এশিয়া কাপে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারেনি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ব্যাটিং ব্যর্থতা, ম্যাচে ধারাবাহিকতার অভাব এবং অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির ব্যক্তিগত ফর্ম নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। সব মিলিয়ে আসন্ন এশিয়ান গেমসের পর নারী ক্রিকেটে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে অধিনায়ক জ্যোতির নেতৃত্বও।
বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, এশিয়া কাপের পারফরম্যান্সসহ দলের সামগ্রিক পরিস্থিতি তাঁরা পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে এ মুহূর্তে অধিনায়কত্ব নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ এশিয়ান গেমসের দল অনেক আগেই ঘোষণা করা হয়েছে এবং জ্যোতিকেই অধিনায়ক হিসেবে রাখা হয়েছে।
রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, “আমরা এটি পর্যবেক্ষণ করছি। কারণ সদ্যই এশিয়া কাপ শেষ হলো। সেখান থেকে ওরা সরাসরি এশিয়ান গেমসে খেলতে যাবে। আমি এখন এমন কথা বলতে চাচ্ছি না। যেহেতু দল আগেই নির্বাচিত হয়েছে, অধিনায়কও নির্ধারিত। আরও দেড়-দুই মাস আগে দল পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
এশিয়ান গেমসেই এখন নজর
এশিয়া কাপের হতাশা কাটিয়ে আপাতত এশিয়ান গেমসের দিকে তাকিয়ে বিসিবি। রফিকুল বাবুর ভাষ্য, বর্তমান দলকেই সেখানে খেলতে হবে। এশিয়া কাপে যে ভুলগুলো হয়েছে, সেগুলো শুধরে ভালো ফল করার প্রত্যাশা করছে বোর্ড। তিনি বলেন, “এখন এই দলটাই খেলতে হবে। আমরা আশা করছি ওখানে গিয়ে তারা ভালো খেলবে। যে সমস্ত ভুলগুলো করেছে সেগুলো শুধরে দেশের সুনাম বয়ে আনবে। এই মুহূর্তে যেগুলো শোনা যাচ্ছে, সেগুলো আমরাও শুনেছি, পর্যবেক্ষণ করছি। তবে টুর্নামেন্টের পর ইনশাআল্লাহ আমরা এগুলো নিয়ে আলোচনা করব।” অর্থাৎ এশিয়ান গেমসকে শুধু আরেকটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছে না বিসিবি। সেখানে দলের পারফরম্যান্স এবং খেলোয়াড়দের ভূমিকা পরবর্তী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
জ্যোতির ভবিষ্যৎও পারফরম্যান্সনির্ভর
বাংলাদেশ নারী দলের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্স নিয়েও অসন্তুষ্টি রয়েছে বিসিবির। বিশেষ করে বড় দলগুলোর বিপক্ষে সাফল্যের ঘাটতি এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ছোটখাটো ভুলের কারণে জয় হাতছাড়া হওয়ার বিষয়টি বোর্ডের আলোচনায় রয়েছে। রফিকুল বাবু বলেন, এশিয়ান গেমসে দলের পারফরম্যান্স এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, এশিয়ান গেমসে ভালো করলে এক ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে, আর প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল না এলে বোর্ডকে অন্যভাবে ভাবতে হবে। তিনি বলেন, “আমাদের বোর্ড সভাপতির সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। আপনারা জানেন, এশিয়ান গেমসের নাম অনেক আগেই দিতে হয়। আমরা যদি দেখি ওখানে ভালো পারফর্ম করে, সবকিছুই ঠিকঠাক থাকে, তাহলে একরকম। আর আমাদের কাছে যে অভিযোগগুলো এসেছে, সেগুলো ইনশাআল্লাহ আমরা খতিয়ে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
সামনে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড সফর
এশিয়ান গেমসের পর বাংলাদেশের নারী দলের সামনে রয়েছে আরও কঠিন আন্তর্জাতিক সূচি। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরকে সামনে রেখে দল পুনর্গঠন, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স এবং নেতৃত্ব নিয়ে বিসিবিকে একাধিক সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। রফিকুল বাবু বলেন, “যেহেতু ইতোমধ্যে দল ঘোষণা করা হয়েছে, দেখি এশিয়ান গেমসে তারা কেমন খেলে। আমরা আশা করছি ভালো খেলবে। তারপরে আমরা সিদ্ধান্ত নেব আসলে কী করা যায়। তারপর আমাদের অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফর আছে, অনেক কিছুই করার আছে আমাদের।”
ব্যাটিং নিয়ে বড় উদ্বেগ
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ নারী দলের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে উঠেছে ব্যাটিং। দলীয় সংগ্রহে ধারাবাহিকতা না থাকা এবং চাপের সময়ে উইকেট হারানোর প্রবণতা বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্যোতির নিজের ব্যাটিং ফর্মের অবনতিও।বিসিবি অবশ্য শুধু অধিনায়ক পরিবর্তনকে সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখছে না। বরং পুরো দলকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নারী বিভাগের চেয়ারম্যান।
রফিকুল বাবু বলেন, “আমাদের অনেক সমস্যা আছে। আমরা বড় বড় দেশগুলোকে তো পরাজিত করতে পারিনি। বিশ্বকাপেও কিন্তু আমরা অনেক ভালো খেলেছি, তারপরও সামান্য ভুলের জন্য পরাজিত হতে হয়েছে। সে জিনিসগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি, কীভাবে দলটাকে আরও সুন্দর এবং শক্তিশালী করা যায়।” ফলে আপাতত নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বে এশিয়ান গেমস খেলবে বাংলাদেশ। তবে সেখানে দলের ফল ও পারফরম্যান্সের ওপরই যে অধিনায়কসহ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ অনেকটা নির্ভর করছে, বিসিবির বক্তব্যে তারই ইঙ্গিত মিলেছে। এশিয়ান গেমস শেষ হওয়ার পর নারী ক্রিকেটে পরিবর্তনের যে আলোচনা চলছে, তখন জ্যোতির অধিনায়কত্বও নতুন করে বিবেচনায় আসতে পারে।