নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের টয়লেটের নাজুক অবস্থা, চিকিৎসক সংকটসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সরেজমিনে দেখেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। টয়লেটের দুরবস্থা দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
২৩ জুন (রবিবার) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আকস্মিক এ পরিদর্শনে প্রথমেই হাসপাতালের টয়লেটগুলো ঘুরে দেখেন তিনি। টয়লেটের অপরিচ্ছন্ন ও নাজুক অবস্থা দেখে সংশ্লিষ্টদের কাছে এর কারণ জানতে চান। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
পরে মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসাসেবা, ওষুধসহ নানা বিষয়ে খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে জরুরি বিভাগ, ফার্মেসি ও রান্নাঘর পরিদর্শন করেন। রান্নাঘরে রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা খাবারের মানও পরীক্ষা করেন। খাবারের মান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় তাঁকে।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের জনবল সংকটের বিষয়টিও মন্ত্রীর নজরে আনা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৪০টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৩ জন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকট থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, এ কার্যক্রম শুরু হলে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম, বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান সনি, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জাকির হোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের পর হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো ও টয়লেটের নাজুক পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শু/আজা