চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের একটি গলির বসতবাড়ির দেয়ালে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় হাসিনা’, ‘মুজিব সেনা’ ও ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বর’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান লেখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এসব স্লোগান বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রী লিখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে গোপালগঞ্জ সরকারি জেলা স্কুলে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’সহ রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় নয় শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র (টিসি) দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
চুয়াডাঙ্গার ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে দেয়ালে লেখা স্লোগানগুলো। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগের দিন বুধবার দিনের কোনো এক সময়ে বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রী এসব স্লোগান লেখে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেয়ালের লেখাগুলো মুছে ফেলে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের সামনের গলির বসতবাড়ির দেয়ালে কালো ও সাদা রঙের স্প্রে দিয়ে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় হাসিনা’, ‘মুজিব সেনা’, ‘উই আর মুজিব সেনা’ ও ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বর’ লেখা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম বলেন, স্লোগান লেখার সঙ্গে কয়েকজন ছাত্রী জড়িত বলে জানা গেছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে দেয়াল থেকে লেখাগুলো মুছে ফেলা হয়েছে। জড়িত ছাত্রীদের অভিভাবকদের ডেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। এরপর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা হিমেল রানা বলেন, ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ছাত্রীদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি পাওয়া গেছে। কারও নির্দেশনা বা প্ররোচনায় তারা এসব স্লোগান লিখেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি জাকির হোসেন জ্যাকিসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দেয়ালে স্লোগান লেখার বিষয়টি নিজেদের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেছেন। এ নিয়ে তাঁরা বিভিন্ন মন্তব্যও করেছেন।
গোপালগঞ্জে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি
চুয়াডাঙ্গার ঘটনার আগে গত ৬ অক্টোবর গোপালগঞ্জ সরকারি জেলা স্কুলের শ্রেণিকক্ষের সামনের বারান্দায় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে রাজনৈতিক স্লোগান দিতে দেখা যায়। তাদের দেওয়া স্লোগানের মধ্যে ছিল ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনার পরদিন ৭ অক্টোবর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে। বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রতিবেদনটি প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেওয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার নয় শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ছাড়পত্র পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলো নবম শ্রেণির মো. আলীরাজ, শাহজালাল মুন্সি, কাজী সাইদুল ইসলাম সাইদ, শ্রান্ত মজুমদার, শেখ আব্দুল্লাহ তাসীন, রাইয়ান খান ও রিয়াজুল মুন্সি। এ ছাড়া অষ্টম শ্রেণির রেজাউল করীম এবং দশম শ্রেণির সাজিদ কাজী।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে টিফিনের পর কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাসরুমের সামনের বারান্দায় রাজনৈতিক স্লোগান দেয়। এ সময় তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ স্লোগান দেয়। পরে ঘটনাটি মুঠোফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়।
ঘটনার পরদিন ৭ অক্টোবর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিও পর্যালোচনা করে। গত বুধবার (৪ নভেম্বর) তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেওয়া হয়। এরপর অভিযুক্ত নয় শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনা তদন্ত করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা শেষে বুধবার প্রতিবেদন প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হক বলেন, গত ৬ অক্টোবর বিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী স্লোগান দেয়। ঘটনার সময় তিনি নামাজে ছিলেন। পরে নামাজ শেষে গোয়েন্দা সংস্থা থেকে ফোন করে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। অন্যান্য শিক্ষকের কাছ থেকে শুনে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের টিসি দেওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের পক্ষে-বিপক্ষেও নানা মন্তব্য করেছেন অনেকে।