চার্চের জমিও প্রকল্পের নকশায়, অনুমোদন ছাড়াই বিক্রির দাবি

জমি নেই, নকশায় হাজারো প্লট: নিমতলা হাউজিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১০
 ছবি:

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কসংলগ্ন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলায় ফসলি জমিতে আবাসন প্রকল্পের নামে শত শত প্লট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ‘নিমতলা হাউজিং লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রকল্প অনুমোদন নেই, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। জেলা প্রশাসনের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) নেওয়ার তথ্যও পাওয়া যায়নি। অথচ চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্লট বিক্রি করছে তারা। অভিযোগ রয়েছে, নকশায় যে প্লট দেখানো হচ্ছে, ক্রেতাকে দেওয়া হচ্ছে অন্য দাগের জমি। প্রকল্পের নকশায় বিশাল খেলার মাঠ, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জায়গা দেখানো হলেও সেসব জমির মালিকানা ও অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির নকশায় ৩ হাজার ৯৫টি প্লট দেখানো হয়েছে। এসব প্লটের মোট আয়তন ১১ হাজার ৫৬৫ কাঠা। কিন্তু দলিলপত্র পর্যালোচনায় প্রতিষ্ঠানটির নামে পাওয়া গেছে মাত্র ৫৭০ কাঠা জমি। অর্থাৎ নকশায় দেখানো জমির তুলনায় দলিলে পাওয়া জমির পরিমাণ অনেক কম। স্থানীয় জমির মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যেও প্রকল্পের জমির মালিকানা নিয়ে অসংগতি উঠে এসেছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, ইতোমধ্যে তিন শতাধিক প্লট বিক্রি হয়েছে; আরও তিন শতাধিক বিক্রির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব প্লটের বড় অংশ কিনেছেন প্রবাসীরা। কৃষিজমির সরকারি নির্ধারিত দাম যেখানে প্রতি শতাংশ ৬৬ হাজার ৬৩৩ টাকা, সেখানে প্লট হিসেবে জমি বিক্রি করা হচ্ছে ৯ লাখ টাকার বেশি দামে।

যৌথ মালিকানায় গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন খান বাবুল। পরিচালক মজিবুর রহমান, রবিউল আলম ও ইউসুফ আহম্মেদ সুমন। ক্রেতা থেকে অংশীজন হয়েছেন নাজমা আক্তার। চেয়ারম্যানসহ একাধিক পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা বক্তব্য দিতে রাজি হননি। পরে চেয়ারম্যানের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের হেড অব মার্কেটিং ইউসুফ সুমন স্ট্রিম কার্যালয়ে এসে প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।

অনুমোদন ছাড়াই প্লট বিক্রি

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন থাকলেও প্রকল্প অনুমোদন নেই নিমতলা হাউজিংয়ের। কর্তৃপক্ষের ডেভেলপার এনলিস্টমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘নিমতলা হাউজিং লিমিটেড নামে কাউকে কোনো প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। প্রকল্প অনুমোদন ছাড়া প্লট বিক্রি কিংবা বিজ্ঞাপন বেআইনি ও অপরাধ। এই ধরনের কিছু পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধনের বিষয়টি উল্লেখ করে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হলেও নিবন্ধন আর প্রকল্প অনুমোদন এক নয় বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, নিবন্ধন মানে প্রকল্প উপস্থাপনের জন্য প্রাথমিক সদস্যপদ পাওয়া। প্রকল্প অনুমোদনের আগে প্লট বিক্রি, চুক্তি কিংবা বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ নেই।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিবন্ধনের জন্য ৫০ হাজার টাকা লাগে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক নিবন্ধন নিয়েই প্লট বিক্রি শুরু করে, পরে ক্রেতারা বিপাকে পড়েন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও নেয়নি নিমতলা হাউজিং। অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, এই নামে কোনো প্রতিষ্ঠানকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া প্রকল্প পরিচালনা করা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগেও প্রতিষ্ঠানটির নামে প্রকল্পসংক্রান্ত নথি পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক বলেন, ‘নিমতলা হাউজিং লিমিটেড নামে কোনো কোম্পানি এনওসির জন্য কখনো আবেদন করেনি।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূম্পা ঘোষ বলেন, নথি যাচাই করা হবে। অবৈধভাবে আবাসন ব্যবসা চালালে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নকশায় স্কুল-হাসপাতাল, বাস্তবে নেই

ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নিমতলা হাউজিংয়ের বিজ্ঞাপনে মালয়েশিয়ার মন্টকিয়ারা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং সিঙ্গাপুরের মাউন্ট আলভারনিয়া হাসপাতালের শাখা স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে এমন পরিকল্পনার সত্যতা পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানটির হেড অব মার্কেটিং ইউসুফ সুমন বিজ্ঞাপনের তথ্য সত্য নয় বলে স্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, অফিসের নির্বাহীরা বিজ্ঞাপনটি তৈরি করেছিলেন। এ ধরনের কর্মী আর রাখা হবে না বলেও জানান তিনি।

প্রকল্পের অবস্থান নিয়েও বিজ্ঞাপন ও বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নকশায় নিমতলা রেলস্টেশন থেকে সরাসরি সড়ক দিয়ে প্রকল্পে যাওয়ার পথ দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ওই সড়কের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। নিকটবর্তী নিমতলা বাজার থেকে সরু পথে প্রকল্প এলাকায় যেতে প্রায় ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়।

স্থানীয় সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দেয়ালে নিমতলা হাউজিংয়ের সৌজন্য ব্যানারও দেখা গেছে। সেখানে সৌন্দর্যবর্ধনের স্পনসর হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির নাম রয়েছে। তবে এ ধরনের প্রচার বা স্থানীয় কার্যালয়ে ব্যানার থাকা প্রকল্পের বৈধ অনুমোদনের প্রমাণ নয়।

চার্চের জমিও প্রকল্পের নকশায়

নিমতলা এলাকায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বহু পরিবারের বসবাস। স্থানীয় চার্চেরও উল্লেখযোগ্য সম্পত্তি রয়েছে। সম্প্রতি উন্নয়ন প্রকল্পে চার্চের সম্পত্তির বড় অংশ অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় নিমতলা হাউজিংসহ কয়েকটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে কম দামে জমি কেনার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসিন্দা বলেন, আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি জমি দখল না করলেও চারপাশের জমি কিনে এমন পরিস্থিতি তৈরি করে, যাতে অন্য মালিকেরা কম দামে জমি বিক্রি করতে বাধ্য হন। তাঁর অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের লোকজন প্রভাবশালী হওয়ায় জমির মালিকেরা চাপের মুখে পড়েন।

নিমতলা হাউজিংয়ের নকশায় দেখানো জমির একটি বড় অংশ শুলপুর চার্চের মালিকানাধীন বলে দাবি করেছেন চার্চের প্রধান ফাদার কমল কোড়াইয়া। তিনি বলেন, ‘নিমতলার নকশায় যা আছে, অধিকাংশ আমাদের জায়গা। তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে তারা এসব জমি নিতে চেয়েছে। আমরা এখনো বিক্রির সিদ্ধান্ত নিইনি।’

চার্চের পক্ষ থেকে জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জমিকে আবাসন প্রকল্পের অংশ হিসেবে দেখানো এবং সেখানে প্লট বিক্রির প্রচারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জমির মালিকানা বা সংশ্লিষ্ট চুক্তির কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

প্রবাসীদের লক্ষ্য করে বিক্রি

নিমতলা হাউজিংয়ের হেড অব মার্কেটিং ইউসুফ সুমন জানিয়েছেন, তাঁদের প্রকল্পের প্রধান ক্রেতা প্রবাসীরা। এ পর্যন্ত বিক্রি হওয়া প্লটের অর্ধেকের বেশি প্রবাসীরা কিনেছেন বলে তাঁর দাবি। প্রবাসীদের আকৃষ্ট করতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব বিজ্ঞাপন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের কাছেও পৌঁছানো হচ্ছে।

তবে প্রবাসী ক্রেতাদের জমির বাস্তব অবস্থান যাচাই করা কঠিন হওয়ায় তাঁদের কেউ কেউ স্থানীয় প্রতিনিধি বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি পাওয়া ব্যক্তির মাধ্যমে জমি কেনেন। এ সুযোগে নকশায় দেখানো প্লটের বদলে অন্য স্থানের জমি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জমি বিক্রিতে সহায়তার জন্য প্রতিনিধিদের কমিশন দেওয়া হয় বলেও স্বীকার করেছেন ইউসুফ সুমন।

