জাতীয়

হাম-ডেঙ্গুর সঙ্গে মৌসুমি ফ্লু, হাসপাতালে হিমশিম

আজাদ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৯
ছবি : বিডিনিউজ ছবি:
ছবি : বিডিনিউজ
  • সেপ্টেম্বরে হাম ও ডেঙ্গুতে ১৮৩ মৃত্যু; আইসিইউ-শয্যার জন্য হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটছেন রোগীর স্বজনেরা

দেশে একই সময়ে বাড়ছে হাম, ডেঙ্গু ও মৌসুমি জ্বর-সর্দি-কাশির রোগী। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। শিশুদের মধ্যে হাম ও নিউমোনিয়ার জটিলতা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ায় রাজধানীর কয়েকটি বড় হাসপাতালে শয্যা ও আইসিইউ সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও সাধারণ ওয়ার্ডের বারান্দায়ও রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

সোমবার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। রোগীর স্বজনদের অনেকে জানিয়েছেন, জ্বরের কারণ নিশ্চিত করতে দেরি হওয়া এবং এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘোরার কারণে চিকিৎসা শুরু করতেও সময় লাগছে।

কুষ্টিয়ার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম তাঁর দেড় বছরের মেয়ে রোজা ইসলামকে নিয়ে কয়েক দিন ধরে ঢাকায় হাসপাতাল ঘুরছেন। জ্বর ও নিউমোনিয়াসহ একাধিক সংক্রমণে আক্রান্ত শিশুটির আইসিইউ প্রয়োজন হলেও শয্যা মিলছে না। স্থানীয়ভাবে প্রথমে রোজাকে হাম হয়েছে বলা হলেও ঢাকার চিকিৎসকেরা হাম শনাক্ত করেননি; বরং নিউমোনিয়াসহ একাধিক সংক্রমণের কথা জানিয়েছেন।

সিরাজুল ইসলামের ভাষ্য, চার দিন ধরে কয়েকটি হাসপাতালে ঘুরেও আইসিইউ শয্যা পাননি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালেও এসে শয্যা না পাওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন তিনি।

এমন পরিস্থিতি শুধু একটি পরিবারের নয়। শিশু হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা বশির উদ্দিন জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে রোগীর চাপ বেশি। প্রতিদিন যতগুলো আইসিইউ শয্যা খালি হচ্ছে, তার দ্বিগুণের বেশি চাহিদা থাকছে।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন ধরনের আইসিইউ মিলিয়ে ৬৮টি শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে এনআইসিইউ ও পিআইসিইউ ১৬টি করে, আরআইসিইউ ১১টি এবং এসআইসিইউ ৮টি।

চিকিৎসকেরা বলছেন, এ বছর এই সময়ে জ্বর, সর্দি-কাশির রোগী গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো মৌসুমি ফ্লু হলেও হাম ও ডেঙ্গুর সঙ্গে উপসর্গের মিল থাকায় রোগ নির্ণয় জটিল হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে জ্বর—তিন ধরনের রোগেরই সাধারণ উপসর্গ হওয়ায় রোগীরা শুরুতে বুঝতে পারছেন না কোন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. নন্দিতা পাল বলেন, বর্তমানে প্রচুর মানুষ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বর হলে তিন দিনের মধ্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, ডেঙ্গু শনাক্ত না করে জ্বর কমে গেলেই অনেক রোগী ধরে নেন যে বিপদ কেটে গেছে। কিন্তু জ্বর কমার পরও ডেঙ্গুতে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তরল গ্রহণ জরুরি। বিশেষ করে নিজের সিদ্ধান্তে স্যালাইন নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন এই চিকিৎসক। রোগীর অবস্থার ওপর নির্ভর করে শরীরে তরলের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্যালাইন দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় বহির্বিভাগে ১ হাজার ২৪৬ জন রোগী এসেছে। এর মধ্যে সাধারণ ঠান্ডা নিয়ে ২৮৯ জন, ডেঙ্গু নিয়ে ৩৭ জন, নিউমোনিয়ায় ৩৯ জন, ডায়রিয়ায় ৫১ জন এবং অ্যাজমায় ১৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। চলতি বছর এ পর্যন্ত এই হাসপাতালে ৩ হাজার ৬৩৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৮ জনসহ বর্তমানে ২৪২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন, যা হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি।

হামের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। চলতি বছর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৩ হাজার ২০৫ জন হাম রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন ভর্তি হওয়ায় বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬৩। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালেও হাম ও ডেঙ্গু রোগীর চাপ রয়েছে। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, একই সময়ে হাম ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত শিশুদের জটিলতা সামলানো সবচেয়ে কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

হাসপাতালটির পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, হামের পরিস্থিতি হয়তো কিছুদিনের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে; কিন্তু ডেঙ্গু নিয়ে এবার বেশি উদ্বেগ রয়েছে। একই রোগীর হাম থেকে সেরে ওঠার পর ডেঙ্গু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

শুধু রোগীর সংখ্যা নয়, হাসপাতালেই সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় একই জায়গায় আক্রান্ত ও অনাক্রান্ত রোগীর অবস্থান ঝুঁকি বাড়াতে পারে। চট্টগ্রামে পরিচালিত একটি গবেষণায় হামে আক্রান্ত শিশুদের ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ কোনো না কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা হাসপাতাল থেকে সংক্রমিত হয়েছে বলে উঠে এসেছে। গবেষকেরা বছরজুড়ে টিকাদান এবং হাম আক্রান্ত রোগীদের আইসোলেশন কঠোরভাবে অনুসরণের সুপারিশ করেছেন।

দেশব্যাপী রোগের চাপের চিত্রও উদ্বেগের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত হামে ১ হাজার ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় প্রতি মাসেই হামজনিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে রোগী ভর্তির সংখ্যাও আবার বেড়েছে।

ডেঙ্গুর পরিস্থিতি আরও দ্রুত অবনতির দিকে গেছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরেই মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী। আগস্টে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫৩৬, আর সেপ্টেম্বরের ২১ দিনেই তা বেড়ে হয়েছে ২৭ হাজার ৭৮১। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরেই ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার চলতি বছরের অন্য যেকোনো মাসের তুলনায় বেশি। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২১ দিনে হাম ও ডেঙ্গু মিলিয়ে ১৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে—গড়ে প্রতিদিন আটজনের বেশি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাকের মতে, পরিস্থিতির মূল দুর্বলতা শুধু হাসপাতালের শয্যা বা আইসিইউ সংকট নয়; প্রাথমিক পর্যায়ে রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতার ঘাটতিও বড় সমস্যা। তিনি বলেন, রোগীকে শুরুতেই সঠিকভাবে শনাক্ত করা না গেলে শেষ পর্যন্ত রাজধানীর তৃতীয় পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়বে। শুধু ঢাকায় আরও শয্যা বা আইসিইউ বাড়িয়ে এভাবে মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব নয়। স্থানীয় পর্যায়ে রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও পরামর্শের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ অবস্থায় সরকারের টিকাদান কর্মসূচিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী টিকাবঞ্চিত বা বাদ পড়া শিশুদের বিশেষ এমআর ক্যাচ-আপ কর্মসূচির আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু চিকিৎসায় উপজেলা পর্যায়েও সেবা দেওয়ার সক্ষমতা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, রোগী যখন গুরুতর অবস্থায় রাজধানীর বড় হাসপাতালে পৌঁছান, তখন চিকিৎসকের সামনে শুধু একটি রোগ নয়—একসঙ্গে শয্যা সংকট, সংক্রমণের ঝুঁকি, আইসিইউর সীমাবদ্ধতা এবং বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ থাকে।

এ কারণে বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলাকে শুধু হাসপাতালকেন্দ্রিক করে দেখলে চলবে না। টিকাদান, মশা নিয়ন্ত্রণ, প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষা, কমিউনিটি পর্যায়ে চিকিৎসা, রোগী আলাদা রাখা এবং দ্রুত রেফারেল—সবগুলো ব্যবস্থা একসঙ্গে কার্যকর করতে হবে। তা না হলে মৌসুমি ফ্লুর সঙ্গে হাম ও ডেঙ্গুর এই একযোগে চাপ হাসপাতালব্যবস্থার ওপর আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।

বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব

একাদশে ভর্তিতে দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের সুযোগ

ইমরান খানের তিন বোন ৩০ দিনের জন্য আটক, পাকিস্তানে উত্তেজনা

শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ বাবার; এমপির দাবি, ‘অভিযোগ মিথ্যা, মরিয়াম আত্মহত্যা করেছে’

বিশ্বমঞ্চে প্রথম ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী, শুরু ঐতিহাসিক সফর

মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, এশিয়ান গেমস থেকে বাংলাদেশের বিদায়

ভারতে এআই চশমার চাহিদা বাড়ছে, গোপনীয়তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

হাম-ডেঙ্গুর সঙ্গে মৌসুমি ফ্লু, হাসপাতালে হিমশিম

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের তিন প্রস্তাব, বাস্তবায়নে বড় বাধা

১০

তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়ে গেছে জনজীবনে

১১

রংপুরে ভাড়ারদহ বিলের মৎস্য অভয়াশ্রম কচুরিপানায় ভরপুর

১২

সুন্দরগঞ্জে শিয়ালের কামড়ে আহতদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান

১৩

গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত স্পিকার ও ইসির: শিশির মনির

১৪

কুমিল্লায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ আ. লীগের ১৩ নেতাকর্মী আটক

১৫

‘গাজী নজরুল জামায়াতের কেউ নন, স্ত্রীর মৃত্যুর তদন্তের দায়িত্ব সরকারের’

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

১৫

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

সম্পর্কিত