ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে উইকেট যেমনই হোক, দলের কাছ থেকে কঠোর পরিশ্রম ও লড়াই দেখতে চান বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। মিরপুরের উইকেট নিয়ে আলোচনা থাকলেও সিরিজ শুরুর আগে পিচের চরিত্র নিয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। তবে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রত্যাশা করছেন বাংলাদেশের কোচ।
বুধবার মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ। ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে দুই ম্যাচেই জয়ের বিকল্প নেই স্বাগতিকদের সামনে।
সিরিজ শুরুর আগে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে মিরপুরের উইকেট। কয়েক বছর আগেও উপমহাদেশের বাইরের দলগুলোর বিপক্ষে স্পিন-সহায়ক উইকেট তৈরি করে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করত বাংলাদেশ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পেসারদের উন্নতি এবং সাফল্যের পর সেই কৌশল থেকে সরে এসে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে খেলছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
এতে সাফল্যও পেয়েছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে সবশেষ পাঁচ টেস্টে জয় পেয়েছে তারা। এর আগে সিলেটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও দারুণ একটি জয় তুলে নেয় দল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এবার উইকেট কেমন হবে, তা নিয়ে অবশ্য নিশ্চিত করে কিছু বলেননি সিমন্স। সোমবার অনুশীলনের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এখনো উইকেট দেখার সুযোগ হয়নি তাঁর। গত রাতে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন এই কোচ।
সিমন্স বলেন, “এখনও উইকেট দেখিনি। আমি গত রাতে এসেছি। এই সিরিজ থেকে আমার প্রত্যাশা, কঠোর পরিশ্রম। আমি মনে করি, সিরিজটা বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে। ভারতে যাওয়ার আগে তারা (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) ঘরের মাঠে কয়েকটি সিরিজ খেলেছে এবং ভালো পারফরম্যান্সও করেছে। তাই আমার প্রত্যাশা, এবারও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।”
প্রস্তুতির দিক থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজও ভালো অবস্থানে রয়েছে। ভারতের বিপক্ষে সাদা বলের দুই সংস্করণের সিরিজে খেলেছেন টেস্ট দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। এর ফাঁকে বাংলাদেশ সফরের প্রস্তুতি নিতে চেন্নাইয়ে লাল বলের ক্যাম্পও করেছে দলটি।
চেন্নাইয়ের উইকেটের সঙ্গে মিরপুরের উইকেটের কিছুটা মিল থাকায় সেখানে প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সরাসরি উত্তর দেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি। বরং খেলোয়াড়দের প্রস্তুতির সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
স্যামি বলেন, “বোর্ড হিসেবে এই বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছি, যাতে ক্রিকেটাররা প্রস্তুতির সর্বোচ্চ সুযোগ পায়। আমাদের ওয়ানডে দল সেখানে ছিল। আমরা মনে করেছি, চেন্নাইয়ে প্রস্তুতির জন্য দারুণ সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আগেও বলেছি, ভালো প্রস্তুতি নিতে পারলে পারফরম্যান্সের সম্ভাবনা বাড়ে—এটা আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। এই সিরিজের আগে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি দেখে আমার মনে হয়েছে, তারা ভালোভাবেই তৈরি হয়েছে। আশা করি, প্রস্তুতির সেই ছাপ মাঠের পারফরম্যান্সেও দেখা যাবে।”
গত বছর ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সে সময় মিরপুরে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে দুই দলই স্পিননির্ভর বোলিংয়ে জোর দিয়েছিল। ম্যাচটিতে এক ওভারও পেস বোলিং দেখা যায়নি।
এবার টেস্ট সিরিজের আগে মিরপুরের উইকেট দেখে অবশ্য গত বছরের সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন না স্যামি। সংবাদ সম্মেলন শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেন, “না! না! এটি একদমই গত বছরের মতো নয়।”
ক্যারিবীয় কোচের এই মন্তব্যে এবারের উইকেট নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তবে উইকেটের চরিত্র যা-ই হোক, দুই দলের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে সিরিজের লড়াই কতটা জমে ওঠে।