এমন একজন প্রতিনিধি ইসমাইল জাকারিয়ার সন্ধান পেয়েছে স্ট্রিম। তিনি প্রবাসী দুই ভাই মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ও মোশারফের সম্পত্তি দেখভাল করেন। নিমতলা হাউজিংয়ের হয়ে কাজ করার বিনিময়ে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। তবে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, জাকারিয়া নিজের দুই ভাইয়ের নামে জমি কিনতে সহায়তা করেও দেড় লাখ টাকা কমিশন নিয়েছেন।

প্রবাসী জহিরুল ইসলাম বিজ্ঞাপন দেখে নিমতলা হাউজিং থেকে প্লট কেনেন। তাঁকে এ-১ ব্লকের ৩ নম্বর সড়কের ৩১ ও ৩২ নম্বর প্লট দেখানো হয়েছিল। কিন্তু দলিল বিশ্লেষণে স্ট্রিম জানিয়েছে, নকশায় দেখানো প্লটের সঙ্গে দলিলে উল্লিখিত জমির মিল পাওয়া যায়নি। দলিল অনুযায়ী, জমিটি সিরাজদিখান মৌজার ৬৩২ নম্বর দাগে, যা এখনো ফসলি জমি। অথচ নকশায় ওই জায়গাকে প্রস্তুত প্লট হিসেবে দেখিয়ে জমিটি ৪৮ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জহিরুলকে প্লট কিনতে সহায়তা করেছিলেন স্থানীয় প্রতিনিধি জামাল উদ্দীন। তিনিও কমিশন নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, নিজের পরিচিতদের মাধ্যমে অনেক প্লট বিক্রি করলেও কারও কাছ থেকে কমিশন নেননি।

অন্যদিকে ইউসুফ সুমন বলেন, ‘চুক্তির সময়ে লিখিত থাকে—চাইলে যে কাউকে যেকোনো জায়গায় প্লট দিতে পারবে কোম্পানি।’ প্লট বিক্রিতে সহায়তাকারীদের কমিশন দেওয়া হয় বলেও স্বীকার করেন তিনি।

তবে চুক্তিতে এমন শর্ত থাকলেই ক্রেতাকে নির্দিষ্ট প্লট দেখিয়ে অন্য দাগের জমি দেওয়ার বিষয়টি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয়ে যায় কি না, তা চুক্তির ভাষা, জমির দলিল, ক্রেতাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং প্রযোজ্য আইন পর্যালোচনা করে নির্ধারণ করতে হবে। বিশেষ করে ক্রেতা কোন জমি কিনছেন, তার অবস্থান ও মালিকানা সম্পর্কে তাঁকে কী তথ্য দেওয়া হয়েছিল, তা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতি শতাংশের দাম ৬৬ হাজার, প্লট হিসেবে ৯ লাখের বেশি

সরকার নির্ধারিত হিসাবে প্রকল্প এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষিজমির দাম প্রতি শতাংশ ৬৬ হাজার ৬৩৩ টাকা। কিন্তু নিমতলা হাউজিং প্লট হিসেবে জমি বিক্রি করছে ৯ লাখ টাকার বেশি দামে। জমির অবস্থান, উন্নয়ন ব্যয়, অবকাঠামো ও অনুমোদনের ভিত্তিতে আবাসিক প্লটের দাম কৃষিজমির চেয়ে বেশি হতে পারে। কিন্তু প্রকল্পের অনুমোদন, জমির মালিকানা এবং অবকাঠামোর বাস্তব অস্তিত্ব নিশ্চিত না করে বেশি দামে প্লট বিক্রি করা হলে ক্রেতাদের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হয়।

এ ক্ষেত্রে প্রকল্পের নকশায় দেখানো ১১ হাজার ৫৬৫ কাঠা জমির বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির নামে মাত্র ৫৭০ কাঠার দলিল পাওয়ার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বাকি জমির মালিক কে, সেসব জমির মালিকদের সঙ্গে কোনো বৈধ চুক্তি হয়েছে কি না, জমি অধিগ্রহণ বা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে কি না—এসব তথ্য ছাড়া নকশার সব প্লট বিক্রির সক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞাপনে স্কুল, হাসপাতাল, সড়ক ও অন্যান্য সুবিধার প্রতিশ্রুতি থাকলেও সেগুলোর বাস্তবতা যাচাই করা প্রয়োজন। প্রকল্প অনুমোদন না থাকা অবস্থায় এসব সুবিধা দেখিয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্তের বিষয়।

তদন্ত ও জবাবদিহি জরুরি

নিমতলা হাউজিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো জমির মালিকানা, প্রকল্প অনুমোদন, বিজ্ঞাপনের সত্যতা এবং ক্রেতাকে নির্দিষ্ট প্লট বুঝিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির নামে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অনুমোদন বা ছাড়পত্র নেই। জেলা প্রশাসনও এনওসির আবেদন পাওয়ার তথ্য অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, প্রকল্পের নকশায় দেখানো জমির তুলনায় দলিলে কম জমি পাওয়া এবং ক্রেতার দলিলের সঙ্গে দেখানো প্লটের অমিলের অভিযোগ আরও তদন্তের দাবি রাখে।

এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত প্রকল্পের নকশা, জমির দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর, বিক্রয়চুক্তি, বিজ্ঞাপন ও ক্রেতাদের অর্থ পরিশোধের নথি যাচাই করা। ইতোমধ্যে যাঁরা প্লট কিনেছেন, তাঁদের জমির প্রকৃত অবস্থান ও মালিকানা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ক্রেতাদেরও জমির দলিল, প্রকল্প অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র যাচাই না করে অর্থ পরিশোধ না করার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

আবাসন প্রকল্পের নামে জমি বিক্রি শুধু ব্যবসায়িক লেনদেন নয়; এর সঙ্গে মানুষের সঞ্চয়, ভবিষ্যৎ বাসস্থান ও সম্পত্তির নিরাপত্তা জড়িত। বিশেষ করে প্রবাসীদের ক্ষেত্রে সরেজমিনে জমি যাচাই করার সুযোগ সীমিত থাকায় স্বচ্ছ নথি ও কার্যকর তদারকি আরও গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে; আর যেসব দাবি এখনো যাচাই হয়নি, সেগুলোর বিষয়ে নথিভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো প্রয়োজন।

১

রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘ ছায়া: মাদকের বিস্তার, চাপে পরিবেশ-অর্থনীতি ও নিরাপত্তা

২

পাখি দেখা মস্তিষ্কের বার্ধক্য ধীর করতে পারে, ডিমেনশিয়ার যত্নেও বাড়ছে ব্যবহার

৩

উইকেট যেমনই হোক, ‘হার্ড ওয়ার্ক’ দেখতে চান সিমন্স

৪

বোমা ফাটিয়ে অর্ধশতাধিক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

৫

আজকের তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীরাই জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব : রাষ্ট্রপতি

৬

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

৭

সেন্টমার্টিন খুলছে ১ নভেম্বর, অগ্নিনিরাপত্তায় ঝুঁকিতে ১৫০ হোটেল-রিসোর্ট

৮

লালমনিরহাটে বাঘের আক্রমণে আহত ৩, ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি

৯

সাফের প্রথম ম্যাচে হামজা-ফারহানকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ

১০

মিরপুরের উইকেট নিয়ে প্রশ্নে হাসিতে ফেটে পড়লেন স্যামি

১১

ব্যক্তিগত মাইলফলকের চেয়ে বার্সেলোনার বিপক্ষে জয়ই বড় এমবাপের কাছে

১২

নতুন কারও হাতে ব্যালন ডি’অর, দৌড়ে এগিয়ে হ্যারি কেইন!

১৩

সেন্টমার্টিনে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে রাতযাপনের সুযোগ, যেতে লাগবে ট্রাভেল পাস

১৪

গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অভিযুক্তের বাড়ি, তুলে নেওয়া হচ্ছে মাটিও

১৫

‘বিরোধী দলে থাকতেই বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর দিতে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবেন’

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত