মহালয়ার মধ্য দিয়ে শনিবার শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের ক্ষণ গণনা। পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে শুরু হবে দেবীপক্ষ। চণ্ডীপাঠ, মঙ্গলঘট স্থাপন, ঢাক-কাঁসা ও শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আহ্বান জানাবেন ভক্তরা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মন্দিরে এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শনিবার ভোর ৬টায় মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠান শুরু হবে। সকাল সাড়ে ৭টায় প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় তিল-তর্পণ এবং সকাল ৯টায় মহালয়ার ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
মহালয়া পিতৃপক্ষের শেষ দিন। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ দিন প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় তর্পণ করা হয়। পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে অন্ন-জল নিবেদনের এ আচারকে বলা হয় তর্পণ। একই সঙ্গে দেবীপক্ষের সূচনা হওয়ায় দিনটি দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও অপেক্ষার প্রতীক হিসেবেও তাৎপর্যপূর্ণ।
ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা চলে। এবার ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল দুর্গোৎসব। পঞ্জিকাভেদে সপ্তমী তিথির তারিখে পার্থক্য রয়েছে। কোনো পঞ্জিকায় সপ্তমী ১৭ ও ১৮ অক্টোবর দুই দিন পড়েছে, আবার কোনো পঞ্জিকায় ১৮ অক্টোবর সপ্তমী নির্ধারিত হয়েছে। এরপর ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ জানিয়েছেন, মহালয়া উদযাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি।
হিন্দু শাস্ত্র ও প্রচলিত পঞ্জিকা অনুসারে, দেবী দুর্গার আগমন ও গমনের বাহন নির্ধারণ করা হয় সপ্তমী ও দশমীর তিথি এবং বার অনুযায়ী। ধর্মীয় বিশ্বাসে দেবীর বাহনের সঙ্গে বছরের সামাজিক ও প্রাকৃতিক পরিস্থিতির প্রতীকী ব্যাখ্যা যুক্ত রয়েছে। এবার প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী দেবীর আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায় হবে বলে জানানো হয়েছে। শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় ঘোড়ায় আগমনকে অস্থিরতার প্রতীক এবং নৌকায় গমনকে শস্য ও জলসম্পদের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচনা করা হয়। এসব ব্যাখ্যা ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের অংশ; এগুলোকে ভবিষ্যৎ সামাজিক বা প্রাকৃতিক ঘটনার বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস হিসেবে দেখার ভিত্তি নেই।
দুর্গাপূজা ঘিরে এবার ছুটির পরিসরও বেড়েছে। সরকারের নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিনে উন্নীত করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবারের সঙ্গে এ ছুটি যুক্ত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি মিলবে। পূজার আয়োজক ও ভক্তদের প্রত্যাশা, বাড়তি ছুটিতে মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে উৎসব উদযাপন এবং পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।
মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অপেক্ষার পর ষষ্ঠীর দিন দেবী দুর্গার পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর কয়েক দিনের পূজা, অঞ্জলি, আরতি ও সাংস্কৃতিক আয়োজন শেষে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ বছরের শারদীয় দুর্গোৎসব।