জনগণের ন্যায্য দাবি নিয়ে মাঠে নামলেও সরকার ক্রমাগত বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। দলটির নেতারা বলেছেন, গ্যাস, সার ও বিদ্যুতের সংকটে মানুষ ভোগান্তিতে থাকলেও সরকার তা সমাধানের বদলে দলীয়করণে ব্যস্ত।
শনিবার অনুষ্ঠেয় ১১ দলীয় জোটের ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ’ সামনে রেখে শুক্রবার বিকেলে নগরের চকবাজারে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মহানগর কমিটির সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, দেশে গ্যাস, সার ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটে জনগণের চরম ভোগান্তি চলছে। কিন্তু সরকার সেদিকে ভ্রূক্ষেপ না করে দলীয়করণে ব্যস্ত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই সরকারকে মোকাবিলা করব এবং জনগণের সুবিধা-অসুবিধা বুঝতে বাধ্য করব।’
শনিবার সকাল ৭টা থেকে লংমার্চ শুরু হবে জানিয়ে আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, কর্মসূচি ঘিরে তাঁদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। পুরো লংমার্চের পথ জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
এনসিপির এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, লংমার্চে অংশ নিতে আসা দলটির নেতাদের জন্য চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নির্ধারিত ভিআইপি কক্ষ বুকিং দেওয়া হলেও পরে সেখানে তাঁদের থাকতে দেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, দুটি কক্ষ দুই মন্ত্রীর নামে বুকিং দেখানো হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়নি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান এনসিপির নেতারা।
শনিবার সকালে ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম থেকে লংমার্চ শুরু হবে। কর্মসূচির সমাপনী হিসেবে বিকেল সোয়া পাঁচটায় নগরের লালদিঘী মাঠে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেবেন বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজাউদ্দিন বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের গুরুত্ব অপরিসীম। এখানকার মানুষের ন্যায্য নাগরিক হিস্যা ও অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নাগরিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিরোধী দল হিসেবে আমাদের করণীয় নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে সংগ্রাম করা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামের এই সমাবেশে কথা বলবেন।’
এস এম সুজাউদ্দিন বলেন, লালদিঘী মাঠে বড় জমায়েতের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামসহ দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক জনসংযোগ তৈরি হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নেতারা বলেন, লংমার্চের মাধ্যমে তাঁরা সরকারের কাছে জনগণের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরতে চান। বিশেষ করে নাগরিক অধিকার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের বিষয়গুলো কর্মসূচিতে গুরুত্ব পাবে।
চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইবের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন ওপেল, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ ইকবাল চৌধুরী ও টিপু সুলতান।