ক্রীড়া ফেডারেশন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের তদন্তে দুর্নীতি দমন বিভাগ ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কাজ করছে। দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় মাসব্যাপী নারী ও পুরুষদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল হক বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই খেলাধুলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্রীড়াঙ্গনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতিটি ফেডারেশন এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
ক্রীড়াকে পেশাদার পর্যায়ে উন্নীত করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫টি ইভেন্ট নিয়ে বার্ষিক ক্রীড়া ক্যালেন্ডার ঘোষণা করা হবে। জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলো বছরজুড়ে এসব ইভেন্ট বাস্তবায়ন করবে।
তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করতে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য হচ্ছে, স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো এবং নতুন খেলোয়াড় তৈরি করা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলা স্টেডিয়ামগুলো আধুনিকায়ন করে খেলার উপযোগী করা হবে, যাতে এসব অবকাঠামো থেকে মানসম্মত খেলোয়াড় উঠে আসতে পারেন। ঢাকার সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) ছাড়াও দেশের অন্যান্য স্থানে থাকা বিকেএসপিগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আধুনিক করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দেশের আট বিভাগের স্টেডিয়াম পর্যায়ক্রমে আধুনিকায়নের পরিকল্পনার কথাও জানান আমিনুল হক। রংপুরে একটি বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়েও পরিকল্পনা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হ্যান্ডবল ও ভলিবল খেলোয়াড়দের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে তিনি রংপুর আবু সাঈদ স্টেডিয়াম ও রংপুর ক্রিকেট গার্ডেন পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ-উন-নবী ডন, ক্রীড়া সংগঠক মঞ্জুর রহমান আজাদ, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাবেক খেলোয়াড় এবং স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকেরা।