জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে শুধু সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ বা রাজনৈতিক হিস্যা দাবি না করে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন করতে হবে এবং সেই প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলেরও অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সংসদের ভেতরে আলোচনা ও বিতর্কের মধ্য দিয়েই সংস্কার কার্যকর করতে হবে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে বিরোধী দল থেকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করার কোনো নজির নেই—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য পুরোপুরি সঠিক নয়। নবম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের দুজন সদস্যকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। ড. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার ও প্রধানমন্ত্রী জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিরোধী দলও সনদের বাস্তবায়ন চায়। কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে, সেটি নিয়ে তাদের আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নবম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের দুজন সদস্যকে স্থায়ী কমিটির সভাপতি করার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করছেন না। বরং বর্তমান সরকারও অতীতের একটি নজির অনুসরণ করে বিরোধীদলীয় উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি করেছে।
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সরকারের প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার। তবে এটি বাস্তবায়নে বিরোধী দলকেও এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হবে এবং এর জন্য সংবিধান সংশোধন করা হবে। এ কাজে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে বিরোধী দলের সদস্যরা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যথাশীঘ্রই সম্ভব সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে আনা হবে। এর মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও কার্যকর করা হবে।
বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, শুধু জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী ‘হিস্যা’ দাবি করলে হবে না, সহযোগিতার জন্যও এগিয়ে আসতে হবে। একসঙ্গে বসে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, বিরোধী দল সংস্কারের কথা বলছে আর সরকার সংশোধনীর কথা বলছে—মূলত আলোচনাটি একই বিষয়কে ঘিরে। তবে এই কাজ সংসদের ভেতরেই করতে হবে। সংসদের বাইরে রাজনৈতিক বক্তব্য যা-ই দেওয়া হোক না কেন, জাতীয় সংসদে সবাইকে একসঙ্গে বসে আলোচনা ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য সাংবিধানিক পরিবর্তনের পথেই এগোতে চায়। আর সেই প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।
অন্যদিকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংসদীয় কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব ও সনদ বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতির বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। ফলে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি, সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের ভূমিকা এবং সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে সংসদের ভেতরে আগামী দিনগুলোতে আরও আলোচনা ও বিতর্ক হতে পারে।