বি-১/বি-২ ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, ব্যবসায়িক বৈঠক কিংবা চিকিৎসার মতো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে যাওয়া যায়। তবে এই ভিসা নিয়ে দেশটিতে গিয়ে চাকরি করা, ডিগ্রি অর্জনের জন্য পড়াশোনা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে থাকা যায় না। এবার ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কোন কোন কাজ করা যাবে না, তা স্পষ্ট করে জানিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।
শনিবার সকালে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বি-১/বি-২ ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিষিদ্ধ কার্যক্রমের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া, মার্কিন নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পারিশ্রমিক নিয়ে কাজ করা এবং ডিগ্রি বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেডিট অর্জনের জন্য পড়াশোনা করা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভিজিটর ভিসা-সংক্রান্ত নির্দেশনাতেও বলা হয়েছে, বি-১/বি-২ ভিসা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে ব্যবসা, পর্যটন বা উভয় উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য। বি-১ সাধারণত ব্যবসায়িক ভ্রমণের ক্ষেত্রে এবং বি-২ পর্যটন, অবকাশযাপন, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা কিংবা চিকিৎসার মতো উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।

#যে কাজগুলো করা যাবে না
- চাকরি বা পারিশ্রমিকের কাজ : বি-১/বি-২ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দেশটির কোনো নিয়োগকর্তার অধীনে চাকরি করা যায় না। মার্কিন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বেতন বা পারিশ্রমিক নিয়ে কাজ করাও অনুমোদিত নয়। ইউএসসিআইএসের নির্দেশনাতেও বলা হয়েছে, বি-১ বা বি-২ শ্রেণির ভিসাধারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ কর্মসংস্থান অনুমোদিত নয়। তবে বি-১ ভিসায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হয়ে নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক কার্যক্রম—যেমন ব্যবসায়িক বৈঠক বা চুক্তি নিয়ে আলোচনা—করা যেতে পারে।
- ডিগ্রির জন্য পড়াশোনা : বি-১/বি-২ ভিসা নিয়ে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমনভাবে পড়াশোনা করা যাবে না, যার মাধ্যমে ডিগ্রি বা প্রাতিষ্ঠানিক একাডেমিক ক্রেডিট অর্জন করা হয়। এ ধরনের শিক্ষার জন্য উপযুক্ত শিক্ষার্থী ভিসা প্রয়োজন। তবে পর্যটনের অংশ হিসেবে স্বল্পমেয়াদি, অবকাশমূলক কোনো কোর্স—যেমন কয়েক দিনের রান্নার কোর্স—করা যেতে পারে, যদি সেটি ডিগ্রি বা একাডেমিক ক্রেডিটের জন্য না হয়।
- বার্থ ট্যুরিজম : সন্তানের জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রধান উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করা ভিজিটর ভিসার অনুমোদিত ব্যবহার নয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর নাগরিকত্ব পাওয়াকে ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে দেখলে তা বি-ভিসার আওতায় অনুমোদিত নয়। ২০২০ সাল থেকেই এ বিষয়ে মার্কিন ভিসা নীতিতে স্পষ্ট বিধান রয়েছে।
- স্থায়ীভাবে বসবাস : বি-১/বি-২ ভিসা অভিবাসী ভিসা নয়। তাই এই ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে যাওয়া যাবে না। ভিজিটর ভিসার মূল শর্তই হলো সাময়িক সফর শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার অভিপ্রায় থাকা।
- পেশাদার বা অর্থের বিনিময়ে অনুষ্ঠান : ভিজিটর ভিসায় অর্থের বিনিময়ে পেশাদার পরিবেশনা বা অর্থপ্রদানকারী দর্শকের সামনে পেশাদার পারফরম্যান্স করাও অনুমোদিত নয়। তবে কোনো পারিশ্রমিক না নিয়ে অপেশাদার হিসেবে নির্দিষ্ট সামাজিক, ক্রীড়া বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
- বিদেশি সংবাদমাধ্যমের হয়ে কাজ : বি-১/বি-২ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিদেশি সংবাদমাধ্যম, রেডিও, চলচ্চিত্র, প্রিন্ট সাংবাদিকতা বা অন্য কোনো তথ্যমাধ্যমের কর্মী হিসেবে কাজ করা অনুমোদিত নয়। এ ধরনের কাজের জন্য আলাদা ভিসা শ্রেণি প্রযোজ্য হতে পারে।
তাহলে বি-১ ভিসায় কী করা যায়?
বি-১ ভিসার আওতায় ব্যবসায়িক সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক, ব্যবসায়িক বা পেশাগত সম্মেলন ও কনভেনশনে অংশগ্রহণ, চুক্তি নিয়ে আলোচনা কিংবা নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক লেনদেনের মতো কর্মকাণ্ড করা যায়। তবে এসব কার্যক্রমকে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি বা স্থানীয়ভাবে আয় করার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা যাবে না।
বি-২ ভিসায় যেসব কাজ বৈধ
পর্যটন, অবকাশযাপন, আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, চিকিৎসা নেওয়া এবং নির্দিষ্ট সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া বি-২ ভিসার আওতায় অনুমোদিত। পারিশ্রমিক না পাওয়া শর্তে অপেশাদারদের কিছু সাংস্কৃতিক বা ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নেওয়াও অনুমোদিত হতে পারে।
ভিসা থাকলেই প্রবেশ নিশ্চিত নয়
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা পাওয়ার পরও দেশটিতে প্রবেশের নিশ্চয়তা থাকে না। ভিসা একজন বিদেশি নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রবেশবন্দরে গিয়ে প্রবেশের অনুমতি চাওয়ার সুযোগ দেয়। চূড়ান্তভাবে তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দেবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেন দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অধীন ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) কর্মকর্তারা।
প্রবেশের সময় ভ্রমণের উদ্দেশ্য, থাকার সময়সীমা এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হতে পারে। ভিসার উদ্দেশ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে ব্যর্থ হলে ভ্রমণকারী বৈধ অবস্থান হারাতে পারেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পর অবস্থান করলে ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে নতুন ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।
ভিসার আবেদনের সময় ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন বা ভুলভাবে উপস্থাপন করে ভিসা নেওয়ার চেষ্টা করলে ভিসা প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও গুরুতর সমস্যা হতে পারে। অর্থাৎ, বি-১/বি-২ ভিসা মূলত **সাময়িক ব্যবসা, পর্যটন ও নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের অনুমতি**। এই ভিসাকে চাকরি, পূর্ণকালীন পড়াশোনা, স্থায়ী বসবাস কিংবা সন্তানের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ নেই।