বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর। ওই দিন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মনোনয়ন বোর্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করে প্রার্থী চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সন্ধ্যা ৭টায় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শুরু হয়। দলের স্থায়ী কমিটিতে নতুন চার সদস্য মনোনীত হওয়ার পর এটিই ছিল কমিটির প্রথম বৈঠক। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে রুহুল কবির রিজভী বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শূন্য আসনের উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার জন্য আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় স্থায়ী কমিটিই এ মনোনয়ন বোর্ডের দায়িত্ব পালন করবে। তিনি জানান, উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র পূরণ করে জমা দিতে হবে। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২৯ অক্টোবর উপনির্বাচন
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া আসনে আগামী ২৯ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির পক্ষ থেকে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করা হয়েছে। দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়ের পর প্রার্থীদের বিষয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে ১৮ সেপ্টেম্বরের সভার পরই ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে।
শূন্য পদে পরবর্তী সারির নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত
এদিকে বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক কমিটিতে শূন্য হওয়া পদগুলো পূরণের বিষয়েও স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। মৃত্যু, বহিষ্কারসহ বিভিন্ন কারণে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিতে যেসব পদ শূন্য হয়েছে, সেসব পদে সংশ্লিষ্ট কমিটির পরবর্তী সারির নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের বিভিন্ন কমিটির অনেক নেতা মারা গেছেন। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন কারণে এখন দলের সঙ্গে নেই বা বহিষ্কৃত হয়েছেন। ফলে বিভিন্ন কমিটিতে কিছু পদ শূন্য হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কমিটিতে যাঁরা শূন্য পদে থাকা নেতাদের ঠিক নিচের সারিতে রয়েছেন, তাঁদের কাউকে দায়িত্ব দেওয়া যায় কি না, তা দলের গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও বিভিন্ন পদ শূন্য হওয়ার কথা জানিয়ে রিজভী বলেন, এসব শূন্য পদ পূরণসহ দলের সাংগঠনিক বিষয়গুলো নিয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
সাংগঠনিক বিষয়েও আলোচনা
স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপনির্বাচনের প্রার্থী বাছাই এবং সাংগঠনিক কমিটির শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান রিজভী। তিনি বলেন, দলের সাংগঠনিক কাঠামোর বিভিন্ন পর্যায়ে শূন্য পদ পূরণ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংগঠনিক পরিস্থিতি এবং অন্যান্য বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে বৈঠকের আলোচনার বিস্তারিত লিখিতভাবে জানানো হবে।
নতুন চার সদস্য স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর প্রথম বৈঠক হওয়ায় সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস ও শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়। দলীয় গঠনতন্ত্রের বিধান অনুসরণ করে এসব পদে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
এদিকে মির্জা ফখরুলের শূন্য আসনের উপনির্বাচন ঘিরে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৎপরতাও বাড়বে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কার হাতে দলীয় মনোনয়ন তুলে দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বরের মনোনয়ন বোর্ডের সভা পর্যন্ত।