নিজেদের ইসলামি দল বলে দাবি করা রাজনৈতিক দলগুলোর দলিল ও মনোগ্রাম থেকে ‘আকিমুদ দ্বীন’ বাদ দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এসব দল মুখে ইসলামের কথা বললেও তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ইসলামী শাসনব্যবস্থা বা শরিয়াভিত্তিক আইন চালুর বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেই।
শুক্রবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ঐতিহ্যবাহী আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগরীর ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যারা নিজেদের ইসলামি দল হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে, তারা কখনো নির্বাচনী ইশতেহারে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা কিংবা শরিয়াভিত্তিক আইন চালুর কথা বলেনি। বরং শরিয়াভিত্তিক শাসনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। মুখে এক কথা বললেও তাদের দলিল ও মনোগ্রামে কী রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
হেফাজতে ইসলামের ভূমিকা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের সংকটকালে অরাজনৈতিক সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও হেফাজতে ইসলাম দ্বীন, দেশ ও ইসলামবিদ্বেষী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছে। সংগঠনটির বর্তমান আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ২৩ বছর লেগেছে। আর ফ্যাসিবাদী ও আলেম-ওলামাবিরোধী সরকারের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করতে ১৬ থেকে ১৭ বছর আন্দোলন করতে হয়েছে। শাপলা চত্বরে অনেক আলেম-ওলামা প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের অনেকের নাম ও কবরের ঠিকানাও এখনো জানা যায়নি।
জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ওই অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে ১৬-১৭ বছরে প্রায় তিন হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় সাত হাজার মানুষ হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ হামলা-মামলার মাধ্যমে নিপীড়িত হয়েছেন।
গার্মেন্টস খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা নিয়েও সতর্ক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা এ খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের পেছনে ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত রয়েছে। কিছু দুষ্কৃতকারী ইসলামের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করছে, অথচ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ইসলামের বিষয়টি নেই বললেই চলে।
এর আগে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে সম্মেলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া ও জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামারা বক্তব্য দেন। দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। শুক্রবার রাতে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় সম্মেলন শেষ হয়।