দফা যাওয়ার পর তৃতীয় দিন, ১ সেপ্টেম্বর, জিডি নেয় পুলিশ। এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সাইবার সন্ধান মেলেনি। শুধু সাইবার পরিবার নয়, দীর্ঘদিন ধরে সন্তান নিখোঁজ থাকা আরও বহু পরিবারের অভিযোগও প্রায় একই—শিশু নিখোঁজের পর থানায় জিডি করতে গেলে গড়িমসি করা হয়, আর জিডি নেওয়ার পর তদন্ত ও উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা নিয়েও তাঁদের হতাশা রয়েছে।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘আমার সন্তান কোথায়?’ শিরোনামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন অন্তত দুই ডজন নিখোঁজ শিশুর স্বজন। আয়োজকদের হিসাবে, অনুষ্ঠানে ৩৫টি পরিবার অংশ নেয়। কারও হাতে ছিল সন্তানের ছবি, কারও হাতে নিখোঁজ হওয়ার তারিখ লেখা প্ল্যাকার্ড। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানাতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

স্বজনদের অভিযোগ, সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁদের অনেককে নিজেরাই খোঁজ করতে বলা হয়। দরিদ্র পরিবারের ক্ষেত্রে অর্থ, প্রভাব বা স্থানীয় রাজনৈতিক যোগাযোগ না থাকলে পুলিশের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

‘বাচ্চা খুঁজে বের করা পুলিশের কাজ নয়’

সাইবার নানি শরীফা বেগমের অভিযোগ, জিডির তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে আলাদা ডেকে বলেছিলেন, ‘বাচ্চা খুঁজে বের করা পুলিশের কাজ নয়, আমাদের অন্যান্য কাজ আছে; আপনারা নিজেরা খোঁজ পেলে জানাবেন, আমরা গিয়ে উদ্ধার করে দেব।’ শরীফার দাবি, ওই কর্মকর্তা তাঁদের এমনও পরামর্শ দেন যে তাঁরা যেহেতু বস্তিতে থাকেন এবং দরিদ্র, তাই কোনো প্রভাবশালী স্থানীয় নেতাকে ধরলে কাজ হতে পারে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিডির তদন্ত কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন। তিনি বলেন, জিডির কপি পাওয়ার পরপরই তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে শিশুটি যেখান থেকে নিখোঁজ হয়েছে, সেখানে সিসিটিভি না থাকায় ফুটেজ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে যা করণীয়, তা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

পুলিশের বিরুদ্ধে জিডি নিতে গড়িমসির অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, কোন থানায় গিয়ে কারা অসহযোগিতার শিকার হয়েছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, শিশু নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখার জন্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা রয়েছে। কোনো পুলিশ সদস্য জিডি নিতে অনীহা দেখালে বা অসহযোগিতা করলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘শিশু উদ্ধারে জিডি নেওয়াই শুধু না, উদ্ধার করাও পুলিশের কাজ। যিনি এটা বলেছেন, ঠিক বলেন নাই।’

সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ জিডি

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই—এই সাত মাসে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮ জন। অর্থাৎ এ সময়ে নিখোঁজ হওয়া শিশুদের প্রায় ১৩ শতাংশের সন্ধান এখনো মেলেনি।

তথ্য অনুযায়ী, শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ৪৭৪টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৬৮ জন এখনো নিখোঁজ। ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোর নিখোঁজের ঘটনায় জিডির সংখ্যা অনেক বেশি—১৫ হাজার ২৪৩। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ ১ হাজার ৯৭০ জন। আগের বছরগুলোর হিসাবও উদ্বেগের। ২০২৩ সালে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৭ হাজার ৮০৮টি জিডি হয়েছিল। ২০২৪ সালে ১৬ হাজার ৪১৪ এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০টি জিডি হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ছোট শিশুরা সাধারণত পরিবারের সঙ্গে অপরিচিত জায়গায় গিয়ে পথ হারানো, পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারা কিংবা একা বাড়ি ফেরার সময় অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে নিখোঁজ হয়। ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে অভিমান, পারিবারিক কলহ, পড়াশোনার চাপ, বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব এবং স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষাসহ নানা কারণ রয়েছে।

তবে এই ব্যাখ্যার বাইরে থাকা অপহরণ, পাচার বা অপরাধের সম্ভাবনাও প্রতিটি ঘটনায় গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করেন নিখোঁজ শিশুদের স্বজনেরা।

‘ছেলে হারিয়ে আমি অপরাধী হয়ে গেছি’

১৩ মে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় শিশু মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তার বাবা মোহাম্মদ জসিম পেশায় ফুচকা বিক্রেতা।জসিমের দাবি, তাঁর ছেলে রাত ৭টা ৪০ মিনিটে বাসার ভবনে ঢোকে। ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে তাকে ঢুকতে দেখা গেলেও পরে বের হতে দেখা যায়নি। তাঁর অভিযোগ, পল্লবী থানায় প্রথমে জিডি নেওয়া হয়নি। ১৫ মে জিডি নেওয়ার পরও দিনের পর দিন তাঁকে ঘোরানো হয়। পরে ১৭ দিন পর মামলা নেওয়া হয় এবং তদন্তভার ডিবির কাছে দেওয়া হয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জসিম বলেন, ‘থানায় আমরা এতবার গেছি-আসছি যে, ছেলে হারাইয়া আমি অপরাধী হয়ে গেছি। পুলিশ প্রশাসনের কোনো সাড়া পাই নাই।’ দরিদ্র হওয়ায় সন্তানের সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় ছুটে বেড়ানো তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারের কাছে তাঁর আবেদন, যেভাবেই হোক তাঁর সন্তানকে খুঁজে দেওয়া হোক।

১৬ মাস ধরে তামিমের অপেক্ষা

রাজবাড়ীর পাংশা থেকে ঢাকায় এসেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মো. নজরুল ইসলাম। গত বছরের ২০ মে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তাঁর ১৫ বছর বয়সী ছেলে তামিম ওরফে আবদুল্লাহ নিখোঁজ হয়। নজরুল নিজে দীর্ঘদিন পুলিশে চাকরি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, শুরুতে পুলিশ সহযোগিতা করলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই সহযোগিতা কমে যায়।

তিনি বলেন, ‘১৬ মাস পথে পথে দৌড়াইতে দৌড়াইতে মন-মানসিকতা কোনোটাই ঠিক নাই। নিজে সাবেক সদস্য হয়েও পুলিশের কাছে তেমন সাহায্য-সহযোগিতা পাইনি।’ সন্তানের সন্ধানে ২৫ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে বলে জানান তিনি। এখন তাঁর কাছে আর্থিক সামর্থ্যও নেই। কান্নায় ভেঙে পড়ে নজরুল বলেন, ‘আমার যা কিছু আছে, আমি সবকিছু দিয়ে দেব। আমি আমার সন্তানকে চাই।’

আটক করা যুবককে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

খুলনার কয়রা থেকে গত বছরের ২৬ আগস্ট নিখোঁজ হয় শিশু সামিরা। মা বিলকিস বেগমের অভিযোগ, নিখোঁজের পর স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে ‘আজমির’ নামের এক যুবককে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বিলকিসের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই যুবক শিশুটিকে চেনার কথা স্বীকার করলেও পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেনি। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর আর সামিরার সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিলকিসের অভিযোগ, ঘটনার শুরুতেই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে কঠোরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হয়তো তাঁর মেয়েকে উদ্ধার করা সম্ভব হতো।

এ ধরনের অভিযোগের মধ্যেই তদন্তে পুলিশের প্রাথমিক তৎপরতা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে শিশু নিখোঁজের প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তখনই যদি জিডি গ্রহণ, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ, পরিবহনকেন্দ্র ও সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা এবং সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার কাজ দ্রুত না হয়, তাহলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।

‘নিজেরা খুঁজবেন’—এমন নির্দেশনার সুযোগ নেই

পুলিশের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, শিশু নিখোঁজের ঘটনায় স্বজনদের নিজেদের মতো করে খুঁজতে বলা পুলিশের দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর ভাষায়, ‘এমনটি বলার সুযোগ নাই।’ তিনি বলেন, অনলাইন জিডির ব্যবস্থাও রয়েছে। অনলাইনে জিডি গ্রহণে বিলম্বের সুযোগ নেই। কোনো থানায় গিয়ে অসহযোগিতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অর্থাৎ পুলিশের নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট—নিখোঁজ শিশুর ক্ষেত্রে জিডি গ্রহণ করা এবং উদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। এখন প্রশ্ন হলো, মাঠপর্যায়ে সেই নির্দেশনা কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মুন অ্যালার্টে ১,২২৬ অভিযোগ

নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত শনাক্ত ও উদ্ধারে সামাজিক সংগঠন জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মুন অ্যালার্ট কার্যক্রম চালু হয়েছে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, কার্যক্রম চালুর পর থেকে শিশু নিখোঁজের ১ হাজার ২২৬টি অভিযোগ এসেছে। এর মধ্যে পুলিশের সহযোগিতায় আট শতাধিক শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। ১৭১টি ক্ষেত্রে অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে এবং অ্যালার্ট জারির পর ১১৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়কারী সাদাত রহমান বলেন, শিশু নিখোঁজের ঘটনায় দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন সংস্থাকে একই সঙ্গে সক্রিয় করার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা দরকার।

২০২৪ সালে সিলেটে শিশু মুনতাহা নিখোঁজ ও হত্যার পর বাংলাদেশে ‘অ্যাম্বার অ্যালার্ট’ ধরনের ব্যবস্থা চালুর দাবি ওঠে। এ দাবিতে এক লাখ মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয় বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহযোগিতায় মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন বা ‘মুন অ্যালার্ট’ এবং ১৩২১৯ টোল হেল্পলাইনের পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়।

নিখোঁজ শিশুর পরিবারও যেন তদন্তের অংশীদার হয়

সংবাদ সম্মেলনে স্বজনদের দাবির মধ্যে ছিল নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ টিম গঠন, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ঘটনাগুলোর পুনঃতদন্ত, শিশু পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া।

তাঁদের অভিজ্ঞতা বলছে, সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারকে শুধু থানায় জিডি করে অপেক্ষা করতে হলে অনেক সময় মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। আবার কোনো পরিবার দরিদ্র হলে বা রাজনৈতিক-সামাজিকভাবে প্রভাবশালী না হলে তাদের অভিযোগের গুরুত্ব কমে যায়—এমন অভিযোগও রয়েছে।

তাই শিশু নিখোঁজের ক্ষেত্রে জিডিকে নিছক একটি প্রশাসনিক নথি হিসেবে না দেখে তাৎক্ষণিক অনুসন্ধানের সূচনা হিসেবে দেখার দাবি উঠেছে। নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টায় পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, কোন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে, সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ হয়েছে কি না, শিশুর ছবি ও তথ্য কোথায় পাঠানো হয়েছে—এসবের একটি জবাবদিহিমূলক কাঠামো থাকা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন স্বজনেরা। কারণ পরিসংখ্যানের ২ হাজার ৩৮ জন শুধু সংখ্যা নয়। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি অপেক্ষা এবং অনিশ্চয়তায় থাকা একেকটি জীবন।

স্বপ্না আক্তার যেমন মেয়ের ছবি হাতে নিয়ে বলছিলেন, ‘মেয়ে বেঁচে আছে, নাকি মরে গেছে, সেটাও জানি না। কিন্তু মেয়েকে পাওয়ার আশা একমুহূর্ত ছাড়তে পারি না।’ আর তামিমের বাবা নজরুল ইসলামের আকুতি—‘আমি আমার সন্তানকে চাই।’

নিখোঁজ শিশুদের পরিবারগুলোর প্রশ্ন তাই একটাই: সন্তান হারানোর পর তাঁদের আর কত দিন নিজেরাই খুঁজে বেড়াতে হবে? আর পুলিশের কাছে তাঁদের সন্তানকে খুঁজে দেওয়ার দায়িত্বটি কার্যকরভাবে শুরু হবে কখন?

তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সাক্ষাৎ

মিয়ামি বিমানবন্দরে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫

তিতুমীর কলেজে Clean & Green Campus-এর উদ্যোগে নির্মল বায়ু দিবস ২০২৬ পালিত

আশা জাগিয়েও পারল না বাংলাদেশ

চীনা প্রেমিক টাঙ্গাইলে এলেন বিয়ে করতে, আপত্তিতে ফিরলেন ঢাকায়

মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুটজয়ী জোহেইরি মোলা, কে এই তরুণী

শিশু নিখোঁজের পর জিডি নিতেই গড়িমসি, উদ্ধারে তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন

সরকারি স্কুলের পুকুর ভরাটের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

র‌্যাবের স্টিকারযুক্ত গাড়িতে জবির প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা, পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন

১০

শেষ পর্ব : রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এত অস্ত্র কোত্থেকে এলো?

১১

রোহিঙ্গা সংকট: প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় প্রায় ১২ লাখ, বাড়ছে নিরাপত্তা ও মানবিক চাপ

১২

হত্যা মামলার ‘পলাতক’ আসামি আহসান লাবিব ছাত্রশক্তির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি

১৩

বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ বিল পাস

১৪

রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধরে রাখাই লক্ষ্য: শামা ওবায়েদ

১৫

মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা: অর্থমন্ত্রী

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত