কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা বিচ পয়েন্টের বালিয়াড়ির ওপর রাস্তা নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। এই অপরিকল্পিত কার্যক্রম বন্ধ এবং বালিয়াড়ি সুরক্ষার দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
রোববার, ২৩-আগস্ট, বেলা ১২টায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন - বাপা কক্সবাজার জেলা কমিটির এক প্রতিনিধিদল কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো আবদুল মান্নানের মধ্যেমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে প্রদান করেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা কক্সবাজার জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত
সভাপতি জাফর আলম দিদার, সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম এর নেতৃত্বে স্মারকলিপি প্রদানকারী বাপার নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন
সহসভাপতি এডভোকেট আবদুর শুক্কর, কল্লোল দে চৌধুরী, মমতাজ সাফিনা আজিম, মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ মেক্স এনামুল হক চৌধুরী, জাহাঙ্গীর আলম সামস্, সাংবাদিক আয়াজ রবি, রুহুল কাদের শিলু, এডভোকেট রুবেল ও সাইফুল ইসলাম।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সমুদ্রের বালিয়াড়ি কেবল সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অংশই নয়, এটি ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও শক্তিশালী ঢেউয়ের বিরুদ্ধে উপকূলের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। একই সঙ্গে বালিয়াড়ি সামুদ্রিক কচ্ছপসহ বিভিন্ন জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। বালিয়াড়ি কেটে রাস্তা বা যেকোনো ধরনের স্থায়ী-অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে উপকূলীয় ভাঙন তীব্র করবে এবং জীববৈচিত্র্য ও পর্যটন পরিবেশকে চরম ঝুঁকিতে ফেলবে।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, হাইকোর্টে দায়ের করা জনস্বার্থমূলক মামলার (নং ২২৬/২০১১) রায় ও নির্দেশনার আলোকে সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত ও সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। এর আগে গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে বালিয়াড়িতে থাকা অবৈধ দোকান, ভাসমান স্থাপনা এবং বিভিন্ন অস্থায়ী লাইসেন্স বাতিলসহ এলাকাটি দখলমুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনার বাস্তবায়ন আরও দ্রুত করার দাবি জানান তারা।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক করিমুল্লা কলিম সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসেন। একই সাথে ক্ষমতাসীন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে অগ্রাধিকার দিয়ে নদী, খাল, জলাশয় প্রাণ প্রকৃতি রক্ষার যে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার জন্য বাংলাদেশের অন্যতম পরিবেশ সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা শাখার পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটন ঐতিহ্য। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত উন্নয়ন, অবৈধ দখল, স্থাপনা নির্মাণ এবং বালিয়াড়ি ধ্বংসের কারণে এর প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সমুদ্র বালিয়াড়ির সকল স্থাপনা বন্ধ ও রাস্তা নির্মাণ বন্ধ করে প্রাণ-প্রতিবেশ পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি জানাই।
শু/আজা